২০/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪০৬৬-[৩] - আহলে কিতাবের পাত্র ও শিকার

শিকার ও যবেহ প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ

হারামের বাইরে মুহরিম ছাড়া অন্যদের জন্য শিকার করা হালাল। আর ভক্ষণযোগ্য প্রাণী কেবল শিকারীর জন্য শিকার করা বৈধ। আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়া তা‘আলা বলেন: (وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا) ’’...যখন তোমরা ইহরাম মুক্ত হবে তখন শিকার করতে পার...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ২)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, (وَحُرِّمَ عَلَيْكُمْ صَيْدُ الْبَرِّ مَا دُمْتُمْ حُرُمًا) ’’...তোমরা যতক্ষণ ইহরামে থাকবে ততক্ষণ স্থলে শিকার তোমাদের জন্য হারাম...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৯৬)।এখানে আমর বা নির্দেশসূচক শব্দ দ্বারা মুস্তাহাব উদ্দেশ্য, কেননা তা (শিকার করা একটি উপার্জন এবং এর দ্বারা সৃষ্টিকুলের উপকার হয়, অতএব তা) বৈধ। আসলে এখানে মূল বিষয় হলো আল্লাহ তা‘আলার কথা: (وَمَا عَلَّمْتُمْ مِنَ الْجَوَارِحِ مُكَلِّبِينَ تُعَلِّمُونَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَكُمُ اللهُ) ’’...শিকারী পশু-পাখি যাদেরকে তোমরা শিকার শিখিয়েছ আল্লাহ তোমাদেরকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে তোমরা তাদেরকে শিখিয়ে থাক...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৪)। অর্থাৎ তোমরা যে সকল প্রাণীকে শিকার করার উপর প্রশিক্ষণ দিয়েছ যথাক্রমে কোন হিংস্র প্রাণী, পাখি, কুকুর, চিতাবাঘ, বাজ পাখিসহ অন্যান্য প্রাণী যদি শিকার করে তোমাদের জন্য বহন করে নিয়ে আসে তবে তা থেকে তোমরা খেতে পার। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

আহলে কিতাবের পাত্র ও হালাল শিকার

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪০৬৬-[৩]

وَعَن أبي ثَعْلَبَة الْخُشَنِي قَالَ: قُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنَّا بِأَرْضِ قوم أهل كتاب أَفَنَأْكَلُ فِي آنِيَتِهِمْ وَبِأَرْضِ صَيْدٍ أَصِيدُ بِقَوْسِي وَبِكَلْبِي الَّذِي لَيْسَ بِمُعَلَّمٍ وَبِكَلْبِي الْمُعَلَّمِ فَمَا يصلح؟ قَالَ: «أما ذَكَرْتَ مِنْ آنِيَةِ أَهْلِ الْكِتَابِ فَإِنْ وَجَدْتُمْ غَيْرَهَا فَلَا تَأْكُلُوا فِيهَا وَإِنْ لَمْ تَجِدُوا فاغسلوها وَكُلُوا فِيهَا وَمَا صِدْتَ بِقَوْسِكَ فَذَكَرْتَ اسْمَ اللَّهِ فَكُلْ وَمَا صِدْتَ بِكَلْبِكَ الْمُعَلَّمِ فَذَكَرْتَ اسْمَ اللَّهِ فَكُلْ وَمَا صِدْتَ بِكَلْبِكَ غَيْرِ معلم فأدركت ذَكَاته فَكل»

আবূ সা‘লাবাহ আল-খুশানী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন আমি জিজ্ঞেস করলাম : হে আল্লাহর নবী। আমরা আহলে কিতাবের (অর্থাৎ- ইয়াহুদী-নাসারাদের) এলাকায় বাস করি। সুতরাং আমরা কি তাদের পাত্রে খেতে পারি এবং এমন ভূমিতে বাস করি যেখানে শিকার পাওয়া যায়। আমি আমার তীর-ধনুক দ্বারা এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দ্বারাও শিকার করি। অতএব আমার জন্যে কোনটি (খাওয়া) সঠিক হবে?তিনি (ﷺ) বললেন : আহলে কিতাবের পাত্র সম্পর্কে তুমি যা বললে, যদি তোমরা তাদের পাত্র ছাড়া অন্য পাত্র পাও, তখন আর তাতে খেয়ো না। আর যদি না পাও, তখন তাকে ধুয়ে নাও, তারপর তাতে খাও। আর তুমি তীর-ধনুক দ্বারা যা শিকার করবে, যদি ছাড়ার সময় “বিসমিল্লাহ” পড়ে থাকো, তবে তা খেতে পার। আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর দ্বারা যা শিকার করবে, যদি “বিসমিল্লাহ” পড়ে ছেড়ে থাক তবে তা খাও। কিন্তু প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয় এমন কুকুর দ্বারা যা শিকার করবে, যদি যবেহ করার সুযোগ পাও, তখন তাকে (যবেহ করে) খাও।

[১] সহীহ : সহীহুল বুখারী ৫৪৮৮, মুসলিম ৮/১৯৩০, ইরওয়া ১/৭৫, ৩৭, আল লু’লু’ ওয়াল মারজান ১২৫৯, শারহুস্ সুন্নাহ্ ২২৭১।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪০৬৬-[৩]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে একই সঙ্গে পাত্র ব্যবহারের নিয়ম ও শিকারের বিধান এসেছে। সাহাবি জানতে চান, আহলে কিতাবের এলাকায় তাদের পাত্রে খাওয়া যাবে কি না। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, অন্য পাত্র পাওয়া গেলে তাদের পাত্রে খাবে না। না পাওয়া গেলে ধুয়ে নিয়ে খাবে। এরপর শিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে, তীর-ধনুক দিয়ে শিকার করলে এবং আল্লাহর নাম নেওয়া হলে তা খাওয়া যাবে। প্রশিক্ষিত কুকুর বিসমিল্লাহ বলে ছাড়া হলে তার শিকারও খাওয়া যাবে। অপ্রশিক্ষিত কুকুরের শিকার জীবিত পেলে যবেহ করে খাওয়া যায়। এখানে হালাল শিকার, বিসমিল্লাহ, পাত্রের পবিত্রতা ও সতর্কতার শিক্ষা আছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সন্দেহ হলে পাত্র ধুয়ে ব্যবহার করা নিরাপদ পথ।
  • তীর বা প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে শিকারে আল্লাহর নাম নিতে হবে।
  • অপ্রশিক্ষিত কুকুরের শিকার জীবিত পেলে যবেহ করতে হবে।
  • খাবার ও শিকারে হালাল উপায় মানা জরুরি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন