২০/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪০৬৭-[৪] - হারিয়ে যাওয়া তীরের শিকার
শিকার ও যবেহ প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ
হারামের বাইরে মুহরিম ছাড়া অন্যদের জন্য শিকার করা হালাল। আর ভক্ষণযোগ্য প্রাণী কেবল শিকারীর জন্য শিকার করা বৈধ। আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়া তা‘আলা বলেন: (وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا) ’’...যখন তোমরা ইহরাম মুক্ত হবে তখন শিকার করতে পার...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ২)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, (وَحُرِّمَ عَلَيْكُمْ صَيْدُ الْبَرِّ مَا دُمْتُمْ حُرُمًا) ’’...তোমরা যতক্ষণ ইহরামে থাকবে ততক্ষণ স্থলে শিকার তোমাদের জন্য হারাম...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৯৬)।এখানে আমর বা নির্দেশসূচক শব্দ দ্বারা মুস্তাহাব উদ্দেশ্য, কেননা তা (শিকার করা একটি উপার্জন এবং এর দ্বারা সৃষ্টিকুলের উপকার হয়, অতএব তা) বৈধ। আসলে এখানে মূল বিষয় হলো আল্লাহ তা‘আলার কথা: (وَمَا عَلَّمْتُمْ مِنَ الْجَوَارِحِ مُكَلِّبِينَ تُعَلِّمُونَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَكُمُ اللهُ) ’’...শিকারী পশু-পাখি যাদেরকে তোমরা শিকার শিখিয়েছ আল্লাহ তোমাদেরকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে তোমরা তাদেরকে শিখিয়ে থাক...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৪)। অর্থাৎ তোমরা যে সকল প্রাণীকে শিকার করার উপর প্রশিক্ষণ দিয়েছ যথাক্রমে কোন হিংস্র প্রাণী, পাখি, কুকুর, চিতাবাঘ, বাজ পাখিসহ অন্যান্য প্রাণী যদি শিকার করে তোমাদের জন্য বহন করে নিয়ে আসে তবে তা থেকে তোমরা খেতে পার। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
চোখের আড়াল হওয়া শিকার খাওয়ার নিয়ম
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪০৬৭-[৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪০৬৭-[৪]
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا رَمَيْتَ بِسَهْمِكَ فَغَابَ عَنْكَ فَأَدْرَكْتَهُ فَكُلْ مَا لَمْ يُنْتِنْ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আবূ সা‘লাবাহ আল-খুশানী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যদি তুমি শিকারের প্রতি তোমার তীর নিক্ষেপ করো এবং তা তোমার দৃষ্টির অগোচর হয়ে যায়, আর পরে তাকে পাও, তখন তাতে দুর্গন্ধ না হওয়া পর্যন্ত খেতে পার।
[১] সহীহ : সহীহ মুসলিম ৫০৯৪, সুনান আবূ দাঊদ ২৮৪৯, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ১৫৫, দারাকুত্বনী ৯০, আহমাদ ১৭৭৪৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪০৬৭-[৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তীর দিয়ে শিকার করার একটি নির্দিষ্ট অবস্থা বলা হয়েছে। কেউ শিকারের দিকে তীর ছুড়ল, তারপর শিকার তার চোখের আড়াল হয়ে গেল। পরে সে শিকারটি পেল। তখন নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যতক্ষণ তা দুর্গন্ধযুক্ত না হয়, খেতে পারে। এখানে মূল বিষয় হলো তীরের শিকার, হারিয়ে যাওয়া শিকার এবং পরে পাওয়া শিকারের বিধান। এই হাদিস শিকারিকে সতর্ক করে যে, খাবার গ্রহণের আগে প্রাণীটির অবস্থা দেখতে হবে। দুর্গন্ধ দেখা দিলে তা আর স্বাভাবিক খাওয়ার উপযোগী থাকে না। তাই হালাল শিকার শুধু ধরার বিষয় নয়; পরে পাওয়ার সময় অবস্থাও বিবেচনা করতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তীরের শিকার হারিয়ে গেলে পরে পাওয়ার অবস্থাও দেখা দরকার।
- দুর্গন্ধ দেখা দিলে তা খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
- শিকারের বিধানে সতর্কতা ও যাচাই আছে।
- হালাল খাবারে পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ অবস্থা গুরুত্ব পায়।
