১৩/৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২৩১-[৩] - অসুস্থতায় স্ত্রীদের অনুমতি ও আয়িশার ঘর
ভাগ-বণ্টন (সহধর্মিণীদের মধ্যে পালা নিরূপণ প্রসঙ্গে) - প্রথম অনুচ্ছেদ
الْقَسْمِশব্দটির ‘কফ’ বর্ণে যবর এবং ‘সীন’ বর্ণে সাকীন যোগে মাসদার বা শব্দমূল হিসেবে পঠিত হয়। অর্থ ভাগ-বণ্টনে করা শরীক বা অংশীদারদের মাঝে প্রাপ্য অংশ বণ্টন করে দেয়া। অনুরূপ স্ত্রীদের মাঝে পালি বণ্টন করা, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো স্ত্রীদের নিকট (পালাক্রমিক) রাত যাপন করা। ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেন, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো স্ত্রীর মাঝে সমতা বিধান করা, একেই নামকরণ করা হয়েছে ‘স্ত্রীদের মাঝে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা’। এই ন্যায়বিচার আবশ্যক হওয়ার বিষয়টি রাতের পালার ক্ষেত্রেই বিশেষভাবে প্রযোজ্য। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
অসুস্থতায় স্ত্রীদের অনুমতির সুন্দর শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩২৩১-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩২৩১-[৩]
وَعَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَسْأَلُ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ: «أَيْنَ أَنَا غَدًا؟» يُرِيدُ يَوْمَ عَائِشَةَ فَأَذِنَ لَهُ أَزْوَاجُهُ يَكُونُ حَيْثُ شَاءَ فَكَانَ فِي بَيْتِ عَائِشَةَ حَتَّى مَاتَ عِنْدَهَا. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রাণ ওষ্ঠাগতপ্রায় (মৃত্যু হবে এমন) অবস্থায় জিজ্ঞেস করছিলেন, আগামীকাল আমি কোথায় (থাকব)? আগামীকাল কার ঘরে (থাকব)? তিনি (‘আয়িশাহ্ (রাঃ):) বলেন, এই (পুনঃপুনঃ) বলার উদ্দেশ্য হলো, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর পালা কবে আসবে? এমতাবস্থায় সকল স্ত্রী তাঁকে তাঁর সদিচ্ছায় থাকার অনুমতি দিতেন। অতঃপর তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর ঘরেই অবস্থান করেন এবং তাঁর কাছে থেকেই ইন্তেকাল করেন।
[১] সহীহ : বুখারী ৫২১৭, মুসলিম ২৪৪৩, ইরওয়া ২০২১।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩২৩১-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ‘আয়িশাহ (রাঃ) জানান, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মৃত্যুর অসুস্থতার সময় বারবার জিজ্ঞেস করছিলেন, আগামীকাল আমি কোথায় থাকব? এর দ্বারা তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর পালার দিন কবে আসবে, তা বুঝাচ্ছিলেন। তখন তাঁর সব স্ত্রী তাঁকে নিজের ইচ্ছামতো যেখানে চান থাকার অনুমতি দেন। এরপর তিনি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর ঘরে অবস্থান করেন এবং তাঁর কাছেই ইন্তিকাল করেন। এই হাদিসে স্ত্রীদের পালা, অনুমতি এবং পারিবারিক সম্মতির সুন্দর ছবি দেখা যায়। নবীজি অসুস্থ ছিলেন, তবুও স্ত্রীদের অধিকারের বিষয়টি একেবারে বাদ দেননি। তাঁদের অনুমতির পরই তিনি নির্দিষ্ট ঘরে থাকেন। এতে পারিবারিক অধিকার ও পারস্পরিক সম্মানের শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্ত্রীদের অধিকারকে সম্মান করা পরিবার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- অসুস্থতার সময়ও অনুমতি ও সম্মতির বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
- পরিবারে পারস্পরিক ছাড় ও সহমর্মিতা সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করে।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর জীবনে ন্যায় ও আদবের বাস্তব উদাহরণ আছে।
