২০/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৩১-[২৮] - সন্ধিবদ্ধদের সম্পদের অধিকার
যেসব প্রাণী খাওয়া হালাল ও হারাম - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
গনীমাত হলো ঐ সম্পদ যা মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মাধ্যমে (তাদের নিকট থেকে) অর্জিত হয় এটা নাল থেকে ‘আম বা ব্যাপক, আর ফাই হলো গনীমাত থেকে ‘আম্। কেননা আহলে শির্ক থেকে মুসলিমদের হাতে অর্জিত সকল সম্পদই গনীমাত। আবূ বাক্ আর্ রাযী (রহঃ) বলেন, গনীমাত ফাই জিয্ইয়াও ফাই, সন্ধি চুক্তিবদ্ধের সম্পদও ফাই, জমির খিরাজ বা খাজনাও ফাই; কেননা এর প্রত্যেকটি মুশরিকদের নিকট থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের হাতে সমর্পণ করেছেন।‘আল্লামাহ্ ত্বীবী উল্লেখ করেছেন, ফুকাহাগণের অনেকের মতে মুশরিকদের নিকট থেকে যে মালই গ্রহণ বৈধ সেটাই ‘ফাই’। ‘আল্লামাহ্ ইবনুল হুমাম (রহঃ) বলেন : যুদ্ধের মাধ্যমে মুশরিকদের নিকট থেকে যা নেয়া হয় তাকে গনীমাত বলা হয়। আর যুদ্ধ ছাড়া যা অর্জিত হয় যেমন জিয্ইয়াহ্, খিরাজ ইত্যাদি তাকে ‘ফাই’ বলা হয়। ৩৯৮৫-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আমাদের পূর্বে কারো জন্য গনীমাতের মাল (ভোগ করা) জায়িয ছিল না। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা দেখে তা আমাদের জন্য জায়িয করে দিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম) ১২২৫
মু'আহিদের সম্পদ: ন্যায্য অধিকার ছাড়া হালাল নয়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪১৩১-[২৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪১৩১-[২৮]
وَعَنْهُ قَالَ: غَزَوْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ خَيْبَرَ فَأَتَتِ الْيَهُودُ فَشَكَوْا أَنَّ النَّاسَ قَدْ أَسْرَعُوا إِلَى خَضَائِرِهِمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلَا لَا يَحِلُّ أَمْوَالُ المعاهِدينَ إِلاَّ بحقِّها». رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
খায়বার যুদ্ধের দিন আমি নবী (ﷺ)-এর সাথে শারীক ছিলাম। (এ সময়) ইয়াহূদীরা এসে এ অভিযোগ করল যে, (যুদ্ধরত) লোকেরা তাদের ফলা-ফলাদির প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘোষণা করলেন : সাবধান! সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ এমন লোকেদের মাল-সম্পদ ন্যায্য অধিকার ছাড়া হালাল নয়।
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩৮০৬, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৩৭৩৫, মুসনাদে আহমাদ ইবনু হাম্বাল ১৬৮৬২, সিলসিলাতুয্ য‘ঈফাহ্ ৩৯০২, য‘ঈফুল জামি‘ ২২৫৮। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ হলো, এর সনদে ‘‘ইয়াহ্ইয়া ইবনু মিকদার’’ নামে একজন য‘ঈফ রাবী আছে। তার ব্যাপারে ইমাম বুখারী বলেন, ‘‘ফীহি নাযরুন’’। ‘‘তাকরীবের’’ মধ্যে ইবনু হিব্বান বলেন, লাইয়্যিনুন বা দুর্বল। বিস্তারিত সিলসিলাতুয্ য‘ঈফাহ্ ৮/৩৭৩, হাঃ ৩৯০২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৩১-[২৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খায়বার যুদ্ধের সময়ের একটি ঘটনা এসেছে। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সাথে ছিলেন। তখন ইয়াহূদীরা অভিযোগ করল যে, লোকেরা তাদের ফসল বা ফল-ফলাদির দিকে দ্রুত ঝুঁকে পড়েছে। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ঘোষণা করলেন, সাবধান! সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ লোকদের মাল-সম্পদ ন্যায্য অধিকার ছাড়া হালাল নয়। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, যুদ্ধ বা কঠিন অবস্থাতেও অন্যের সম্পদ নেওয়া বৈধ হয়ে যায় না। চুক্তিবদ্ধ মানুষের সম্পদ, অধিকার এবং নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে। ‘অন্যের মাল হালাল নয়’—এই কথাটি এখানে খুব পরিষ্কার। ইসলামের শিক্ষা শুধু ইবাদতে নয়, মানুষের সম্পদ ও অধিকার রক্ষাতেও প্রকাশ পায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চুক্তিবদ্ধ মানুষের সম্পদ ন্যায্য অধিকার ছাড়া নেওয়া যায় না।
- অভিযোগ উঠলে নবী (صلى الله عليه وسلم) স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন।
- যুদ্ধের অবস্থাতেও সম্পদের অধিকার রক্ষা করতে হয়।
