১৯/৭. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৮৮-[৪] - নারী ও গোলামের গনীমাত অংশ

গনীমাতের সম্পদ বণ্টন এবং তা আত্মসাৎ করা - প্রথম অনুচ্ছেদ

গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয়। এটা নফল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বকর আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই, জিয্ইয়াহ্ও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন। ‘আল্লামা ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’।‘আল্লামা ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেনঃ যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়।

জিহাদে সেবা: নারী, গোলাম ও গনীমাতের অংশ

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৯৮৮-[৪]

وَعَنْ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ قَالَ: كَتَبَ نَجْدَةُ الْحَرُورِيُّ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَسْأَلُهُ عَنِ الْعَبْدِ وَالْمَرْأَة يحْضرَانِ لمغنم هلْ يُقسَمُ لَهما؟ فَقَالَ ليزيدَ: اكْتُبْ إِلَيْهِ أَنَّهُ لَيْسَ لَهُمَا سَهْمٌ إِلَّا أَنْ يُحْذَيَا. وَفِي رِوَايَةٍ: كَتَبَ إِلَيْهِ ابْنُ عَبَّاسٍ: إِنَّكَ كَتَبْتَ إِلَيَّ تَسْأَلُنِي: هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَغْزُو بِالنِّسَاءِ؟ وَهَلْ كَانَ يَضْرِبُ لَهُنَّ بِسَهْمٍ؟ فَقَدْ كَانَ يَغْزُو بِهِنَّ يُدَاوِينَ الْمَرْضَى وَيُحْذَيْنَ مِنَ الْغَنِيمَةِ وَأَمَّا السَّهْمُ فَلَمْ يَضْرِبْ لَهُنَّ بِسَهْمٍ. رَوَاهُ مُسلم

ইয়াযীদ ইবনু হুরমুয (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন (খারিজী নেতা) নাজদাতুল হারূরী ইবনু 'আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট পত্র লিখে জানতে চাইল, যদি কোনো নারী বা গোলাম জিহাদে অংশগ্রহণ করে তারা গনীমাতের মালে অংশ পাবে কিনা? তখন ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) ইয়াযীদকে বললেন, তাকে লিখে দাও, তাদের কোনো নির্ধারিত অংশ নেই। তবে ইমাম তাদেরকে সামান্য কিছু মাল দিতে পারেন।অপর এক বর্ণনায় আছে, ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) তাকে লিখে পাঠিয়েছেন যে, তুমি আমার কাছে জানতে চেয়েছ যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিহাদে নারীদেরকে সঙ্গে নিয়েছেন কিনা এবং তাদেরকে গনীমাতের মালের অংশ দিতেন কিনা? তিনি (ﷺ) নারীদেরকে সঙ্গে নিতেন এ উদ্দেশ্যে যে, তারা অসুস্থ ও আহত মুজাহিদদের পরিচর্যা ও সেবা-শুশ্রূষা করবেন, এতে তাদেরকে গনীমাত হতে সামান্য কিছু দেয়া হতো, নিয়মিত অংশাধিকার দেননি।

[১] সহীহ : মুসলিম ১৮১২।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৮৮-[৪]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নাজদাতুল হারূরী ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে জানতে চেয়েছিল, নারী বা গোলাম জিহাদে অংশ নিলে তারা গনীমাতের নির্ধারিত অংশ পাবে কি না। ইবনু আব্বাস (রাঃ) উত্তর দেন, তাদের জন্য নির্ধারিত অংশ নেই; তবে ইমাম তাদের কিছু দিতে পারেন। আরেক বর্ণনায় তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নারীদের যুদ্ধে সঙ্গে নিতেন, তারা অসুস্থ ও আহত মুজাহিদদের সেবা করতেন। তাদের গনীমাত থেকে কিছু দেওয়া হতো, কিন্তু নিয়মিত অংশ দেওয়া হতো না। এই হাদিসে সেবা-শুশ্রূষার মূল্য আছে, তবে গনীমাত বণ্টনের আলাদা নিয়মও আছে। তাই এখানে নারী সেবা, আহতদের পরিচর্যা এবং গনীমাতের অংশ—সব বিষয় ভারসাম্যপূর্ণভাবে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আহত ও অসুস্থ মুজাহিদদের সেবা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
  • সেবা করা ব্যক্তিকে কিছু দেওয়া যেতে পারে, তবে নির্ধারিত অংশ আলাদা বিষয়।
  • গনীমাত বণ্টন ব্যক্তিগত আবেগ নয়, নিয়ম অনুযায়ী হয়।
  • ইবনু আব্বাস (রাঃ) প্রশ্নের উত্তরে স্পষ্ট ও সীমিত জবাব দিয়েছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন