১৮/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৬৮-[৮] - জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্নতার সতর্কতা
প্রশাসন ও বিচারকার্য - প্রথম অনুচ্ছেদ
الإمارةশব্দটির অর্থ আমিরের পদ গ্রহণ করা বা চিহ্ন ইত্যাদি।القضاءদ্বারা এখানে উদ্দেশ্য শার্‘ঈ আদালত।
জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে ধৈর্য ধরার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৬৬৮-[৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৬৬৮-[৮]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «من رأى أميره يَكْرَهُهُ فَلْيَصْبِرْ فَإِنَّهُ لَيْسَ أَحَدٌ يُفَارِقُ الْجَمَاعَةَ شبْرًا فَيَمُوت إِلَّا مَاتَ ميتَة جَاهِلِيَّة»
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কোনো ব্যক্তি যদি তার আমীরকে অনৈতিক কোনো কিছু করতে দেখে, তাহলে সে যেন ধৈর্যধারণ করে। কেননা যে কেউ ইসলামী জামাআত থেকে এক বিঘত পরিমাণ দূরে সরে যায় এবং এ অবস্থায় মারা যায়, সে জাহিলিয়্যাত যুগের ন্যায় মৃত্যুবরণ করল।
[১] সহীহ : বুখারী ৭১৪৩, মুসলিম ১৮৪৯, আহমাদ ২৪৮৭, দারিমী ২৫৬১, ইরওয়া ২৪৫৩, সহীহ আল জামি‘ ৬২৪৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৬৬৮-[৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এমন পরিস্থিতির কথা বলেছেন, যেখানে কেউ তার আমীরের মধ্যে অপছন্দনীয় কোনো বিষয় দেখে। তখন তাকে ধৈর্য ধরতে বলা হয়েছে। কারণ, যে ব্যক্তি ইসলামী জামা‘আত থেকে এক বিঘত পরিমাণ দূরে সরে যায় এবং সেই অবস্থায় মারা যায়, তার মৃত্যু জাহিলিয়্যাত যুগের মতো হয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো—অপছন্দ হলেই শৃঙ্খলা ভেঙে ফেলা নয়। আমীরের অনৈতিক বিষয় দেখা গেলে সেটি অপছন্দ করা যেতে পারে, কিন্তু জামা‘আত ভেঙে বেরিয়ে যাওয়া খুব কঠিন সতর্কতার বিষয়। এই হাদিস ধৈর্য, মুসলিম ঐক্য, জামা‘আত এবং আমীরের আনুগত্যের গুরুত্ব তুলে ধরে। এতে ফিতনা ও বিচ্ছিন্নতা থেকে বাঁচার শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আমীরের অপছন্দনীয় কাজ দেখলে অস্থির না হয়ে ধৈর্য ধরার শিক্ষা আছে।
- জামা‘আত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা এসেছে।
- মুসলিম সমাজে ঐক্য ও শৃঙ্খলা রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- অপছন্দ থাকা মানেই সম্পর্ক ছিন্ন করা নয়।
