২৩/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫২০-[৭] - কালোজিরার চিকিৎসাগুণ
চিকিৎসা ও মন্ত্র - প্রথম অনুচ্ছেদ
ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, চিকিৎসাশাস্ত্রের মৌলিক উদ্দেশ্য তিনটি। শারীরিক সুস্থতার সংরক্ষণ, দুর্ভোগ ও কষ্ট লাঘব এবং শরীর হতে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। আলোচ্য অধ্যায়ে দু’ প্রকার চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে।প্রথমত শারীরিক চিকিৎসা, মূলত এটিই এখানে উদ্দেশ্য।দ্বিতীয়ত অন্তরের চিকিৎসা, যার মৌলিক উপাদান হচ্ছে নবী (ﷺ) কর্তৃক আনীত আল্লাহ তা‘আলার বাণী মহাগ্রন্থ আল কুরআন।শারীরিক ব্যাধির চিকিৎসার বিষয়টি হাদীসে বিভিন্নভাবে এসেছে যা ত্বিবিব নবী হিসেবে পরিচিত।অন্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয়। শারীরিক ব্যাধির এ চিকিৎসা আবার দুই ধরনের। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে প্রাণীকুলের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত কিছু প্রাকৃতিক বিষয়, যেমন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা। অন্যটি চিন্তা-ভাবনা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য।ইসলামী শারী‘আর আলোকে চিকিৎসার আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে ঝাড়ফুঁক। যা বাস্তবসম্মত ও পরীক্ষিত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। ইমাম বাযযার (রহিমাহুল্লাহ) ‘উরওয়াহ্ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বললাম, আপনি চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কীয় প্রচুর জ্ঞান কিভাবে অর্জন করলেন? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিভিন্ন সময়ের ব্যাধিতে ‘আরব চিকিৎসকগণ তাঁর চিকিৎসার প্রাক্কালে আমি এ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছি।ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কে নবী (ﷺ) হতে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ সম্পর্কে বিভিন্ন গ্রন্থও রচিত হয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রের উৎপত্তি সম্পর্কে অনেক মতামত বিদিত রয়েছে। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ কথা হচ্ছে এ সম্পর্কিত কতক বিষয় নবীগণ ওয়াহীর মাধ্যমে অবগত হয়েছেন। তবে অধিকাংশ বিষয়ই অভিজ্ঞতালব্ধ।ইমাম বাযযার ও ত্ববারানী (রহিমাহুমাল্লাহ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ সুলায়মান (আঃ) যখনই সালাতে দাঁড়াতেন তিনি তাঁর সম্মুখে একটি বৃক্ষ দেখতে পেতেন। তিনি বৃক্ষটিকে বলতেন, তোমার নাম কী? সেটি তার নাম উল্লেখ করলে, আবারো জিজ্ঞেস করতেন। তুমি কী জন্য? সেটি ঔষধি হলে তিনি তা লিখে রাখতেন ও পরে তা রোপণ করতেন।অত্র অধ্যায়ের সারমর্ম এই যে, প্রত্যেক মানুষের সুস্থতা ও অসুস্থতা আল্লাহর পক্ষ হতে লিখিত ভাগ্যলিপির অংশ। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
কালোজিরা সম্পর্কে নববী চিকিৎসার হাদিস
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৫২০-[৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫২০-[৭]
وَعَن أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «فِي الْحَبَّةِ السَّوْدَاءِ شِفَاءٌ مِنْ كُلِّ دَاءٍ إِلَّا السَّامَ». قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: السَّامُ: الْمَوْتُ وَالْحَبَّةُ السَّوْدَاءُ: الشُّونِيزُ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : কালোজিরার মধ্যে একমাত্র মৃত্যু ছাড়া আর সকল রোগের চিকিৎসা নিহিত আছে। ইবনু শিহাৰ (রহঃ) বলেছেন : “সাম” অর্থ মৃত্যু। আর “হাব্বাতুস্ সাওদা” অর্থ শূনীয বা কালোজিরা।
[১] সহীহ : বুখারী ৫৬৮৭, ৫৬৮৮; মুসলিম (২২১৫)-৮৮, ইবনু মাজাহ ৩৪৪৭, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৮৫৯, ১০৬৯; আল জামি‘উস্ সগীর ৭৬৯৬, সহীহুল জামি‘ ৪২৪৭, আহমাদ ৭৫৫৭, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৫৯১৮, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ১০৫, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৪৯৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫২০-[৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কালোজিরার মধ্যে একমাত্র মৃত্যু ছাড়া সব রোগের চিকিৎসা রয়েছে। বর্ণনায় ইবনু শিহাব (রহিমাহুল্লাহ) ব্যাখ্যা করেছেন, সাম অর্থ মৃত্যু এবং হাব্বাতুস সাওদা অর্থ শূনীয বা কালোজিরা। এটি নববী চিকিৎসা সম্পর্কিত একটি বিখ্যাত শিক্ষা। তবে হাদিসের ভাষা বুঝতে ভারসাম্য দরকার। কালোজিরাকে উপকারী চিকিৎসা উপায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু মৃত্যু থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে নয়; কারণ হাদিসেই মৃত্যু ব্যতিক্রম করা হয়েছে। তাই কালোজিরা, চিকিৎসা ও আল্লাহর দেওয়া উপায়—এই তিনটি বিষয় মনে রাখা দরকার। অসুস্থতায় চিকিৎসা নেওয়া, উপকারী বস্তু ব্যবহার করা এবং ফল আল্লাহর হাতে জানা—এটাই হাদিসের সুন্দর শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কালোজিরার মধ্যে চিকিৎসাগুণ থাকার কথা হাদিসে এসেছে।
- মৃত্যুকে এই বর্ণনায় ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- ইবনু শিহাব (রহিমাহুল্লাহ) সাম ও হাব্বাতুস সাওদার অর্থ ব্যাখ্যা করেছেন।
- উপকারী চিকিৎসা উপায় গ্রহণের সঙ্গে আল্লাহর উপর ভরসা রাখা দরকার।
