১৪/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৩৯৭-[১০] - অংশ নয়, পূর্ণ মুক্তির নির্দেশ
অংশীদারী গোলাম মুক্তি করা ও নিকটাত্মীয়কে ক্রয় করা এবং অসুস্থাবস্থায় গোলাম মুক্তি করা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
গোলামের অংশ মুক্তি নয়, পূর্ণ মুক্তির শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৩৯৭-[১০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৩৯৭-[১০]
وَعَن الْمَلِيحِ عَنْ أَبِيهِ: أَنَّ رَجُلًا أَعْتَقَ شِقْصًا مِنْ غُلَامٍ فَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «لَيْسَ لِلَّهِ شَرِيكٌ» فَأَجَازَ عتقه. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
আবুল মালীহ (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণিতঃ
একদিন জনৈক ব্যক্তি তার এক গোলামের কিয়দংশ মুক্ত করে দেয়। অতঃপর এতদসম্পর্কে নবী (ﷺ) কে জানানো হলে তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলার কোনো শারীক নেই। এরপর গোলামটি পরিপূর্ণরূপে মুক্ত করার নির্দেশ করলেন।
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩৯৩৩, ইরওয়া ১৫২২, সহীহ আল জামি‘ ৫৪২৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৩৯৭-[১০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি তার এক গোলামের কিয়দংশ মুক্ত করে। বিষয়টি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জানানো হলে তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলার কোনো শরীক নেই। এরপর গোলামটিকে পরিপূর্ণরূপে মুক্ত করার নির্দেশ করেন। হাদিসের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত হলেও বার্তাটি স্পষ্ট: মুক্তির বিষয়ে খণ্ডিত আচরণ নয়, সম্পূর্ণ মুক্তির দিকে যাওয়া উচিত। এখানে আল্লাহর একত্বের কথা উল্লেখ করে বোঝানো হয়েছে, মালিকানা বা মুক্তির ভাগাভাগির বিষয়টি এমনভাবে রাখা ঠিক নয় যাতে গোলাম আংশিক অবস্থায় ঝুলে থাকে। এই হাদিস অংশীদারী গোলাম মুক্তি, পূর্ণ মুক্তি এবং তাওহীদের কথার সঙ্গে ন্যায্য আচরণের শিক্ষা দেয়। এটি ৩৩৮৮ ও ৩৩৮৯ নম্বর বর্ণনার সঙ্গে প্রাসঙ্গিকভাবে মিলে যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গোলামের কিয়দংশ মুক্ত করলে পূর্ণ মুক্তির দিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- আল্লাহর কোনো শরীক নেই—এই কথা দিয়ে বিষয়টির গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।
- মুক্তির কাজে অর্ধেক অবস্থায় কাউকে ঝুলিয়ে রাখা উচিত নয়।
- ন্যায্যতা ও পূর্ণ মুক্তির শিক্ষা এখানে স্পষ্ট।
