২০/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪০৬৫-[২] - প্রশিক্ষিত কুকুর ও তীরের শিকার
শিকার ও যবেহ প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ
হারামের বাইরে মুহরিম ছাড়া অন্যদের জন্য শিকার করা হালাল। আর ভক্ষণযোগ্য প্রাণী কেবল শিকারীর জন্য শিকার করা বৈধ। আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়া তা‘আলা বলেন: (وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا) ’’...যখন তোমরা ইহরাম মুক্ত হবে তখন শিকার করতে পার...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ২)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, (وَحُرِّمَ عَلَيْكُمْ صَيْدُ الْبَرِّ مَا دُمْتُمْ حُرُمًا) ’’...তোমরা যতক্ষণ ইহরামে থাকবে ততক্ষণ স্থলে শিকার তোমাদের জন্য হারাম...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৯৬)।এখানে আমর বা নির্দেশসূচক শব্দ দ্বারা মুস্তাহাব উদ্দেশ্য, কেননা তা (শিকার করা একটি উপার্জন এবং এর দ্বারা সৃষ্টিকুলের উপকার হয়, অতএব তা) বৈধ। আসলে এখানে মূল বিষয় হলো আল্লাহ তা‘আলার কথা: (وَمَا عَلَّمْتُمْ مِنَ الْجَوَارِحِ مُكَلِّبِينَ تُعَلِّمُونَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَكُمُ اللهُ) ’’...শিকারী পশু-পাখি যাদেরকে তোমরা শিকার শিখিয়েছ আল্লাহ তোমাদেরকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে তোমরা তাদেরকে শিখিয়ে থাক...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৪)। অর্থাৎ তোমরা যে সকল প্রাণীকে শিকার করার উপর প্রশিক্ষণ দিয়েছ যথাক্রমে কোন হিংস্র প্রাণী, পাখি, কুকুর, চিতাবাঘ, বাজ পাখিসহ অন্যান্য প্রাণী যদি শিকার করে তোমাদের জন্য বহন করে নিয়ে আসে তবে তা থেকে তোমরা খেতে পার। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
প্রশিক্ষিত কুকুর ও তীরের শিকারের বিধান
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪০৬৫-[২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪০৬৫-[২]
وَعَنْهُ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نُرْسِلُ الْكِلَابَ الْمُعَلَّمَةَ قَالَ: «كُلْ مَا أَمْسَكْنَ عَلَيْكَ» قُلْتُ: وَإِنْ قَتَلْنَ؟ قَالَ: «وَإِنْ قَتَلْنَ» قُلْتُ: إِنَّا نَرْمِي بِالْمِعْرَاضِ. قَالَ: «كُلُّ مَا خزق وَمَا أصَاب بعرضه فَقتله فَإِنَّهُ وقيذ فَلَا تَأْكُل»
আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন আমি জিজ্ঞেস করলাম : হে আল্লাহর রাসূল। আমরা প্রশিক্ষিত কুকুর (শিকারের প্রতি) ছেড়ে থাকি। (এ ব্যাপারে কি বিধান?) তিনি (ﷺ) বললেন: যদি কুকুর শিকার ধরে তোমার জন্য রেখে দেয়, তবে তা খেতে পার। আমি জিজ্ঞেস করলাম, যদি তারা শিকারকে মেরে ফেলে? তিনি (ﷺ) বললেন: যদিও মেরে ফেলে। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, আমরা তো (কখনো কখনো তীর-বর্শার ফলক নিক্ষেপ করেও শিকার) করি। (তার বিধান কি?) তিনি (ﷺ) বললেন: যা তীরের ধারে ক্ষত করে সেটা খাও। আর যা তীরের চোট লেগে মরে যায় তা খাবে না। কেননা তা প্রহারে মৃত।
[১] সহীহ : সহীহুল বুখারী ৫৪৭৭, সহীহ মুসলিম ৩৪/১৯২৯, আল লু’লু’ ওয়াল মারজান ১২৫৪, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৩৪১, শারহুস্ সুন্নাহ্ ২৭৭২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪০৬৫-[২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শিকার সম্পর্কে দুইটি বিষয় পরিষ্কার করা হয়েছে। প্রথমত, প্রশিক্ষিত কুকুর যদি শিকার ধরে মালিকের জন্য রেখে দেয়, তবে তা খাওয়া যায়। বর্ণনাকারী জিজ্ঞেস করেন, যদি কুকুর শিকারকে মেরে ফেলে, তখনও নবী صلى الله عليه وسلم খাওয়ার অনুমতি দেন, যখন তা মালিকের জন্য ধরে। দ্বিতীয়ত, তীর-বর্শার ফলক বা ধারালো অংশ দিয়ে শিকার করলে, যদি তা কেটে ক্ষত করে, তা খাওয়া যায়। কিন্তু যদি তীরের চওড়া অংশের আঘাতে প্রাণী মারা যায়, তা খাওয়া যাবে না; কারণ তা প্রহারে মৃত হিসেবে ধরা হয়েছে। এখানে হালাল শিকার, প্রশিক্ষিত কুকুর, ধারালো অস্ত্র ও যবেহের নিয়মের শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রশিক্ষিত কুকুর মালিকের জন্য শিকার ধরলে তা খাওয়া যায়।
- ধারালো অংশে ক্ষত হয়ে মারা যাওয়া শিকার আলাদা বিধানের অধীনে।
- চোট বা আঘাতে মৃত প্রাণী খাওয়া থেকে নিষেধ করা হয়েছে।
- শিকারেও হালাল-হারামের সীমা মানতে হয়।
