১৮/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৭৫৬-[১২] - সৎ মানুষের জন্য পবিত্র মাল
বিচারকদের (সহকর্মীদের) বেতন ও হাদিয়া গ্রহণ করা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
সৎ মানুষের হাতে পবিত্র মাল ভালো
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৭৫৬-[১২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৭৫৬-[১২]
وَعَن عَمْرِو بن العاصِ قَالَ: أَرْسَلَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنِ اجْمَعْ عَلَيْكَ سِلَاحَكَ وَثِيَابَكَ ثُمَّ ائْتِنِي» قَالَ: فَأَتَيْتُهُ وَهُوَ يَتَوَضَّأُ فَقَالَ: «يَا عَمْرُو إِنِّي أَرْسَلْتُ إِلَيْكَ لِأَبْعَثَكَ فِي وُجْةٍ يُسَلِّمُكَ اللَّهُ وَيُغَنِّمُكَ وَأَزْعَبَ لَكَ زَعْبَةً مِنَ الْمَالِ». فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا كَانَتْ هِجْرَتِي لِلْمَالِ وَمَا كَانَتْ إِلَّا لِلَّهِ ولرسولِه قَالَ: «نِعِمَّا بِالْمَالِ الصَّالِحِ لِلرَّجُلِ الصَّالِحِ» .رَوَاهُ فِي «شَرْحِ السُّنَّةِ» وَرَوَى أَحْمَدُ نَحْوَهُ وَفِي روايتِه: قَالَ: «نِعْمَ المالُ الصَّالحُ للرَّجُلِ الصالحِ»
‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট সংবাদ পাঠালেন যে, (সফরের উদ্দেশে) তুমি তোমার যুদ্ধাস্ত্র ও প্রয়োজনীয় বস্ত্রাদি নিয়ে আমার নিকট চলে আসো। তিনি বলেন: অতএব আমি নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলাম, তখন তিনি (ﷺ) ওজু করছিলেন। আমাকে দেখে তিনি (ﷺ) বললেন: হে ‘আম্র! আমি তোমাকে এজন্য ডেকে এনেছি যে, তোমাকে (গভর্নর বা শাসকরূপে) এক অঞ্চলে পাঠাব। আল্লাহ তা'আলা তোমাকে নিরাপত্তায় রাখুন এবং গনিমতের ধন-সম্পদও দান করুন। আর আমিও তোমাকে কিছু মাল দিবো।তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! ধন-সম্পদের লোভে আমার হিজরত ছিল না; বরং আমার হিজরত ছিল আল্লাহ ও তাঁর রাসূল-এর সন্তুষ্টি কামনায়। তিনি (ﷺ) বললেন: সৎলোকের জন্য পবিত্র মাল কতই না উত্তম। আর আহমাদও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর অপর বর্ণনাতে আছে, সৎলোকের জন্য ভালো মালই উত্তম জিনিস।
[১] হাসান : শারহুস্ সুন্নাহ্ ২৪৯৬, আহমাদ ১৭৯১৫।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৭৫৬-[১২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ)-এর একটি সুন্দর মনোভাব দেখা যায়। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাকে একটি কাজে পাঠাতে চান এবং বলেন, আল্লাহ তাকে নিরাপত্তা ও গনীমতের ধন দান করুন, আর তিনিও তাকে কিছু মাল দেবেন। তখন ‘আমর (রাঃ) বলেন, তার হিজরত ধন-সম্পদের জন্য ছিল না; বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির জন্য। উত্তরে নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, সৎলোকের জন্য পবিত্র মাল কতই না উত্তম। এখানে সম্পদকে একেবারে নিন্দা করা হয়নি; বরং নিয়ত, সততা এবং পবিত্র উপায়ে পাওয়া মালকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সৎ মানুষের হাতে হালাল সম্পদ ভালো কাজে লাগতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইবাদত ও হিজরতের মূল উদ্দেশ্য আল্লাহ ও রাসূলের সন্তুষ্টি হওয়া উচিত।
- হালাল ও পবিত্র সম্পদ সৎ মানুষের জন্য ভালো হতে পারে।
- সম্পদের প্রতি লোভ নয়, নিয়তকে আগে রাখতে হবে।
- দায়িত্বে গেলে নিরাপত্তা, হালাল প্রাপ্য ও সততা—সব জরুরি।
