১৯/৭. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৯৭-[১৩] - সামান্য খিয়ানতের বড় সতর্কতা

গনীমাতের সম্পদ বণ্টন এবং তা আত্মসাৎ করা - প্রথম অনুচ্ছেদ

গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয়। এটা নফল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বকর আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই, জিয্ইয়াহ্ও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন। ‘আল্লামা ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’।‘আল্লামা ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেনঃ যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়।

গনীমাতের সামান্য জিনিসেও খিয়ানতের ভয়

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৯৯৭-[১৩]

وَعَنْهُ قَالَ: أَهْدَى رَجُلٌ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غُلَامًا يُقَالُ لَهُ: مِدْعَمٌ فَبَيْنَمَا مِدْعَمٌ يَحُطُّ رَحْلًا لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسلم إِذْ أَصَابَهُ سهم عاثر فَقَتَلَهُ فَقَالَ النَّاسُ: هَنِيئًا لَهُ الْجَنَّةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَلَّا وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ إِن الثملة الَّتِي أَخَذَهَا يَوْمَ خَيْبَرَ مِنَ الْمَغَانِمِ لَمْ تُصِبْهَا الْمَقَاسِمُ لَتَشْتَعِلُ عَلَيْهِ نَارًا». فَلَمَّا سَمِعَ ذَلِك النَّاس جَاءَ رجل بشرك أَوْ شِرَاكَيْنِ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «شِرَاكٌ مِنْ نَارٍ أَوْ شِرَاكَانِ من نارٍ»

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

জনৈক ব্যক্তি (বানী দুবার গোত্রীয়) মিদ্‌’আম নামক একটি গোলাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে হাদিয়া স্বরূপ দেন। এক যুদ্ধে সে সওয়ারীর উপর হতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাওদা বা গদি নামাচ্ছিল। অকস্মাৎ কোথা থেকে একটি অজ্ঞাত তীর এসে তার গায়ে বিধল এবং এটাই তাকে হত্যা করে ফেলল; তখন লোকেরা বলে উঠল, তার জন্য জান্নাত মুবারক হোক। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কক্ষনো না। সেই মহান সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ। খায়বার যুদ্ধে গনীমাতের মাল হতে বণ্টন ব্যতিরেকে যে চাদরটি সে আত্মসাৎ করেছে, তা তার উপর অগ্নিরূপে দগ্ধ করবে।এ কথা শুনে এক ব্যক্তির জুতার একটি কিংবা দু'টি ফিতা যা অন্যের অগোচরে লুকিয়ে রেখেছিল, তা নবী (ﷺ) এর নিকট এনে পেশ করল। তখন তিনি (ﷺ) বললেন, এই একটি ফিতা বা দু'টি ফিতার কারণেও জাহান্নামের প্রজ্জ্বলিত আগুন হবে।

[১] সহীহ : বুখারী ৬৭০৭, মুসলিম ১১৫, আবূ দাঊদ ২৭১১, নাসায়ী ৩৮২৭, সহীহ আল জামি‘ ৭০৬৫।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৯৭-[১৩]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মিদআম নামের এক গোলামের ঘটনা এসেছে। তাকে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে হাদিয়া হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। এক যুদ্ধে অজ্ঞাত তীরের আঘাতে সে মারা গেলে লোকেরা বলে, তার জন্য জান্নাত মুবারক হোক। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তা নয়; খায়বার যুদ্ধে গনীমাতের মাল থেকে বণ্টনের আগে যে চাদরটি সে নিয়েছিল, তা তার ওপর আগুন হয়ে জ্বলবে। এই কথা শুনে এক ব্যক্তি লুকিয়ে রাখা জুতার ফিতা বা দুটো ফিতা এনে দেয়। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, একটি ফিতা বা দুটো ফিতাও আগুনের কারণ হতে পারে। এই হাদিস সামান্য খিয়ানতকেও ছোট করে না দেখার কঠিন শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • গনীমাতের সামান্য জিনিসও বণ্টনের আগে নেওয়া যায় না।
  • মানুষের বাহ্যিক মৃত্যু দেখে চূড়ান্ত মন্তব্যে সতর্ক থাকা দরকার।
  • ভয়াবহ সতর্কতা শুনে লুকানো জিনিস ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।
  • একটি ফিতা বা চাদরের মতো জিনিসও আমানতের অংশ হতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন