১৯/৬. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৮২-[৬] - দূত হত্যা নিষিদ্ধ হওয়ার শিক্ষা
নিরাপত্তা (আশ্রয়) প্রদান - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
দূত হত্যা নিষিদ্ধ: ইসলামের ন্যায়ভিত্তিক নীতি
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৯৮২-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৯৮২-[৬]
وَعَنْ نُعَيْمِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِرَجُلَيْنِ جَاءَا مِنْ عِنْدِ مُسَيْلِمَةَ: «أَمَّا وَاللَّهِ لَوْلَا أَنَّ الرُّسُلَ لَا تُقْتَلُ لَضَرَبْتُ أَعْنَاقَكُمَا». رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو دَاوُد
নু'আয়ম ইবনু মাস'উদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: একদিন (নাবূওয়াতের মিথ্যা দাবিদার) মুসায়লিমাহ্ কায্যাব-এর পক্ষ হতে দু'জন ব্যক্তি তাঁর নিকট আসলে তিনি (ﷺ) তাদেরকে বললেন, আল্লাহর কসম! দূতকে হত্যা করার যদি বিধান থাকত, তাহলে এখনই আমি তোমাদের শিরোচ্ছেদ করতাম।
[১] হাসান : আবূ দাঊদ ২৭৬১, আহমাদ ৩৭৬১, সহীহ আল জামি‘ ১৩৩৯। তবে আহমাদ-এর সানাদটি দুর্বল।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৮২-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুসায়লিমাহ কায্যাবের পক্ষ থেকে আসা দুই ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে। তারা এমন এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে এসেছিল, যে নবুওয়াতের মিথ্যা দাবি করেছিল। তাদের কথার কারণে কঠোরতা প্রাপ্য মনে হলেও রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাদের হত্যা করেননি। তিনি বলেন, দূতকে হত্যা করার বিধান থাকলে তিনি তাদের শিরোচ্ছেদ করতেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, ইসলামে দূতের নিরাপত্তা একটি স্থির নীতি। ব্যক্তির বিশ্বাস, বক্তব্য বা পাঠানোর পক্ষ ভুল হলেও দূত হিসেবে তার আলাদা মর্যাদা আছে। এই হাদিস চুক্তি, কূটনৈতিক আচরণ এবং ন্যায়বোধের সঙ্গে যুক্ত। এখানে আবেগ নয়, বিধান ও নীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দূত হিসেবে আসা ব্যক্তিকে হত্যা করা ইসলামী নীতির মধ্যে নেই।
- ভুল পক্ষের প্রতিনিধি হলেও তার নিরাপত্তা রক্ষা করা হয়।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ব্যক্তিগত রাগ নয়, বিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
- ন্যায়নীতি কঠিন অবস্থাতেও মানতে হয়।
