১৩/৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২৩০-[২] - সাওদাহর পালা আয়িশাকে দেওয়ার ঘটনা
ভাগ-বণ্টন (সহধর্মিণীদের মধ্যে পালা নিরূপণ প্রসঙ্গে) - প্রথম অনুচ্ছেদ
الْقَسْمِশব্দটির ‘কফ’ বর্ণে যবর এবং ‘সীন’ বর্ণে সাকীন যোগে মাসদার বা শব্দমূল হিসেবে পঠিত হয়। অর্থ ভাগ-বণ্টনে করা শরীক বা অংশীদারদের মাঝে প্রাপ্য অংশ বণ্টন করে দেয়া। অনুরূপ স্ত্রীদের মাঝে পালি বণ্টন করা, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো স্ত্রীদের নিকট (পালাক্রমিক) রাত যাপন করা। ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো স্ত্রীর মাঝে সমতা বিধান করা, একেই নামকরণ করা হয়েছে ‘স্ত্রীদের মাঝে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা’। এই ন্যায়বিচার আবশ্যক হওয়ার বিষয়টি রাতের পালার ক্ষেত্রেই বিশেষভাবে প্রযোজ্য। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
সাওদাহর পালা আয়িশাকে দেওয়ার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩২৩০-[২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩২৩০-[২]
وَعَنْ عَائِشَةَ أَنَّ سَوْدَةَ لَمَّا كَبِرَتْ قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ جَعَلْتُ يَوْمِي مِنْكَ لِعَائِشَةَ فَكَانَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَسَّمُ لِعَائِشَةَ يَوْمَيْنِ يَوْمَهَا وَيَوْم سَوْدَة
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহধর্মিণী সাওদাহ্ (রাঃ) বার্ধক্যে উপনীত হওয়ায় বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট আমার প্রাপ্যের দিন (রাত্রি যাপন) আমি আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে দিলাম। অতঃপর তিনি (ﷺ) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর জন্য দুদিন নির্ধারণ করেন, একদিন তাঁর নিজের আর একদিন সাওদার।
[১] সহীহ : বুখারী ৫২১২, মুসলিম ১৪৬৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২৩০-[২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ‘আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে সাওদাহ (রাঃ) বার্ধক্যে পৌঁছে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে বললেন, তাঁর প্রাপ্য দিনটি তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে দিয়ে দিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর জন্য দুই দিন নির্ধারণ করতেন—একদিন তাঁর নিজের পালা, আরেকদিন সাওদাহ (রাঃ)-এর দেওয়া পালা। এই বর্ণনা স্ত্রীদের পালা বণ্টনের ক্ষেত্রে সম্মতি, অধিকার এবং ছাড় দেওয়ার বিষয়টি দেখায়। এখানে কাউকে জোর করার কথা নেই; বরং সাওদাহ (রাঃ) নিজেই তাঁর দিন দান করেছেন। তাই পরিবার জীবনে অধিকার যেমন আছে, তেমনি পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মতির জায়গাও আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্ত্রীর পালা একটি স্বীকৃত অধিকার হিসেবে বিবেচিত।
- নিজের অধিকার অন্য স্ত্রীকে দেওয়া সম্মতির ভিত্তিতে হতে পারে।
- পরিবারে ন্যায়বিচারের পাশাপাশি পারস্পরিক বোঝাপড়া দরকার।
- পালা বণ্টনের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নির্ধারিত নিয়ম মানতেন।
