২৩/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫১৯-[৬] - চিকিৎসক পাঠিয়ে রগ কেটে দাগ দেওয়া

চিকিৎসা ও মন্ত্র - প্রথম অনুচ্ছেদ

ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, চিকিৎসাশাস্ত্রের মৌলিক উদ্দেশ্য তিনটি। শারীরিক সুস্থতার সংরক্ষণ, দুর্ভোগ ও কষ্ট লাঘব এবং শরীর হতে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। আলোচ্য অধ্যায়ে দু’ প্রকার চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে।প্রথমত শারীরিক চিকিৎসা, মূলত এটিই এখানে উদ্দেশ্য।দ্বিতীয়ত অন্তরের চিকিৎসা, যার মৌলিক উপাদান হচ্ছে নবী (ﷺ) কর্তৃক আনীত আল্লাহ তা‘আলার বাণী মহাগ্রন্থ আল কুরআন।শারীরিক ব্যাধির চিকিৎসার বিষয়টি হাদীসে বিভিন্নভাবে এসেছে যা ত্বিবিব নবী হিসেবে পরিচিত।অন্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয়। শারীরিক ব্যাধির এ চিকিৎসা আবার দুই ধরনের। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে প্রাণীকুলের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত কিছু প্রাকৃতিক বিষয়, যেমন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা। অন্যটি চিন্তা-ভাবনা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য।ইসলামী শারী‘আর আলোকে চিকিৎসার আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে ঝাড়ফুঁক। যা বাস্তবসম্মত ও পরীক্ষিত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। ইমাম বাযযার (রহিমাহুল্লাহ) ‘উরওয়াহ্ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বললাম, আপনি চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কীয় প্রচুর জ্ঞান কিভাবে অর্জন করলেন? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিভিন্ন সময়ের ব্যাধিতে ‘আরব চিকিৎসকগণ তাঁর চিকিৎসার প্রাক্কালে আমি এ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছি।ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কে নবী (ﷺ) হতে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ সম্পর্কে বিভিন্ন গ্রন্থও রচিত হয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রের উৎপত্তি সম্পর্কে অনেক মতামত বিদিত রয়েছে। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ কথা হচ্ছে এ সম্পর্কিত কতক বিষয় নবীগণ ওয়াহীর মাধ্যমে অবগত হয়েছেন। তবে অধিকাংশ বিষয়ই অভিজ্ঞতালব্ধ।ইমাম বাযযার ও ত্ববারানী (রহিমাহুমাল্লাহ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ সুলায়মান (আঃ) যখনই সালাতে দাঁড়াতেন তিনি তাঁর সম্মুখে একটি বৃক্ষ দেখতে পেতেন। তিনি বৃক্ষটিকে বলতেন, তোমার নাম কী? সেটি তার নাম উল্লেখ করলে, আবারো জিজ্ঞেস করতেন। তুমি কী জন্য? সেটি ঔষধি হলে তিনি তা লিখে রাখতেন ও পরে তা রোপণ করতেন।অত্র অধ্যায়ের সারমর্ম এই যে, প্রত্যেক মানুষের সুস্থতা ও অসুস্থতা আল্লাহর পক্ষ হতে লিখিত ভাগ্যলিপির অংশ। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

চিকিৎসক পাঠিয়ে চিকিৎসা করানোর হাদিস

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫১৯-[৬]

وَعَنْهُ قَالَ: بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى أُبيِّ بن كَعْب طَبِيبا فَقَطَعَ مِنْهُ عِرْقًا ثُمَّ كَوَاهُ عَلَيْهِ. رَوَاهُ مُسلم

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ)-এর নিকট একজন চিকিৎসক পাঠালেন, সে তাঁর একটি রগ কেটে পরে তা দাগাল।

[১] সহীহ : মুসলিম (২২০৭)-৭৩, শু‘আবুল ঈমান ১১৬৩, মা‘রিফাতুস্ সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাক্বী ৫৯৫৪, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৩৬২৯, আহমাদ ১৪৩৭৯, ‘বায়হাক্বী’র কুবরা ২০০৩১, মুসতাদরাক লিল হাকিম ৭৪৯৪।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫১৯-[৬]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ)-এর কাছে একজন চিকিৎসক পাঠালেন। চিকিৎসক তাঁর একটি রগ কাটলেন এবং পরে সেই স্থানে দাগ দিলেন। এই বর্ণনা থেকে চিকিৎসা গ্রহণের একটি বাস্তব দিক দেখা যায়। নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজে চিকিৎসক পাঠিয়েছেন—এতে অসুস্থ বা আহত ব্যক্তির জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়ার গুরুত্ব বোঝা যায়। এখানে রগ কাটা ও দাগ দেওয়া একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে এসেছে। তাই এই হাদিসকে সাধারণভাবে সব অবস্থায় একই চিকিৎসা করার নির্দেশ হিসেবে নেওয়া ঠিক নয়। মূল শিক্ষা হলো, প্রয়োজন হলে দক্ষ চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া যায় এবং রোগীর জন্য ব্যবস্থা করা উত্তম কাজ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ)-এর কাছে চিকিৎসক পাঠিয়েছেন।
  • চিকিৎসকের মাধ্যমে রগ কেটে দাগ দেওয়ার ঘটনা এই বর্ণনায় এসেছে।
  • অসুস্থ বা আহত ব্যক্তির জন্য চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
  • চিকিৎসা পদ্ধতি নির্দিষ্ট অবস্থা ও প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন