১৬/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৪৬১-[১৬] - ক্বিসাস, দিয়াত ও বন্দীমুক্তির বিধান
কিসাস (প্রতিশোধ) - প্রথম অনুচ্ছেদ
‘কিসাস’ শব্দের অর্থ অনুগামী হওয়া, অনুসরণ করা। কিসাস এ নামকরণ এজন্য হয়েছে যে, নিহতের অভিভাবক প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষেত্রে হত্যাকারীর ন্যায় আচরণ করে থাকে, অর্থাৎ তার কাজের অনুসরণ করে। তাই এ প্রতিশোধকে কিসাস বলা হয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
ক্বিসাস ও দিয়াতের বিধান: মুসলিম রক্তের মর্যাদা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৪৬১-[১৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৪৬১-[১৬]
وَعَن أبي جُحيفةَ قَالَ: سَأَلْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ هَلْ عِنْدَكُمْ شَيْءٌ لَيْسَ فِي الْقُرْآنِ؟ فَقَالَ: وَالَّذِي فَلَقَ الْحَبَّةَ وَبَرَأَ النَّسَمَةَ مَا عِنْدَنَا إِلَّا مَا فِي الْقُرْآنِ إِلَّا فَهْمًا يُعْطَى رَجُلٌ فِي كِتَابِهِ وَمَا فِي الصَّحِيفَةِ قُلْتُ: وَمَا فِي الصَّحِيفَةِ؟ قَالَ: الْعَقْلُ وَفِكَاكُ الْأَسِيرِ وَأَنْ لَا يُقْتَلَ مُسْلِمٌ بِكَافِرٍ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَذَكَرَ حَدِيثَ ابْنِ مَسْعُودٍ: «لَا تُقْتَلُ نَفْسٌ ظُلْمًا» فِي «كتاب الْعلم»
আবূ জুহাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন আমি 'আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, কোরআনে নেই এমন কিছু কি আপনার নিকট আছে? তখন তিনি বললেন, সেই সত্তার কসম! যিনি খাদ্য-শস্য অঙ্কুরিত করে প্রাণের সঞ্চার করেছেন। কোরআনে যা আছে তা ব্যতীত অন্য কোনো কিছু আমাদের কাছে নেই। তবে হ্যাঁ, কিতাব (কোরআন) ও সহীফার (লিখিত হাদীস গ্রন্থের) মধ্যে বুঝার জন্য আল্লাহ তা'আলা মানুষকে যে জ্ঞান দিয়ে থাকেন, তা আমাদের নিকট রয়েছে।আমি বললাম, সহীফার মধ্যে কি লেখা আছে? তিনি বললেন, দিয়াতের (রক্তপণের) বিধান, বন্দীদের মুক্তিপণ এবং এই ফায়সালা যে, ক্বিসাসস্বরূপ কোনো মুসলিমকে কোনো কাফিরের বদলে হত্যার অনুমোদন নেই। আর ইবনু মাস'ঊদ (রাঃ) হতে এ প্রসঙ্গে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে “কোনো ব্যক্তিকে যুল্ম ও নির্যাতনমূলক হত্যা করা যাবে না” যা ‘ই পর্বে বর্ণিত হয়েছে।
[১] সহীহ : বুখারী ৫৯০৩, নাসায়ী ৪৭৪৪, তিরমিযী ১৪১২, ইবনু মাজাহ ২৬৫৮, আহমাদ ৫৯৯, দারিমী ২৪০১।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৪৬১-[১৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ জুহাইফা (রহঃ) আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, কুরআনে নেই এমন আলাদা কোনো জ্ঞান কি তাঁদের কাছে আছে। আলী (রাঃ) স্পষ্ট করে বলেন, কুরআনের বাইরে গোপন কোনো বিশেষ বিধান তাঁদের কাছে নেই। তবে আল্লাহ যাকে কিতাব বুঝার জ্ঞান দেন, সেই বুঝ আছে; আর একটি সহীফায় কিছু লিখিত বিধান আছে। সেই সহীফায় দিয়াত বা রক্তপণের বিধান, বন্দীদের মুক্তিপণ এবং ক্বিসাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি ছিল—কোনো মুসলিমকে কোনো কাফিরের বদলে হত্যা করা যাবে না। হাদিসটি ক্বিসাস, দিয়াত ও বন্দীমুক্তির বিষয়ে শরীয়তের লিখিত নীতির কথা জানায়। একই সঙ্গে এটি দেখায়, দ্বীনের বিধান গোপনীয়তার ওপর নয়, বরং কুরআন, বুঝ ও সংরক্ষিত জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআনের বাইরে গোপন কোনো বিশেষ শরীয়ত থাকার দাবি করা ঠিক নয়।
- দিয়াত, বন্দীমুক্তি ও ক্বিসাসের বিধান ইসলামী বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- মুসলিমের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করা শরীয়তের বড় শিক্ষা।
- দ্বীন বুঝতে কুরআন, সহীহ বর্ণনা ও সঠিক উপলব্ধি দরকার।
