২৩/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫১৭-[৪] - আঘাতে দাগ দেওয়ার চিকিৎসা

চিকিৎসা ও মন্ত্র - প্রথম অনুচ্ছেদ

ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, চিকিৎসাশাস্ত্রের মৌলিক উদ্দেশ্য তিনটি। শারীরিক সুস্থতার সংরক্ষণ, দুর্ভোগ ও কষ্ট লাঘব এবং শরীর হতে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। আলোচ্য অধ্যায়ে দু’ প্রকার চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে।প্রথমত শারীরিক চিকিৎসা, মূলত এটিই এখানে উদ্দেশ্য।দ্বিতীয়ত অন্তরের চিকিৎসা, যার মৌলিক উপাদান হচ্ছে নবী (ﷺ) কর্তৃক আনীত আল্লাহ তা‘আলার বাণী মহাগ্রন্থ আল কুরআন।শারীরিক ব্যাধির চিকিৎসার বিষয়টি হাদীসে বিভিন্নভাবে এসেছে যা ত্বিবিব নবী হিসেবে পরিচিত।অন্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয়। শারীরিক ব্যাধির এ চিকিৎসা আবার দুই ধরনের। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে প্রাণীকুলের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত কিছু প্রাকৃতিক বিষয়, যেমন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা। অন্যটি চিন্তা-ভাবনা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য।ইসলামী শারী‘আর আলোকে চিকিৎসার আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে ঝাড়ফুঁক। যা বাস্তবসম্মত ও পরীক্ষিত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। ইমাম বাযযার (রহিমাহুল্লাহ) ‘উরওয়াহ্ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বললাম, আপনি চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কীয় প্রচুর জ্ঞান কিভাবে অর্জন করলেন? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিভিন্ন সময়ের ব্যাধিতে ‘আরব চিকিৎসকগণ তাঁর চিকিৎসার প্রাক্কালে আমি এ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছি।ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কে নবী (ﷺ) হতে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ সম্পর্কে বিভিন্ন গ্রন্থও রচিত হয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রের উৎপত্তি সম্পর্কে অনেক মতামত বিদিত রয়েছে। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ কথা হচ্ছে এ সম্পর্কিত কতক বিষয় নবীগণ ওয়াহীর মাধ্যমে অবগত হয়েছেন। তবে অধিকাংশ বিষয়ই অভিজ্ঞতালব্ধ।ইমাম বাযযার ও ত্ববারানী (রহিমাহুমাল্লাহ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ সুলায়মান (আঃ) যখনই সালাতে দাঁড়াতেন তিনি তাঁর সম্মুখে একটি বৃক্ষ দেখতে পেতেন। তিনি বৃক্ষটিকে বলতেন, তোমার নাম কী? সেটি তার নাম উল্লেখ করলে, আবারো জিজ্ঞেস করতেন। তুমি কী জন্য? সেটি ঔষধি হলে তিনি তা লিখে রাখতেন ও পরে তা রোপণ করতেন।অত্র অধ্যায়ের সারমর্ম এই যে, প্রত্যেক মানুষের সুস্থতা ও অসুস্থতা আল্লাহর পক্ষ হতে লিখিত ভাগ্যলিপির অংশ। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

খন্দকের যুদ্ধে ক্ষতস্থানে দাগ দেওয়ার চিকিৎসা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫১৭-[৪]

وَعَن جابرٍ قَالَ: رُمِيَ أَبِي يَوْمَ الْأَحْزَابِ عَلَى أَكْحَلِهِ فَكَوَاهُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. رَوَاهُ مُسلم

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আহযাবের (খন্দাকের) যুদ্ধে উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ)-এর শিরারোগে তীর বিদ্ধ হয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে (ক্ষত স্থানটিতে) দাগিয়েছেন।

[১] সহীহ : মুসলিম (২২০৭)-৭৪, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০০৩২, হিলইয়াতুল আওলিয়া ১০/৪০১ পৃঃ, আহমাদ ১৪২৫২, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ২২৮৫, মুসনাদে ‘আব্দ ইবনু হুমায়দ ১০১৮।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫১৭-[৪]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আহযাব বা খন্দকের যুদ্ধের একটি চিকিৎসা-সম্পর্কিত ঘটনা এসেছে। উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ)-এর শিরারোগে তীর বিদ্ধ হয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে ক্ষতস্থানে দাগ দেন। এখানে দাগ দেওয়ার চিকিৎসা একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত হয়েছে। আগের হাদিসে দাগ দেওয়ার বিষয়ে নিষেধের কথা থাকলেও এই বর্ণনায় বাস্তব ঘটনার মধ্যে তা প্রয়োগের কথা এসেছে। তাই বোঝা যায়, হাদিসগুলো একসাথে পড়লে বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বুঝতে হয়। এই বর্ণনার মূল শিক্ষা হলো, আহত অবস্থায় চিকিৎসা নেওয়া হয়েছে এবং নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন। তবে এ থেকে নিজের মতো করে চিকিৎসা করার অনুমতি বের করা ঠিক নয়; চিকিৎসা জ্ঞান ও প্রয়োজন বিবেচনা জরুরি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • যুদ্ধের আঘাতে চিকিৎসা নেওয়ার বাস্তব ঘটনা এই হাদিসে এসেছে।
  • উবাই ইবনু কা'ব (রাঃ)-এর ক্ষতস্থানে দাগ দেওয়া হয়েছিল।
  • চিকিৎসার প্রয়োগ নির্দিষ্ট অবস্থা ও প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
  • আঘাত বা অসুস্থতায় উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করা যায়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন