২২/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৩৬১-[৫৮] - আমানতদারি ও আল্লাহভীরুতা

পোশাক-অধ্যায় - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

আমানতদারি ও নবীজির সততার শিক্ষা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৩৬১-[৫৮]

وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَوْبَانِ قِطْرِيَّانِ غَلِيظَانِ وَكَانَ إِذا قعد فرق ثَقُلَا عَلَيْهِ فَقَدِمَ بَزٌّ مِنَ الشَّامِ لِفُلَانٍ الْيَهُودِيِّ. فَقُلْتُ: لَوْ بَعَثْتَ إِلَيْهِ فَاشْتَرَيْتَ مِنْهُ ثَوْبَيْنِ إِلَى الْمَيْسَرَةِ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَقَالَ: قَدْ عَلِمْتُ مَا تُرِيدُ إِنَّمَا تُرِيدُ أَنْ تَذْهَبَ بِمَالِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَذَبَ قَدْ عَلِمَ أَنِّي مِنْ أَتْقَاهُمْ وآداهُم للأمانة».رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ)-এর ব্যবহারের দুটি ক্বিত্বরি মোটা কাপড় ছিল। যখন তিনি (তা পরিধান করে) বসতেন এবং ঘর্মাক্ত হতেন, তখন কাপড় দুটি তাঁর উপরে ভারী হয়ে যেত। (এমনি সময়) সিরিয়া হতে জনৈক ইয়াহুদীর কিছু কাপড় এলো। তখন আমি বললাম : আপনি যদি কাউকে তার কাছে পাঠিয়ে সাধ্যমত দুটি কাপড় ক্রয় করতেন মূল্য পরিশোধের শর্তে, তাহলে কতই না ভালো হত।অতঃপর তিনি (ﷺ) এক ব্যক্তিকে তার (ইয়াহুদীর) নিকট পাঠালেন। তখন সে (ইয়াহুদী) বলল আমি তোমার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছি, তুমি আমার মালটি আত্মসাৎ করতে চেয়েছ। (ইয়াহুদী বাহ্যত কথাটি প্রেরিত লোকটিকে বললেও প্রকৃতপক্ষে নবী (ﷺ)-কেই উদ্দেশ্য করে বলেছিল। লোকটি এসে নবী (ﷺ)-কে উক্তিটি জানাল।) তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : সে (ইয়াহুদী) মিথ্যা বলেছে। সে নিশ্চিতভাবে জানে যে, আমি তাদের সকলের চেয়ে অধিক আল্লাহভীরু এবং আমানত রক্ষাকারী।

[১] সহীহ : তিরমিযী ১২১৩, নাসায়ী ৪৬২৮, মুসনাদে আহমাদ ২৫১৮৪, সুনানুন্ নাসায়ী আল কুবরা ৬২২৪, হিলইয়াতুল আওলিয়া ৩/৩৪৭।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৩৬১-[৫৮]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সাধারণ জীবন, প্রয়োজনের সময় ক্রয়-বিক্রয় এবং আমানতদারির সুন্দর দিক দেখা যায়। তাঁর ব্যবহারের মোটা কাপড় ঘামের কারণে ভারী হয়ে যেত। তাই আয়িশাহ (রা.) পরামর্শ দিলেন, সিরিয়া থেকে আসা কাপড়ের মালিকের কাছ থেকে শর্তসাপেক্ষে কাপড় কেনা যেতে পারে। কিন্তু সেই ব্যক্তি ভুল ধারণা করে অপবাদ দিল যে, নবীজি যেন তার মাল আত্মসাৎ করতে চান। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) স্পষ্ট করে বললেন, সে জানে আমি তাদের সবার চেয়ে বেশি আল্লাহভীরু এবং আমানত রক্ষাকারী। এখানে মূল শিক্ষা হলো, সত্যবাদিতা ও আমানতদারি মুমিনের বড় পরিচয়। লেনদেনের ক্ষেত্রে বিশ্বাস, সততা এবং দায়িত্ববোধ ইসলামী আদবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • লেনদেনে সততা ও আমানত রক্ষা করা নবীজির আদর্শের অংশ।
  • অপবাদ এলে সত্য ও চরিত্রের দৃঢ়তা দিয়ে জবাব দেয়া উচিত।
  • প্রয়োজনের সময় বৈধভাবে শর্তসাপেক্ষে ক্রয় করা দোষের নয়।
  • আল্লাহভীরুতা মানুষের আচরণ ও লেনদেনে প্রকাশ পায়।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন