১৯/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৩৪-[৯] - যুদ্ধের মাঝেও সালাত ও দোয়ার গুরুত্ব
কাফির রাষ্ট্রপ্রধানদের নিকট পত্র প্রেরণ ও ইসলামের প্রতি আহ্বান - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
যুদ্ধের মাঝেও সালাত ও দোয়ার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৯৩৪-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৯৩৪-[৯]
وَعَن قتادةَ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ مُقَرِّنٍ قَالَ: غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَانَ إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ أَمْسَكَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَإِذَا طَلَعَتْ قَاتَلَ فَإِذَا انْتَصَفَ النَّهَارُ أَمْسَكَ حَتَّى تَزُولَ الشَّمْسُ فَإِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ قَاتَلَ حَتَّى الْعَصْرِ ثُمَّ أَمْسَكَ حَتَّى يُصَلَّى الْعَصْرُ ثُمَّ يُقَاتِلُ قَالَ قَتَادَةُ: كَانَ يُقَالُ: عِنْدَ ذَلِكَ تُهِيجُ رِيَاحُ النَّصْرِ وَيَدْعُو الْمُؤْمِنُونَ لِجُيُوشِهِمْ فِي صلَاتهم. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ক্বতাদাহ্ (রহঃ) সূত্রে নু'মান ইবনু মুক্বর্রিন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে জিহাদে অংশগ্রহণ করেছি। আমি তাঁকে দেখতাম, তিনি (ﷺ) ফজরের সময় হলে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ হতে বিরত থাকতেন। যখন সূর্য উদিত হয়ে যেত, তখন যুদ্ধ শুরু করতেন। আবার মধ্যাহ্ন হলে যুদ্ধ বন্ধ রাখতেন, যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ত। আবার সূর্য যখন পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ত, তখন (যুহরের সালাত আদায় করে) আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতেন। অতঃপর আসরের সালাতের জন্য বিরতি দিতেন এবং সালাত শেষে পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতেন। (রাবী ক্বতাদাহ্ (রহঃ) বলেন) সাহাবায়ে কিরামগণ বলতেন, সে সময় আল্লাহর পক্ষ হতে বিজয়ের বাতাস প্রবাহিত হতো। আর মুমিনগণ তাদের সালাতে নিজেদের সৈন্যদলের জন্য দোয়া করতেন।
[১] য‘ঈফ : তিরমিযী ১৬১২।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৩৪-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নু‘মান ইবনু মুকাররিন (রাঃ) রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে জিহাদে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা বলেন। তিনি দেখতেন, ফজরের সময় হলে নবী صلى الله عليه وسلم সূর্য ওঠা পর্যন্ত যুদ্ধ থেকে বিরত থাকতেন। সূর্য উঠলে যুদ্ধ শুরু করতেন। মধ্যাহ্ন হলে আবার বিরতি দিতেন, যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিমে হেলে যায়। তারপর যুহরের সালাতের পর আসর পর্যন্ত যুদ্ধ করতেন। আসরের সময় হলে সালাতের জন্য থামতেন, সালাত শেষে আবার যুদ্ধ শুরু করতেন। ক্বতাদাহ্ (রহঃ) বলেন, সে সময় বিজয়ের বাতাস প্রবাহিত হওয়ার কথা বলা হতো, আর মুমিনরা সালাতে নিজেদের সৈন্যদলের জন্য দোয়া করতেন। এই হাদিসে সালাত, দোয়া, সময়ের শৃঙ্খলা ও আল্লাহর সাহায্যের আশা একসঙ্গে এসেছে। তাই এই বর্ণনা দেখায়, কঠিন কাজের মাঝেও সালাত ও দোয়া অবহেলার বিষয় নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কঠিন অবস্থাতেও সালাতের সময়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- মুমিনরা সালাতে নিজেদের সৈন্যদলের জন্য দোয়া করতেন।
- যুদ্ধের সময়েও বিরতি, সময় ও ইবাদতের শৃঙ্খলা রক্ষা করা হয়েছে।
