১৮/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৭৫৫-[১১] - ঘুষের দালালের সতর্কতা
বিচারকদের (সহকর্মীদের) বেতন ও হাদিয়া গ্রহণ করা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ঘুষের দালালও সতর্কতার মধ্যে
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৭৫৫-[১১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৭৫৫-[১১]
وَرَوَاهُ أَحْمَدُ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ» عَنِ ثَوْبَانَ وَزَادَ: «وَالرَّائِشَ» يَعْنِي الَّذِي يَمْشِي بَيْنَهُمَا
আর আহমাদ ও বায়হাক্বী শু'আবুল ঈমানে সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে অতিরিক্ত আছে, গ্রহণকারী ও প্রদানকারীর মাঝে সংযোগ স্থাপনকারীকেও তিনি (ﷺ) অভিসম্পাত করেছেন।
[১] য‘ঈফ : আহমাদ ২২৩৯৯, শু‘আবুল ঈমান ৫১১৫, য‘ঈফ আল জামি‘ ৪৬৮৪। কারণ এর সনদে লায়স বিন সুলায়ম একজন দুর্বল রাবী আর তার শায়খ আবুল খত্ত্বাব মাজহূল রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৭৫৫-[১১]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আগের ঘুষ সম্পর্কিত হাদিসের সাথে একটি অতিরিক্ত বিষয় এসেছে। আহমাদ ও বায়হাক্বীর বর্ণনায় সাওবান (রাঃ) থেকে বলা হয়েছে, ঘুষ গ্রহণকারী ও প্রদানকারীর মাঝে যে সংযোগ স্থাপন করে, তাকেও অভিসম্পাতের মধ্যে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ ঘুষের কাজ শুধু টাকা নেওয়া বা দেওয়ায় সীমিত নয়; মাঝখানে দাঁড়িয়ে ব্যবস্থা করে দেওয়াও বিপজ্জনক। সমাজে অনেক সময় কেউ সরাসরি ঘুষ দেয় না, কিন্তু অন্যের মাধ্যমে কাজ করায়। এই হাদিস সেই মধ্যস্থতাকারীকেও সতর্ক করে। ঘুষের দালালি, অন্যায় সুবিধা, বিচার নষ্ট করা এবং হক থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা—সবই বড় ক্ষতির পথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঘুষের দাতা ও গ্রহীতার পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারীও সতর্কতার মধ্যে।
- অন্যায় লেনদেনের পথ তৈরি করাও পাপের সহায়তা।
- ঘুষ সরাসরি না নিলেও এর ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়া নিরাপদ নয়।
- হক নষ্ট করে এমন কাজে সহযোগিতা করা থেকে বাঁচতে হবে।
