১৯/৭. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৯৮-[১৪] - জুব্বা আত্মসাৎ ও জাহান্নামের সতর্কতা

গনীমাতের সম্পদ বণ্টন এবং তা আত্মসাৎ করা - প্রথম অনুচ্ছেদ

গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয়। এটা নফল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বকর আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই, জিয্ইয়াহ্ও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন। ‘আল্লামা ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’।‘আল্লামা ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেনঃ যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়।

গনীমাতের পোশাক আত্মসাৎ: কঠিন সতর্কতার হাদিস

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৯৯৮-[১৪]

وَعَن عبدِ الله بنِ عَمْروٍ قَالَ: كَانَ عَلَى ثَقَلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ كَرْكَرَةُ فَمَاتَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هُوَ فِي النَّارِ» فَذَهَبُوا يَنْظُرُونَ فَوَجَدُوا عَبَاءَةً قد غلها. رَوَاهُ البُخَارِيّ

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

কারকারাহ্ নামক জনৈক ব্যক্তি যুদ্ধে নবী (ﷺ)-এর আসবাবপত্র রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। সে (যুদ্ধে) নিহত হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সে জাহান্নামী। এটা শুনে লোকেরা তার মাল-সামানের সন্ধান করতে গিয়ে দেখতে পেল যে, সে গনীমাতের মাল হতে একটি জুব্বা (পোশাক) খেয়ানত করেছে।

[১] সহীহ : বুখারী ৩০৭৪, ইবনু মাজাহ ২৮৪৯, আহমাদ ৬৪৯৩, সহীহ আত্ তারগীব ১৩৪৪।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৯৮-[১৪]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে কাকারাহ নামের এক ব্যক্তির কথা এসেছে। তিনি যুদ্ধে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আসবাবপত্র রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি মারা গেলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, সে জাহান্নামী। লোকেরা তার মালপত্র খুঁজে দেখে, সে গনীমাতের মাল থেকে একটি জুব্বা বা পোশাক খিয়ানত করেছিল। এই হাদিস গনীমাত খিয়ানতের বিষয়ে খুব সরাসরি সতর্ক করে। দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হলেও আমানতের মাল নিজের জন্য নেওয়ার সুযোগ নেই। বাহ্যিক দায়িত্ব বা নবীর কাছাকাছি থাকা কোনো ব্যক্তিকে খিয়ানত থেকে নিরাপদ করে না। মূল বিষয় হলো, গনীমাতের মাল বণ্টনের আগে নেওয়া আমানত ভঙ্গ। তাই ছোট মনে হওয়া পোশাকও বড় জবাবদিহির কারণ হতে পারে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি আমানতের মাল নিজের জন্য নিতে পারে না।
  • গনীমাতের একটি পোশাকও খিয়ানতের বিষয় হতে পারে।
  • বাহ্যিক অবস্থান নয়, আমানতদারিই মূল বিষয়।
  • মৃত ব্যক্তির ব্যাপারে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সতর্কতা খিয়ানতের ভয় দেখায়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন