২১/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২০৫-[৪৭] - খেয়ে শুকরিয়া আদায়কারীর মর্যাদা
খাদ্য - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
(আরবি) দ্বারা উদ্দেশ্য (আরবি) অর্থাৎ পরস্পর দু’দলের মধ্যে সন্ধি স্থাপন। ইবনুল হুমাম বলেন : ইমাম যদি মনে করেন যে, শত্রুপক্ষের মালের বিনিময়ে অথবা মাল ব্যতিরেকেই সন্ধি করার মধ্যে কল্যাণ নিহিত আছে তাহলে তিনি সন্ধি করতে পারেন। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেন : “তারা যদি শান্তির (সন্ধির) দিকে ঝুঁকে পড়ে তাহলে তুমি সেদিকে ঝুঁকে পড়ো।” (সূরাহ্ আল আনফাল ৮ : ৬১) যদিও আয়াতে কল্যাণের কথা উল্লেখ নেই তথাপি ফাকীহগণ একমত যে, মুসলিমদের কল্যাণ আছে বলে ইমামের নিকট সাব্যস্ত হলে তবেই শুধুমাত্র সন্ধি করা বৈধ। আর যদি সন্ধির মধ্যে কোনো কল্যাণ পরিলক্ষিত না হয় তাহলে সন্ধি করা বৈধ নয়।
খাবার খেয়ে শুকরিয়া আদায়ের মর্যাদা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪২০৫-[৪৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪২০৫-[৪৭]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الطَّاعِمُ الشَّاكِرُ كَالصَّائِمِ الصابر». رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : খাবার খেয়ে শুকরিয়া আদায়কারী সংযমী সায়িমের (রোযাদারের) ন্যায় (সাওয়াবের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়)।
[১] সহীহ : তিরমিযী ২৪৮৬, ইবনু মাজাহ ১৭৬৪, ১৭৬৫; দারিমী ২০২৪, সহীহ ইবনু হিব্বান ৩১৫, সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ১৮৯৮, মুসনাদে আহমাদ ৭৮০৬, সহীহুল জামি‘ ৩৯৪৩, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৬৫৫, মুসান্নাফ ‘আবদুর রায্যাক ১৯৫৭৩, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৯২৫, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮৭৮২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪২০৫-[৪৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি খাবার খায় এবং শুকরিয়া আদায় করে, সে ধৈর্যশীল রোযাদারের মতো মর্যাদা পায়। এখানে খাবার খাওয়া নিজে আলাদা কোনো বড় দাবি নয়; বরং খাবার পাওয়ার পর আল্লাহকে স্মরণ করা এবং কৃতজ্ঞ থাকা মূল বিষয়। একজন রোযাদার ধৈর্য ধরে আল্লাহর সন্তুষ্টি চায়। আর খাবার খেয়ে শুকরিয়া আদায়কারী ব্যক্তি আল্লাহর দানকে চিনে নেয়। তাই এই হাদিসে কৃতজ্ঞতা ও ধৈর্যের সুন্দর সম্পর্ক দেখা যায়। “খাবার খেয়ে শুকরিয়া” এবং “আলহামদুলিল্লাহ বলা” দৈনন্দিন জীবনের সহজ আমল। এতে মানুষ খাবারকে অহংকারের নয়, বরং আল্লাহর দয়া হিসেবে দেখতে শেখে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খাবার খেয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা গুরুত্বপূর্ণ।
- কৃতজ্ঞতা মানুষকে আল্লাহর দানের কথা মনে করায়।
- রোযাদারের ধৈর্য ও খাদ্যগ্রহণকারীর শুকরিয়া—দুটিই মূল্যবান আমল।
- দৈনন্দিন খাবারও ইবাদতের অনুভূতি জাগাতে পারে।
