১৪/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৩৮৯-[২] - অংশ মুক্ত হলে পুরো মুক্তির পথ
অংশীদারী গোলাম মুক্তি করা ও নিকটাত্মীয়কে ক্রয় করা এবং অসুস্থাবস্থায় গোলাম মুক্তি করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
অংশীদারী গোলাম মুক্তি ও সামর্থ্যের বিধান
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৩৮৯-[২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৩৮৯-[২]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ أَعْتَقَ شِقْصًا فِي عَبْدٍ أُعْتِقَ كُلُّهُ إِنْ كَانَ لَهُ مَالٌ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ اسْتَسْعَى الْبعد غير مشقوق عَلَيْهِ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি অংশীদারী মালিকানাধীন গোলামের মধ্যে স্বীয় অংশ মুক্ত করে দেয়। আর তার নিকট যদি (অপর অংশীদারদের অংশের মূল্য পরিশোধের) সম্পদ থাকে, তাহলে তার পক্ষ থেকে গোলামটি সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়ে যাবে। আর যদি তার নিকট ধন-সম্পদ না থাকে, সেক্ষেত্রে গোলামটিকে তার সামর্থ্যানুযায়ী শ্রমে খাটানো (কাজে) লাগানো হবে, বিনিময়ে পরিশোধসাপেক্ষে মুক্ত হয়ে যাবে।
[১] সহীহ : বুখারী ২৫০৪, মুসলিম ১৫০৩, আবূ দাঊদ ৩৯৩৭, তিরমিযী ১৩৪৮, ইবনু মাজাহ ২৫২৭, আহমাদ ৭৪৬৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৩৮৯-[২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, কেউ যদি অংশীদারী গোলামের নিজের অংশ মুক্ত করে, আর তার কাছে অন্য অংশীদারদের অংশের মূল্য পরিশোধ করার মতো সম্পদ থাকে, তাহলে গোলামটি তার পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে যাবে। কিন্তু যদি তার কাছে সম্পদ না থাকে, তাহলে গোলামটিকে তার সামর্থ্য অনুযায়ী শ্রমে লাগানো হবে, যাতে সে বিনিময় পরিশোধ করে মুক্ত হতে পারে। এখানে গোলাম মুক্তির লক্ষ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তবে মালিকদের আর্থিক অধিকারও অগ্রাহ্য করা হয়নি। হাদিসটি অংশীদারী গোলাম মুক্তি, ন্যায্য পরিশোধ, সামর্থ্য অনুযায়ী দায়িত্ব এবং অন্যকে কষ্ট না দিয়ে ফায়সালা করার শিক্ষা দেয়। এটি ৩৩৮৮ নম্বর হাদিসের অর্থের সঙ্গে খুব কাছাকাছি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সামর্থ্য থাকলে অংশীদারী গোলামকে সম্পূর্ণ মুক্ত করার নির্দেশনা আছে।
- অন্য অংশীদারের অর্থনৈতিক অধিকারও রক্ষা করা হয়েছে।
- অসামর্থ্য হলে সামর্থ্য অনুযায়ী পরিশোধের পথ রাখা হয়েছে।
- মুক্তির কাজ ন্যায় ও দায়িত্বের সঙ্গে করা দরকার।
