২১/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৯১-[৩৩] - মাদীনার আজওয়া খেজুরের শিফা
খাদ্য - প্রথম অনুচ্ছেদ
أطعمة(আত্ব‘ইমাহ্) শব্দটি বহুবচন। এর একবচন হলطَعَامٌ(ত্ব‘আ-মুন)। অর্থ হলো, যে জিনিস খাওয়া বা ভক্ষণ করা হয়ে থাকে। এখানেأطعمة(আত্ব‘ইমাহ্) দ্বারা ভক্ষণীয় ও পানীয় উভয় ধরনের বস্তু উদ্দেশ্য। কিন্তু ভক্ষণীয় জিনিসকে প্রাধান্য দিয়ে লেখক শিরোনাম তৈরি করেছেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)মূলত এ অধ্যায়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেসব খাবার খেয়েছেন, পান করেছেন অথবা খাননি, পানও করেননি তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। আর খাবার ও পান করার আদব বা শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়া হয়েছে।[সম্পাদক]
মাদীনার আজওয়া খেজুরে শিফার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪১৯১-[৩৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪১৯১-[৩৩]
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ فِي عَجْوَةِ الْعَالِيَةِ شِفَاءً وَإِنَّهَا تِرْيَاقٌ أَوَّلَ البكرة». رَوَاهُ مُسلم
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : মাদীনার উচ্চভূমির ‘আজওয়াহ্ খেজুরের মধ্যে রোগের নিরাময় রয়েছে। আর প্রথম ভোরে তা (খাওয়া) বিষের প্রতিষেধক।
[১] সহীহ : মুসলিম (৫৪৬২)-২৭, সহীহুল জামি‘ ৩৮৯৮, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৩৫৩৯, মুসনাদে আহমাদ ২৪৭৩৭, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৩৪৮০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪১৯১-[৩৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, মাদীনার উচ্চভূমির আজওয়াহ খেজুরের মধ্যে রোগের নিরাময় আছে। আর প্রথম ভোরে তা বিষের প্রতিষেধক। এই বর্ণনায় আজওয়া খেজুরের একটি বিশেষ দিক এসেছে। এখানে মাদীনার উচ্চভূমির আজওয়া খেজুরের কথা বলা হয়েছে এবং ভোরের সময়ের কথাও উল্লেখ আছে। তাই আজওয়া খেজুরের শিফা নিয়ে কথা বলার সময় হাদিসের ভাষা ও সীমা মানা উচিত। এই হাদিস আমাদের আল্লাহর নেয়ামত চিনতে শেখায়। খাবার শুধু স্বাদের জন্য নয়; আল্লাহ চাইলে তা মানুষের জন্য উপকারের মাধ্যমও হতে পারে। আজওয়া খেজুরের হাদিস হিসেবে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মাদীনার উচ্চভূমির আজওয়া খেজুরে শিফার কথা এসেছে।
- বর্ণনায় ভোরে খাওয়ার সঙ্গে বিষের প্রতিষেধকের কথা উল্লেখ আছে।
- খাবারের উপকার আল্লাহর দান হিসেবে দেখা উচিত।
- হাদিসের নির্দিষ্ট শব্দ ও সীমা রক্ষা করে ব্যাখ্যা করা দরকার।
