১৬/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৪৭১-[২৬] - পিতা-পুত্রের আলাদা দায়
কিসাস (প্রতিশোধ) - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
পিতা-পুত্রের অপরাধের দায় আলাদা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৪৭১-[২৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৪৭১-[২৬]
وَعَن أبي رِمْثَةَ قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَ أبي فقالَ: «مَنْ هَذَا الَّذِي مَعَكَ؟» قَالَ: ابْنِي أَشْهَدُ بِهِ قَالَ: «أَمَا إِنَّهُ لَا يَجْنِي عَلَيْكَ وَلَا تَجْنِي عَلَيْهِ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ وَزَادَ فِي «شَرْحِ السُّنَّةِ» فِي أَوَّلِهِ قَالَ: دَخَلْتُ مَعَ أَبِي عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَأَى أَبِي الَّذِي بِظَهْرِ رَسُول الله ﷺ فَقَالَ: دَعْنِي أُعَالِجُ الَّذِي بِظَهْرِكِ فَإِنِّي طَبِيبٌ. فَقَالَ: «أَنْتَ رفيقٌ واللَّهُ الطبيبُ»
আবূ রিমসাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(একদিন) আমি আমার পিতার সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলাম। তিনি (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সাথে এটা কে? আমার পিতা বললেন, আমার ছেলে। এ ব্যাপারে আপনি সাক্ষী থাকুন। তখন তিনি (ﷺ) বললেন, জেনে রাখ! তার অন্যায়ের শাস্তি তোমার ওপর এবং তোমার অন্যায়ের শাস্তি তার ওপর বর্তাবে না। আর শারহুস্ সুন্নাহ্-তে হাদীসের প্রথম দিকে কিছু অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে।তিনি (আবূ রিমসাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি আমার পিতার সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসলাম। তখন আমার পিতা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পৃষ্ঠদর্শনে (মুহরে নাবূওয়াত দেখে) বললেন, আমাকে অনুমতি দিন। আপনার পিঠে যেটি আছে, আমি এর সুচিকিৎসা করে দেই। কেননা আমি একজন চিকিৎসক। তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি কেবল একজন সেবক আর আল্লাহ তা'আলা হলেন (প্রকৃত) চিকিৎসক।
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪৪৯৫, নাসায়ী ৪৮৩৬, আহমাদ ৭১০৯, ইরওয়া ২৩০৩, সহীহ আল জামি‘ ১৩১৭।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৪৭১-[২৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ রিমসাহ (রাঃ) তাঁর পিতার সঙ্গে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে আসেন। তাঁর পিতা বলেন, তিনি তাঁর ছেলে; এ বিষয়ে নবী صلى الله عليه وسلم সাক্ষী থাকুন। তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, তার অন্যায়ের শাস্তি তোমার ওপর এবং তোমার অন্যায়ের শাস্তি তার ওপর বর্তাবে না। এই বাক্যটি ব্যক্তিগত দায়ের একটি পরিষ্কার শিক্ষা দেয়। কেউ পিতা বলে সন্তানের অপরাধের দায় বহন করবে না, আবার সন্তানও পিতার অন্যায়ের দায়ে দণ্ডিত হবে না। বর্ণনার অতিরিক্ত অংশে পিতা নবী صلى الله عليه وسلم-এর পিঠে থাকা চিহ্ন দেখে চিকিৎসার কথা বলেন। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তুমি সেবক, আর আল্লাহ প্রকৃত চিকিৎসক। তাই এখানে ন্যায়বিচার, ব্যক্তিগত দায় এবং আল্লাহর আরোগ্যদানের ক্ষমতা—এই বিষয়গুলো এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অপরাধের দায় ব্যক্তির নিজের ওপর বর্তায়।
- পিতা ও সন্তান একে অন্যের অন্যায়ের শাস্তি বহন করবে না।
- চিকিৎসা করা যায়, তবে প্রকৃত আরোগ্য আল্লাহর পক্ষ থেকে।
- ন্যায়বিচারে সম্পর্ক নয়, ব্যক্তির কাজ বিবেচ্য।
