১৯/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৯০-[৬] - বিশেষ নাফল পুরস্কারের বিধান
গনীমাতের সম্পদ বণ্টন এবং তা আত্মসাৎ করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয়। এটা নফল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বকর আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই, জিয্ইয়াহ্ও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন। ‘আল্লামা ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’।‘আল্লামা ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেনঃ যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়।
নাফল গনীমাত: সাধারণ অংশের বাইরে বিশেষ পুরস্কার
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৯৯০-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৯৯০-[৬]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُنَفِّلُ بَعْضَ مَنْ يَبْعَثُ مِنَ السَّرَايَا لِأَنْفُسِهِمْ خَاصَّةً سِوَى قِسْمَةِ عَامَّةِ الْجَيْشِ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুদ্ধে প্রেরিত কোনো কোনো সৈন্যকে বিশেষভাবে সাধারণ সৈন্যদের অংশ অপেক্ষা নাফল স্বরূপ অতিরিক্ত কিছু গনীমাত দিতেন।
[১] সহীহ : বুখারী ৩১৩৫, মুসলিম ১৭৫০, আবূ দাঊদ ২৭৪৬, আহমাদ ৬২৫০।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৯০-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু উমার (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) যুদ্ধে পাঠানো কোনো কোনো সৈন্যদলকে সাধারণ সৈন্যদের অংশের বাইরে বিশেষভাবে অতিরিক্ত গনীমাত দিতেন। এই অতিরিক্ত দেওয়াকে নাফল বলা হয়েছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, গনীমাতের বণ্টনে সাধারণ অংশ থাকলেও বিশেষ কাজ, বিশেষ অভিযান বা নির্দিষ্ট দায়িত্বের জন্য অতিরিক্ত দেওয়ার সুযোগ ছিল। তবে তা ব্যক্তিগত লোভে নেওয়ার বিষয় নয়; নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের অধীনে দেওয়া হতো। এই হাদিস গনীমাতের মাল, নাফল পুরস্কার এবং সেনাদলের বিশেষ দায়িত্বের বিষয় বোঝায়। একই সঙ্গে এটি দেখায়, বণ্টনের সবকিছু নিয়ম ও অনুমতির অধীনে ছিল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাধারণ গনীমাতের অংশের বাইরে বিশেষ নাফল দেওয়া হতে পারে।
- নাফল নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের অধীনে দেওয়া হয়।
- বিশেষ দায়িত্ব বা অভিযানের জন্য আলাদা স্বীকৃতি থাকতে পারে।
- গনীমাতের মাল নিজের ইচ্ছায় নেওয়ার সুযোগ নেই।
