১৮/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৭৪৫-[১] - সম্পদ বণ্টনে আমানতদারি
বিচারকদের (সহকর্মীদের) বেতন ও হাদিয়া গ্রহণ করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
সম্পদ বণ্টনে আদেশ ও আমানত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৭৪৫-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৭৪৫-[১]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أُعْطِيكُمْ وَلَا أَمْنَعُكُمْ أَنَا قَاسِمٌ أَضَعُ حَيْثُ أُمِرْتُ». رَوَاهُ البُخَارِيّ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমি স্বেচ্ছায় তোমাদেরকে কিছু প্রদান করি না এবং বঞ্চিতও করি না, আমি শুধু বণ্টনকারী। অতএব আমি যে স্থানে দেয়ার সেখানে প্রদান করি।
[১] সহীহ : বুখারী ৩১১৭, সহীহ আল জামি‘ ৫৫৪২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৭৪৫-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم নিজের অবস্থান খুব পরিষ্কার করে বলেছেন। তিনি বলেন, আমি স্বেচ্ছায় তোমাদের কিছু দিই না এবং বঞ্চিতও করি না; আমি শুধু বণ্টনকারী, যেখানে দিতে আদেশ করা হয়েছে সেখানে দিই। এর মাধ্যমে সম্পদ বণ্টনের আমানতদারি বোঝা যায়। দান, বায়তুল মাল, গনীমত বা কোনো প্রাপ্য বণ্টনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নয়, বরং নির্দেশ, হক ও যথাস্থান গুরুত্বপূর্ণ। এই হাদিস প্রশাসনিক সম্পদ বণ্টন, ন্যায়ভিত্তিক ভাগ, দায়িত্বশীলতার মানসিকতা এবং নিজের খেয়ালখুশি থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেয়। যে ব্যক্তি বণ্টনের দায়িত্বে থাকে, তার জন্য এটি বড় সতর্কতা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্পদ বণ্টনে ব্যক্তিগত ইচ্ছা নয়, আদেশ ও হক মানতে হবে।
- বণ্টনের দায়িত্ব আমানত, তা নিজের মতো চালানো যাবে না।
- যেখানে দেওয়ার নির্দেশ আছে, সেখানে দেওয়াই সঠিক পথ।
- দায়িত্বশীল ব্যক্তির ভাষা ও কাজ স্বচ্ছ হওয়া দরকার।
