১৯/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪০০০-[১৬] - খায়বারে চর্বির থলি পাওয়ার ঘটনা
গনীমাতের সম্পদ বণ্টন এবং তা আত্মসাৎ করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয়। এটা নফল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বকর আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই, জিয্ইয়াহ্ও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন। ‘আল্লামা ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’।‘আল্লামা ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেনঃ যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়।
খায়বারে চর্বির থলি: খাদ্যসামগ্রী ব্যবহারের বর্ণনা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪০০০-[১৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪০০০-[১৬]
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ قَالَ: أَصَبْتُ جِرَابًا مِنْ شَحْمٍ يَوْمَ خَيْبَرَ فَالْتَزَمْتُهُ فَقُلْتُ: لَا أُعْطِي الْيَوْمَ أَحَدًا مِنْ هَذَا شَيْئًا فَالْتَفَتُّ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يبتسم إِلَيّ. مُتَّفق عَلَيْهِ. وَذكر الحَدِيث أَبِي هُرَيْرَةَ «مَا أُعْطِيكُمْ» فِي بَابِ «رِزْقِ الْوُلَاة»
আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
খায়বার যুদ্ধের দিন আমি একটি চর্বিভর্তি থলি পেয়ে উঠিয়ে নিলাম আর (মনে মনে) বলতে লাগলাম, আজ আমি এটা হতে অন্য কাউকেও ভাগ দেব না। এমন সময় পাশে তাকিয়ে দেখি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার দিকে চেয়ে মৃদু হাসছেন। এ সম্পর্কে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ আছে, “শাসনকর্তাদের (কর্মচারীদের) মজুরি” অধ্যায়ে।
[১] সহীহ : বুখারী ৩১৩৫, মুসলিম ১৭৭২, আবূ দাঊদ ২৭০২, নাসায়ী ৪৪৩৫, আহমাদ ১৬৭৯১।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪০০০-[১৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ)-এর ঘটনা এসেছে। খায়বার যুদ্ধের দিন তিনি চর্বিভর্তি একটি থলি পান। তিনি তা তুলে নিয়ে মনে মনে বলেন, আজ তিনি এ থেকে কাউকে কিছু দেবেন না। তখন পাশে তাকিয়ে দেখেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছেন। এই বর্ণনায় খাদ্যসামগ্রী, যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর মৃদু প্রতিক্রিয়া এসেছে। হাদিসের সরাসরি পাঠ থেকে শুধু এতটুকু বলা যায় যে, এটি খাদ্যজাত জিনিসের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ঘটনা। এটিকে সাধারণ গনীমাত আত্মসাতের অনুমতি হিসেবে নেওয়া ঠিক নয়, কারণ একই অধ্যায়ের অন্যান্য বর্ণনায় গনীমাতের খিয়ানত সম্পর্কে কঠিন সতর্কতা এসেছে। তাই এখানে খাদ্যসামগ্রীর নির্দিষ্ট ব্যবহারের দিকটি সতর্কভাবে বোঝা প্রয়োজন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খায়বারে খাদ্যজাত বস্তু পাওয়ার একটি বাস্তব ঘটনা এতে এসেছে।
- চর্বির থলি নেওয়ার সময় নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর মৃদু হাসির কথা বর্ণিত হয়েছে।
- এই বর্ণনাকে গনীমাতের সাধারণ মাল আত্মসাতের অনুমতি বলা ঠিক নয়।
- খাদ্যসামগ্রী ও বণ্টনযোগ্য সম্পদের পার্থক্য বুঝে কথা বলা দরকার।
