১৭/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬২১-[৮] - মদ্যপ অপরাধীর জন্য দোয়া ও সংশোধন
মদ পানের দণ্ডবিধি - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মদ্যপকে অভিশাপ নয়, ক্ষমার দোয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬২১-[৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬২১-[৮]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِرَجُلٍ قَدْ شربَ الخمرَ فَقَالَ: «اضْرِبُوهُ» فَمِنَّا الضَّارِبُ بِيَدِهِ وَالضَّارِبُ بِثَوْبِهِ وَالضَّارِبُ بِنَعْلِهِ ثُمَّ قَالَ: «بَكِّتُوهُ» فَأَقْبَلُوا عَلَيْهِ يَقُولُونَ: مَا اتَّقَيْتَ اللَّهَ مَا خَشِيتَ اللَّهَ وَمَا اسْتَحْيَيْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ: أَخْزَاكَ اللَّهُ. قَالَ: لَا تَقُولُوا هَكَذَا لَا تُعِينُوا عَلَيْهِ الشَّيْطَانَ وَلَكِنْ قُولُوا: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন জনৈক ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর নিকট আনা হলো, যে মদ পান করেছে। তখন তিনি (ﷺ) বললেন, তোমরা তাকে প্রহার করো। সুতরাং আমাদের কেউ তাকে হাত দ্বারা, কেউ চাদর দ্বারা, কেউ জুতার দ্বারা প্রহার করল। অতঃপর তিনি (ﷺ) বললেন : এরূপ কাজের জন্য তোমরা তাকে নিন্দা ও ভর্ৎসনা করো। সুতরাং লোকেরা তার সম্মুখপানে তিরস্কার করতে বলল, তুমি কি আল্লাহকে ভয় কর না, তোমার কি আল্লাহর ‘আযাবের ভয় নেই। তুমি এরূপ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে আসতে লজ্জাবোধ হলো না?অতঃপর জনৈক ব্যক্তি বলল, আল্লাহ তোমাকে হেয় ও লাঞ্ছিত করুক। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : এরূপ বলো না (বদ্দোয়া করো না)। এরূপ বলে তার ওপর শয়তানকে প্রাধান্য দিও না; বরং তোমরা এভাবে বলো- হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! তার প্রতি রহম করো।
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪৪৭৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬২১-[৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মদ পান করা ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আনা হলে তিনি তাকে প্রহার করতে বলেন। কেউ হাত দিয়ে, কেউ চাদর দিয়ে, কেউ জুতা দিয়ে প্রহার করে। এরপর তিনি তাকে ভর্ৎসনা করতে বলেন, যাতে অপরাধের খারাপ দিক বোঝা যায়। কিন্তু যখন একজন লোক বদ্দোয়া করে বলে, আল্লাহ তাকে হেয় করুন, তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) তা থামিয়ে দেন। তিনি বলেন, এমন কথা বলে তার ওপর শয়তানকে সাহায্য করো না। বরং তার জন্য ক্ষমা ও রহমতের দোয়া করো। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো—মদ্যপান বড় গুনাহ, কিন্তু পাপী মানুষকে অপমান করে দূরে ঠেলে দেওয়া নয়; সংশোধন, সতর্কতা, দোয়া ও রহমতের দরজা খোলা রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মদ্যপান অপরাধ হলেও অপরাধীকে অভিশাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
- সংশোধনের জন্য ভর্ৎসনা করা যায়, কিন্তু অপমান ও বদ্দোয়া করা ঠিক নয়।
- পাপীর জন্য ক্ষমা ও রহমতের দোয়া করা ইসলামী আদবের অংশ।
- কোনো মুসলিমের বিরুদ্ধে এমন কথা বলা উচিত নয়, যা শয়তানের জন্য সুযোগ করে দেয়।
