১৮/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৭৩১-[১] - রাগের সময় বিচার না করার শিক্ষা
প্রশাসনিক কর্মস্থলে কাজ করা এবং তা গ্রহণের দায়িত্বে ভয় করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
রাগের সময় বিচার নয়—ইনসাফের নববী শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৭৩১-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৭৩১-[১]
عَنْ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا يَقْضِيَنَّ حَكَمٌ بَيْنَ اثْنَيْنِ وَهُوَ غَضْبَانُ»
আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি। তিনি (ﷺ) বলেছেন: কোনো বিচারক রাগান্বিত অবস্থায় দু'জনের মাঝে বিচার-ফায়সালা করবে না।
[১] সহীহ : বুখারী ৭১৫৮, মুসলিম ১৭১৭, আবূ দাঊদ ৩৫৮৯, নাসায়ী ৫৪০৬, তিরমিযী ১৩৩৪, ইবনু মাজাহ ২৩১৬, আহমাদ ২০৩৭৯, ইরওয়া ২৬২৬, সহীহ আল জামি‘ ৭৬৩৫।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৭৩১-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিচারকের মানসিক অবস্থার গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কোনো বিচারক রাগান্বিত অবস্থায় দুজনের মাঝে বিচার-ফায়সালা করবে না। রাগ মানুষের কথা শোনা, যুক্তি বোঝা এবং ভারসাম্য রাখা কঠিন করে দেয়। তাই বিচার শুধু আইন বা তথ্যের কাজ নয়; বিচারকের শান্ত মনও দরকার। এই শিক্ষা আদালতের বিচারকের জন্য যেমন জরুরি, তেমনি পরিবার, প্রতিষ্ঠান বা সমাজে যারা দুজনের বিরোধ মেটায় তাদের জন্যও দরকারি। রাগের সময় সিদ্ধান্ত দিলে অন্যায়ের সম্ভাবনা বাড়ে। হাদিসটি আমাদের শেখায়—ইনসাফ করতে হলে আগে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, তারপর অন্যের কথা শুনে ফায়সালা করতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাগের সময় বিচার বা বড় সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকা উচিত।
- ইনসাফের জন্য শান্ত মন ও স্থিরতা দরকার।
- বিবাদ মেটাতে দুই পক্ষের কথা ধৈর্য নিয়ে শোনা জরুরি।
- নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা বিচারকের দায়িত্বের অংশ।
