১৯/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৩৩-[৮] - সূর্য ঢলার পর সাহায্যের আশায় অপেক্ষা
কাফির রাষ্ট্রপ্রধানদের নিকট পত্র প্রেরণ ও ইসলামের প্রতি আহ্বান - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
যুদ্ধের সঠিক সময় ও আল্লাহর সাহায্য
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৯৩৩-[৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৯৩৩-[৮]
عَن النُّعْمَان بن مقرن قَالَ: شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَانَ إِذَا لَمْ يُقَاتِلْ أَوَّلَ النَّهَارِ انْتَظَرَ حَتَّى تَزُولَ الشَّمْسُ وَتَهُبَّ الرِّيَاحُ وينزِلَ النَّصرُ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
নু'মান ইবনু মুক্বর্রিন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে জিহাদে শরীক ছিলাম এবং তাঁকে দেখেছি, তিনি (ﷺ) দিনের প্রথমভাগে কোনো যুদ্ধে লড়াই শুরু করতে না পারলে অপেক্ষা করতেন সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়া এবং মৃদু বাতাস প্রবাহিত হওয়া, আর আল্লাহর সাহায্য অবতীর্ণের সময় হওয়া পর্যন্ত।
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১৬১৩।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৩৩-[৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নু‘মান ইবনু মুকাররিন (রাঃ) নবী صلى الله عليه وسلم-এর যুদ্ধের সময় নির্বাচন নিয়ে আরেকটি বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি দিনের প্রথমভাগে যুদ্ধ শুরু না হতো, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم অপেক্ষা করতেন সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়া, মৃদু বাতাস প্রবাহিত হওয়া এবং সাহায্য অবতীর্ণ হওয়ার সময় পর্যন্ত। এখানে যুদ্ধকে শুধু বাহ্যিক শক্তির বিষয় হিসেবে দেখানো হয়নি; সময়, আবহাওয়া এবং আল্লাহর সাহায্যের আশাও আছে। হাদিসটি ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরতার শিক্ষা দেয়। তবে বর্ণনার সীমা হলো যুদ্ধক্ষেত্রের সময় নির্বাচন; এটিকে সাধারণ জীবনের সব ক্ষেত্রে সরাসরি নিয়ম বানিয়ে বলা ঠিক নয়। মূল শিক্ষা হলো, বড় সিদ্ধান্তে সময় ও ভরসা দুটিই জরুরি। তাই যুদ্ধের মতো কঠিন অবস্থাতেও মুমিনের মন আল্লাহর সাহায্য ও সঠিক সময়ের দিকে থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم দিনের প্রথমভাগে না হলে অপেক্ষা করতেন।
- সূর্য ঢলা ও বাতাস প্রবাহের সময়কে বর্ণনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- আল্লাহর সাহায্যের আশা নিয়ে ধৈর্য ধরা মুমিনের আচরণ।
