১৮/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৭৪৮-[৪] - পারিশ্রমিকের পর অতিরিক্ত নেওয়া খিয়ানাত
বিচারকদের (সহকর্মীদের) বেতন ও হাদিয়া গ্রহণ করা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
বেতন পাওয়ার পর অতিরিক্ত নেওয়া খিয়ানাত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৭৪৮-[৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৭৪৮-[৪]
عَن بُرَيْدَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنِ اسْتَعْمَلْنَاهُ عَلَى عَمَلٍ فَرَزَقْنَاهُ رِزْقًا فَمَا أَخَذَ بَعْدَ ذَلِكَ فَهُوَ غُلُولٌ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন: কোনো লোককে যদি আমরা কোনো কাজে নিযুক্ত করি এবং তাকে সে কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক দেই। অতঃপর যদি সে অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করে, তবে তা হলো খেয়ানত।
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ২৯৪৩, সহীহ আল জামি‘ ৬০২৩, সহীহ আত্ তারগীব ৭৭৯, সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ২৩৬৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৭৪৮-[৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم প্রশাসনিক বা দায়িত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তির জন্য স্পষ্ট নিয়ম বলেছেন। কাউকে কোনো কাজে নিযুক্ত করা হলো এবং তার জন্য পারিশ্রমিক দেওয়া হলো। এরপর সে যদি অতিরিক্ত কিছু গ্রহণ করে, তবে তা খিয়ানাত। অর্থাৎ কাজের বিনিময়ে যা বৈধভাবে নির্ধারিত, সেটিই তার প্রাপ্য। দায়িত্বের সুযোগ নিয়ে বাড়তি উপহার, সুবিধা বা গোপন সম্পদ নেওয়া আমানতের পরিপন্থী। এই হাদিস সরকারি কর্মী, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং যেকোনো আমানতধারী ব্যক্তির জন্য বড় শিক্ষা। বেতন বা ভাতা থাকলে অতিরিক্ত নেওয়ার আগে হালাল-হারামের বিষয়টি ভাবতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কাজের নির্ধারিত পারিশ্রমিকের বাইরে অতিরিক্ত নেওয়া খিয়ানাত।
- দায়িত্বকে ব্যক্তিগত লাভের পথ বানানো যাবে না।
- বেতন থাকলে গোপনে সুবিধা নেওয়া আমানতের বিপরীত।
- কর্মস্থলে স্বচ্ছতা ও হালাল উপার্জন জরুরি।
