১৪/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৩৮২-[১] - গোলাম মুক্তির ফজিলত
গোলাম মুক্তিকরণ - প্রথম অনুচ্ছেদ
মিরকাতুল মাফাতীহে বর্ণিত, মরোক্কার পরিভাষায়الْعِتْقِশব্দটি ব্যবহৃত দাসত্ব হতে বের হয়ে আসা। যেমন বলা হয়أُعْتِقَ الْعَبْدُ عِتْقًاদাস স্বাধীন হয়েছে।الْعِتْقِবাالعتاقএ শব্দদ্বয়ের আভিধানিক অর্থ হলো শক্তি বা প্রাবল্য। এ কারণে খানায়ে কা‘বাকে বলা হয় ’‘বায়তুল আতীক’’। কেননা তা নিজস্ব শক্তির বদৌলতে তার অনিষ্টকারী কিংবা ধ্বংসকারীকে প্রতিহত করে দেয়। তথা সমকালীন অনিষ্ট কোনো বাদশার ধ্বংস হতে (যেমন আবরাহা বাদশার অনিষ্ট হতে প্রতিহত করেছে)।আবার পুরনো বস্তুকেও ‘আতীক বলা হয়, কেননা কোনো জিনিস পূর্বে সংঘটিত হলেও তাতে গুণগত হিসেবে এক ধরনের শক্তি অর্জিত হয়ে থাকে। এ জন্য আবূ বকর সিদ্দীক -এর উপাধি ছিল ’‘আতীক’’। কেননা পূর্ব হতেই তিনি একাধিক গুণের অধিকারী ছিলেন, আবার কেউ বলেছিল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ভাষায় জাহান্নামের আগুন হতে মুক্তি লাভ করেছিল বলে মর্যাদার উঁচুমানের হওয়াতে, আবার কারও মতে মা যখন তাকে প্রসব করেন তখন বলেন,عَتِيقُكَ مِنَ الْمَوْتِতোমার স্বাধীনতা মৃত্যু হতে অর্থাৎ তোমার মুক্তি মৃত্যুতে, কেননা তার কোনো সন্তানই বেঁচে থাকত না। তবে এখানে কোনো ক্রীতদাস তার মালিক হতে মুক্তি লাভ করার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।বস্তুত মানুষ জনমগতভাবে আযাদ বা স্বাধীন করেও করতলগত হওয়াটা তার মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। দাসত্ব অবস্থায় সে নিজের স্বভাবগত চাহিদা কিংবা দীন ঈমানের দাবীতে ধর্মীয় কার্যকলাপ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারে না। এমতাবস্থায় সে একজন অসহায় ও অক্ষম, তার সেই দাসত্বের শৃঙ্খল হতে মুক্তি লাভ করাটাই শক্তি। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
গোলাম মুক্তির ফজিলত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৩৮২-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৩৮২-[১]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَعْتَقَ رَقَبَةً مُسْلِمَةً أَعْتَقَ اللَّهُ بِكُلِّ عُضْوٍ مِنْهُ عُضْوًا مِنَ النَّارِ حَتَّى فَرْجَهُ بِفَرْجِهِ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : কোনো মুসলিম গোলামকে মুক্ত করবে আল্লাহ তা'আলা তার প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে তার প্রতিটি অঙ্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিবেন। এমনকি ঐ ব্যক্তির গুপ্তাঙ্গও তার গুপ্তাঙ্গের বিনিময়ে মুক্তি দিবেন।
[১] সহীহ : বুখারী ৬৭১৫, মুসলিম ১৫০৯, তিরমিযী ১৫৪১, সহীহ আত্ তারগীব ১৮৯০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৩৮২-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মুসলিম গোলাম মুক্ত করার বড় ফজিলত বলেছেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিম গোলাম মুক্ত করে, আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে মুক্তিদাতার প্রতিটি অঙ্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করবেন। এমনকি হাদিসে গুপ্তাঙ্গের কথাও আলাদা করে উল্লেখ আছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, গোলাম মুক্তি শুধু সামাজিক সহায়তা নয়; এটি আল্লাহর কাছে বড় সাওয়াবের কাজ। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, মানুষের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া, কষ্টে থাকা মানুষকে মুক্ত করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বড় ত্যাগ করা। এখানে গোলাম মুক্তির ফজিলত, সদাকাহ, জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং মানবিক সাহায্যের বিষয়টি সরাসরি এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুসলিম গোলাম মুক্ত করা বড় সাওয়াবের কাজ।
- মানুষকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করা আল্লাহর কাছে মূল্যবান আমল।
- সৎ কাজে নিজের সম্পদ ব্যয় করা আখিরাতের মুক্তির কারণ হতে পারে।
- হাদিসে অঙ্গের বিনিময়ে অঙ্গ মুক্তির কথা বলে ফজিলতকে স্পষ্ট করা হয়েছে।
