২০/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪০৬৮-[৫] - তিন দিন পর পাওয়া শিকার
শিকার ও যবেহ প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ
হারামের বাইরে মুহরিম ছাড়া অন্যদের জন্য শিকার করা হালাল। আর ভক্ষণযোগ্য প্রাণী কেবল শিকারীর জন্য শিকার করা বৈধ। আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়া তা‘আলা বলেন: (وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا) ’’...যখন তোমরা ইহরাম মুক্ত হবে তখন শিকার করতে পার...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ২)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, (وَحُرِّمَ عَلَيْكُمْ صَيْدُ الْبَرِّ مَا دُمْتُمْ حُرُمًا) ’’...তোমরা যতক্ষণ ইহরামে থাকবে ততক্ষণ স্থলে শিকার তোমাদের জন্য হারাম...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৯৬)।এখানে আমর বা নির্দেশসূচক শব্দ দ্বারা মুস্তাহাব উদ্দেশ্য, কেননা তা (শিকার করা একটি উপার্জন এবং এর দ্বারা সৃষ্টিকুলের উপকার হয়, অতএব তা) বৈধ। আসলে এখানে মূল বিষয় হলো আল্লাহ তা‘আলার কথা: (وَمَا عَلَّمْتُمْ مِنَ الْجَوَارِحِ مُكَلِّبِينَ تُعَلِّمُونَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَكُمُ اللهُ) ’’...শিকারী পশু-পাখি যাদেরকে তোমরা শিকার শিখিয়েছ আল্লাহ তোমাদেরকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে তোমরা তাদেরকে শিখিয়ে থাক...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৪)। অর্থাৎ তোমরা যে সকল প্রাণীকে শিকার করার উপর প্রশিক্ষণ দিয়েছ যথাক্রমে কোন হিংস্র প্রাণী, পাখি, কুকুর, চিতাবাঘ, বাজ পাখিসহ অন্যান্য প্রাণী যদি শিকার করে তোমাদের জন্য বহন করে নিয়ে আসে তবে তা থেকে তোমরা খেতে পার। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
তিন দিন পর পাওয়া শিকারের বিধান
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪০৬৮-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪০৬৮-[৫]
وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي الَّذِي يُدْرِكُ صَيْدَهُ بَعْدَ ثَلَاثٍ: «فكله مَا لم ينتن». رَوَاهُ مُسلم
আবূ সা‘লাবাহ আল-খুশানী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে ব্যক্তি তিনদিন পর তার শিকার পায়, সে ব্যক্তি সম্পর্কে নবী (ﷺ) বলেছেন : তা দুর্গন্ধময় না হওয়া পর্যন্ত খেতে পারে।
[১] সহীহ : সহীহ মুসলিম ৫০৯৫, নাসায়ী ৪৩০৩, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৩৮৪, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৮০২২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪০৬৮-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এমন ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যে তিন দিন পর নিজের শিকার খুঁজে পায়। নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, তা দুর্গন্ধযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত খেতে পারে। এখানে শিকার খাওয়ার অনুমতির সঙ্গে একটি পরিষ্কার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে—প্রাণীটির অবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে কি না তা দেখতে হবে। হাদিসটি তীরের শিকার বা হারিয়ে যাওয়া শিকারের আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে বোঝা যায়, শিকার পাওয়ার সময় শুধু মালিকানা নয়, খাবারের উপযোগী অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই হালাল শিকার, হারানো শিকার ও খাদ্য নিরাপত্তার মতো বিষয় এই বর্ণনায় সহজভাবে উঠে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিকার দেরিতে পাওয়া গেলে তার অবস্থা যাচাই করতে হবে।
- দুর্গন্ধময় হলে খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
- শিকার বিধানে খাবারের নিরাপদ অবস্থা গুরুত্ব পায়।
- অনুমতির সঙ্গে শর্ত মানাও দ্বীনের শিক্ষা।
