১৯/৭. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৮৯-[৫] - সালামাহর সাহস ও নববী স্বীকৃতি

গনীমাতের সম্পদ বণ্টন এবং তা আত্মসাৎ করা - প্রথম অনুচ্ছেদ

গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয়। এটা নফল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বকর আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই, জিয্ইয়াহ্ও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন। ‘আল্লামা ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’।‘আল্লামা ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেনঃ যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়।

সালামাহ ইবনুল আকওয়ার সাহস ও গনীমাতের অংশ

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৯৮৯-[৫]

وَعَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ قَالَ: بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِظَهْرِهِ مَعَ رَبَاحٍ غُلَامِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا مَعَهُ فَلَمَّا أَصْبَحْنَا إِذَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْفَزَارِيُّ قَدْ أَغَارَ عَلَى ظَهْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُمْتُ عَلَى أَكَمَةٍ فَاسْتَقْبَلْتُ الْمَدِينَةَ فَنَادَيْتُ ثَلَاثًا يَا صَبَاحَاهْ ثُمَّ خَرَجْتُ فِي آثَارِ الْقَوْمِ أَرْمِيهِمْ بِالنَّبْلِ وَأَرْتَجِزُ وَأَقُولُ: أَنَا ابْنُ الْأَكْوَعْ وَالْيَوْمُ يَوْمُ الرُّضَّعْ فَمَا زِلْتُ أَرْمِيهِمْ وَأَعْقِرُ بِهِمْ حَتَّى مَا خلَقَ اللَّهُ مِنْ بَعِيرٍ مِنْ ظَهْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا خَلَّفْتُهُ وَرَاءَ ظَهْرِي ثُمَّ اتَّبَعْتُهُمْ أَرْمِيهِمْ حَتَّى أَلْقَوْا أَكْثَرَ مِنْ ثَلَاثِينَ بُرْدَةً وَثَلَاثِينَ رُمْحًا يَسْتَخِفُّونَ وَلَا يَطْرَحُونَ شَيْئًا إِلَّا جَعَلْتُ عَلَيْهِ آرَامًا مِنَ الْحِجَارَةِ يَعْرِفُهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ حَتَّى رَأَيْتُ فَوَارِسَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَحِقَ أَبُو قَتَادَةَ فَارِسُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَبْدِ الرَّحْمَنِ فَقَتَلَهُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَيْرُ فُرْسَانِنَا الْيَوْمَ أَبُو قَتَادَةَ وَخَيْرُ رَجَّالَتِنَا سَلَمَةُ». قَالَ: ثُمَّ أَعْطَانِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَهْمَيْنِ: سَهْمَ الْفَارِسِ وَسَهْمَ الرَّاجِلِ فَجَمَعَهُمَا إِلَيَّ جَمِيعًا ثُمَّ أَرْدَفَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَاءَهُ عَلَى الْعَضْبَاءِ رَاجِعَيْنِ إِلَى الْمَدِينَةِ. رَوَاهُ مُسلم

সালামাহ ইবনুল আকওয়া‘ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় গোলাম রবাহ-কে উট ইত্যাদির তত্ত্বাবধানে (মাদীনার বাইরে) পাঠালেন, আমিও তার সাথে ছিলাম। ভোর হতে না হতেই আকস্মিক আক্রমণ করে (গাফ্ফান গোত্রের অন্যতম দলনেতা) ‘আব্দুর রহমান ফাযারী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উটগুলো লুট করে নিয়ে গেল। (সালামাহ্ বলেন) আমি একটি উচ্চ টিলার উপরে উঠে মাদীনার দিকে মুখ করে তিনবার উচ্চৈঃস্বরে ‘ইয়া সবাহাহ্’ (বিপদ সংকেত) বলে চিৎকার করলাম।অতঃপর আমি লুণ্ঠনকারী শত্রুদলের প্রতি তীর নিক্ষেপ করতে করতে তাদেরকে ধাওয়া করলাম। আর ছন্দ আবৃত্তি করতে থাকলাম— ‘আমি আক্ও‌য়া'-এর স্বনামধন্য পুত্র, আজ মাতৃদুগ্ধ স্মরণের দিন'। অবশেষে আমি তাদের প্রতি অবিরাম তীর নিক্ষেপ করতে করতে অগ্রসর হতে লাগলাম এবং লুণ্ঠিত উটগুলো আমার পশ্চাতে ফেলে রেখে পুনরায় তীর নিক্ষেপ করতে করতে তাদের পিছনে ছুটলাম। পরিশেষে (আমার আক্রমণে তারা অতিষ্ঠ হয়ে) শরীরের বোঝা লাঘবের নিমিত্তে ত্রিশটির অধিক চাদর, কম্বল ও ত্রিশটি বর্শা শরীর হতে ফেলে দ্রুত পালিয়ে গেল।অতঃপর আমি প্রতিটি চাদর কম্বল ও বর্ণার উপরে পাথর চাপা দিয়ে এই চিহ্ন রেখে গেলাম যেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তার সাথীরা এ কথা বুঝতে পারেন যে, এ সমস্ত জিনিসগুলো আমিই শত্রুদের নিকট হতে করায়ত্ত করেছি। এতক্ষণে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তার সাথীদেরকে দেখতে পেলাম। এমন সময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘোড়সওয়ার আবূ ক্বতাদাহ্ (রাঃ) ‘আব্দুর রহমান ফাযারীকে সম্মুখে পেয়ে হত্যা করে ফেললেন।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উৎসাহের সাথে বললেন, আবূ ক্বতাদাহ্ হলো আমাদের ঘোড়সওয়ারীদের মধ্যে উত্তম, আর পদাতিকের মধ্যে সর্বোত্তম হলো সালামাহ্ ইবনুল আয়া'। সালামাহ্ (রাঃ) বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে দু'টি অংশ দিলেন। এক অংশ অশ্বারোহীর এবং আরেক অংশ পদাতিকের। অতঃপর মাদীনায় প্রত্যাবর্তনকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তার 'আযবা নামক উটের উপরে তার পিছনে বসিয়ে নিলেন।

[১] সহীহ : মুসলিম ১৮০৭।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৮৯-[৫]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রাঃ)-এর সাহসী ভূমিকার কথা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর উট লুট হলে তিনি উচ্চ টিলায় উঠে মাদীনার দিকে বিপদ সংকেত দেন। এরপর তিনি শত্রুদের ধাওয়া করেন, তীর নিক্ষেপ করেন এবং লুট হওয়া উটগুলো ফেরত আনার পথে বাধা দেন। শত্রুরা পালাতে গিয়ে চাদর, কম্বল ও বর্শা ফেলে যায়। সালামাহ সেগুলোর ওপর পাথর রেখে চিহ্ন দেন, যেন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ও সাহাবীরা বুঝতে পারেন। পরে আবূ ক্বতাদাহ (রাঃ) শত্রু দলনেতাকে হত্যা করেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) আবূ ক্বতাদাহকে সেরা অশ্বারোহী এবং সালামাহকে সেরা পদাতিক বলেন। এই হাদিসে সতর্কতা, সাহস, গনীমাতের অংশ ও নববী সম্মানের শিক্ষা আছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • বিপদের সময় দ্রুত সতর্ক করা দায়িত্বশীলতার পরিচয়।
  • সাহসী কাজকে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) স্বীকৃতি দিয়েছেন।
  • লুট হওয়া সম্পদ ফেরত আনার চেষ্টা প্রশংসনীয় কাজ।
  • গনীমাতের অংশ নির্ধারণে ভূমিকা ও অবদান বিবেচনা করা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন