১৯/৭. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৯৬-[১২] - গনীমাতে খিয়ানতের ভয়াবহ পরিণাম

গনীমাতের সম্পদ বণ্টন এবং তা আত্মসাৎ করা - প্রথম অনুচ্ছেদ

গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয়। এটা নফল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বকর আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই, জিয্ইয়াহ্ও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন। ‘আল্লামা ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’।‘আল্লামা ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেনঃ যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়।

গনীমাতে খিয়ানত: কিয়ামতের কঠিন সতর্কতা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৯৯৬-[১২]

وَعَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ فَذَكَرَ الْغُلُولَ فَعَظَّمَهُ وَعَظَّمَ أَمْرَهُ ثُمَّ قَالَ: لَا أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ يَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رَقَبَتِهِ بَعِيرٌ لَهُ رُغَاءٌ يَقُولُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَغِثْنِي فَأَقُولُ: لَا أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ. لَا أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ يَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رَقَبَتِهِ فُرْسٌ لَهُ حَمْحَمَةٌ فَيَقُولُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَغِثْنِي فَأَقُولُ: لَا أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ لَا أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ يَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رَقَبَتِهِ شَاةٌ لَهَا ثُغَاءٌ يَقُولُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَغِثْنِي فَأَقُولُ: لَا أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ لَا أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ يَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رَقَبَتِهِ نَفْسٌ لَهَا صِيَاحٌ فَيَقُولُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَغِثْنِي فَأَقُولُ: لَا أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ لَا أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ يَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رَقَبَتِهِ رِقَاعٌ تَخْفُقُ فَيَقُولُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَغِثْنِي فَأَقُولُ: لَا أَمْلِكُ لَكَ شَيْئًا قَدْ أَبْلَغْتُكَ لَا أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ يَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رَقَبَتِهِ صَامِتٌ فَيَقُولُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَغِثْنِي فَأَقُولُ: لَا أَمْلِكُ لَكَ شَيْئا قد أبلغتك.وَهَذَا لفظ مُسلم وَهُوَ أتم

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে গনীমাত খিয়ানাত করা যে, মারাত্মক অপরাধ এবং তার পরিণাম ফল যে, খুব ভয়াবহ— এ সম্পর্কে নাসীহাত করার পর সতর্ক বাণী উচ্চারণ করে বলেন, ক্বিয়ামাতের দিন আমি যেন তোমাদের কাউকেও এ অবস্থায় দেখতে না পাই, সে স্বীয় কাঁধের উপর চিৎকাররত একটি উটসহ উপস্থিত হয়ে বলতে থাকবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে রক্ষা করুন! আর আমি বলব, আজ আমার কিছু করার নেই। আমি তো আল্লাহর বিধান আগেই (দুনিয়াতে) জানিয়ে দিয়েছি।তিনি ((ﷺ)) আরো বললেন, আমি তোমাদের কাউকে ক্বিয়ামাতের দিন এ অবস্থায় দেখতে না পাই যে, সে স্বীয় কাঁধের উপর চিৎকাররত একটি বকরী বহন করে আসবে, আর আমাকে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে রক্ষা করুন। আমি বলব, আমার কিছু করার নেই। আমি তো আল্লাহর বিধান আগেই জানিয়ে দিয়েছি। তিনি (ﷺ) আরো বললেন, আমি তোমাদের কাউকে ক্বিয়ামাতের দিন এ অবস্থায় দেখতে না পাই যে, সে স্বীয় কাঁধের উপর চিৎকাররত একটি মানুষকে বহন করে আসবে, আর আমাকে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে রক্ষা করুন। আমি বলব, আমার কিছু করার নেই। আমি তো আল্লাহর বিধান আগেই জানিয়ে দিয়েছি।তিনি (ﷺ) আরো বললেন, আমি তোমাদের কাউকে ক্বিয়ামাতের দিন এ অবস্থায় দেখতে না পাই যে, সে স্বীয় কাঁধের উপর এলোমেলো বিশিষ্ট কাপড়-চোপড় বহন করে আসবে, আর আমাকে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে রক্ষা করুন। আমি বলব, আমার কিছু করার নেই। আমি তো আল্লাহর বিধান আগেই জানিয়ে দিয়েছি। তিনি (ﷺ) আরো বললেন, আমি তোমাদের কাউকে ক্বিয়ামাতের দিন এ অবস্থায় দেখতে না পাই যে, সে স্বীয় কাঁধের উপর জড়ো সম্পদ বহন করে আসবে, আর আমাকে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে রক্ষা করুন। আমি বলব, আমার কিছু করার নেই। আমি তো আল্লাহর বিধান আগেই জানিয়ে দিয়েছি।

[১] সহীহ : বুখারী ৩০৭৩, মুসলিম ১৮৩১, আহমাদ ৯৫০৩, সহীহ আল জামি‘ ৭১৭৩, সহীহ আত্ তারগীব ১৩৪৭।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৯৬-[১২]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) গনীমাতের খিয়ানতকে বড় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, কিয়ামতের দিন কেউ যেন উট, ঘোড়া, বকরী, মানুষ, কাপড় বা জমা সম্পদ কাঁধে নিয়ে হাজির না হয়। সে তখন সাহায্য চাইবে, কিন্তু রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলবেন, তিনি দুনিয়াতেই আল্লাহর বিধান পৌঁছে দিয়েছেন। এখানে গনীমাত খিয়ানত, আমানত ভঙ্গ এবং কিয়ামতের জবাবদিহির কঠিন ছবি এসেছে। ছোট-বড় যে কোনো সম্পদ অন্যায়ভাবে নেওয়া মানুষের জন্য লজ্জা ও শাস্তির কারণ হতে পারে—এ কথা হাদিসের ভাষায় খুব স্পষ্ট। তাই গনীমাতের মাল, সরকারি সম্পদ বা আমানতের মাল নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • গনীমাতের মাল আত্মসাৎ করা গুরুতর অপরাধ।
  • কিয়ামতের দিন অন্যায় নেওয়া সম্পদের হিসাব দিতে হবে।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) আগে থেকেই সতর্ক করে দায়িত্ব শেষ করেছেন।
  • উট, ঘোড়া, বকরী, কাপড় বা সম্পদ—কোনো কিছুই খিয়ানত করা নিরাপদ নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন