১৪/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৩৮৩-[২] - সেরা আমল ও ক্ষতি থেকে বিরত থাকা

গোলাম মুক্তিকরণ - প্রথম অনুচ্ছেদ

মিরকাতুল মাফাতীহে বর্ণিত, মরোক্কার পরিভাষায়الْعِتْقِশব্দটি ব্যবহৃত দাসত্ব হতে বের হয়ে আসা। যেমন বলা হয়أُعْتِقَ الْعَبْدُ عِتْقًاদাস স্বাধীন হয়েছে।الْعِتْقِবাالعتاقএ শব্দদ্বয়ের আভিধানিক অর্থ হলো শক্তি বা প্রাবল্য। এ কারণে খানায়ে কা‘বাকে বলা হয় ’‘বায়তুল আতীক’’। কেননা তা নিজস্ব শক্তির বদৌলতে তার অনিষ্টকারী কিংবা ধ্বংসকারীকে প্রতিহত করে দেয়। তথা সমকালীন অনিষ্ট কোনো বাদশার ধ্বংস হতে (যেমন আবরাহা বাদশার অনিষ্ট হতে প্রতিহত করেছে)।আবার পুরনো বস্তুকেও ‘আতীক বলা হয়, কেননা কোনো জিনিস পূর্বে সংঘটিত হলেও তাতে গুণগত হিসেবে এক ধরনের শক্তি অর্জিত হয়ে থাকে। এ জন্য আবূ বকর সিদ্দীক -এর উপাধি ছিল ’‘আতীক’’। কেননা পূর্ব হতেই তিনি একাধিক গুণের অধিকারী ছিলেন, আবার কেউ বলেছিল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ভাষায় জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তি লাভ করেছিল বলে মর্যাদার উঁচুমানের হওয়াতে, আবার কারও মতে মা যখন তাকে প্রসব করেন তখন বলেন,عَتِيقُكَ مِنَ الْمَوْتِতোমার স্বাধীনতা মৃত্যু হতে অর্থাৎ তোমার মুক্তি মৃত্যুতে, কেননা তার কোনো সন্তানই বেঁচে থাকত না। তবে এখানে কোনো ক্রীতদাস তার মালিক হতে মুক্তি লাভ করার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।বস্তুত মানুষ জনমগতভাবে আযাদ বা স্বাধীন করেও করতলগত হওয়াটা তার মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। দাসত্ব অবস্থায় সে নিজের স্বভাবগত চাহিদা কিংবা দীন ঈমানের দাবীতে ধর্মীয় কার্যকলাপ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারে না। এমতাবস্থায় সে একজন অসহায় ও অক্ষম, তার সেই দাসত্বের শৃঙ্খল হতে মুক্তি লাভ করাটাই শক্তি। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

সেরা আমল: ঈমান, সাহায্য ও ক্ষতি না করা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৩৮৩-[২]

وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ الْعَمَلِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «إِيمَانٌ بِاللَّهِ وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِهِ» قَالَ: قُلْتُ: فَأَيُّ الرِّقَابِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «أَغْلَاهَا ثَمَنًا وَأَنْفَسُهَا عِنْدَ أَهْلِهَا». قُلْتُ: فَإِنْ لَمْ أَفْعَلْ؟ قَالَ: «تُعِينُ صَانِعًا أَوْ تَصْنَعُ لِأَخْرَقَ». قُلْتُ: فَإِنْ لَمْ أَفْعَلْ؟ قَالَ: «تَدَعُ النَّاسَ مِنَ الشَّرِّ فَإِنَّهَا صَدَقَةٌ تَصَدَّقُ بهَا على نَفسك»

আবূ যার গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, কোন কাজ সর্বোত্তম? তিনি (ﷺ) বললেন, আল্লাহ তা'আলার প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর পথে জিহাদ করা। তিনি (আবূ যার (রাঃ) বলেন, আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, কোন গোলাম মুক্ত করা উত্তম? তিনি (ﷺ) বললেন, যার মূল্যায়ন সর্বত্র এবং যে তার মালিকের নিকট অধিক পছন্দনীয়। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমি যদি এমনটি করতে অক্ষম হই। তিনি (ﷺ) বললেন, তাহলে কোনো কর্মরত শ্রমিককে সাহায্য করবে অথবা কোনো অদক্ষ বা অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে কাজ করে দেবে। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, (এতেও) যদি আমি সক্ষম না হই। তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি মানুষের কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন হতে বিরত থাকবে। কেননা এটাও সদাক্বাহ্, যা তুমি নিজের জন্য করতে পার।

[১] সহীহ : বুখারী ২৫১৮, মুসলিম ৮৪, ইবনু মাজাহ ২৫২৩, দারিমী ২৭৩৮।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৩৮৩-[২]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আবূ যার (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করেন, কোন কাজ উত্তম। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর পথে জিহাদ করা। এরপর তিনি জানতে চান, কোন গোলাম মুক্ত করা উত্তম। উত্তরে বলা হয়, যার মূল্য বেশি এবং মালিকের কাছে বেশি প্রিয়। তারপর যদি কেউ এমন কাজ করতে না পারে, তার জন্য দরজা বন্ধ নয়। সে কর্মরত মানুষকে সাহায্য করবে, অদক্ষ ব্যক্তির কাজ করে দেবে। এতেও যদি সক্ষম না হয়, তাহলে মানুষের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকবে। এটাও নিজের জন্য সদাকাহ। হাদিসটি দেখায়, ভালো কাজ সামর্থ্য অনুযায়ী হয়। বড় আমল না পারলে ছোট ভালো কাজও মূল্যবান। আর মানুষের ক্ষতি না করাও ইসলামে সদাকাহ হিসেবে গণ্য।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ঈমান ও আল্লাহর পথে চেষ্টা বড় আমলের মধ্যে গণ্য।
  • গোলাম মুক্তিতে মূল্যবান ও প্রিয় গোলাম মুক্ত করা উত্তম বলা হয়েছে।
  • অক্ষম হলে অন্যের কাজে সাহায্য করাও ভালো আমল।
  • মানুষের ক্ষতি থেকে বিরত থাকাও নিজের জন্য সদাকাহ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন