২৩/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫১৮-[৫] - সা'দ (রাঃ)-এর ক্ষতে দাগ দেওয়ার ঘটনা

চিকিৎসা ও মন্ত্র - প্রথম অনুচ্ছেদ

ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, চিকিৎসাশাস্ত্রের মৌলিক উদ্দেশ্য তিনটি। শারীরিক সুস্থতার সংরক্ষণ, দুর্ভোগ ও কষ্ট লাঘব এবং শরীর হতে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। আলোচ্য অধ্যায়ে দু’ প্রকার চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে।প্রথমত শারীরিক চিকিৎসা, মূলত এটিই এখানে উদ্দেশ্য।দ্বিতীয়ত অন্তরের চিকিৎসা, যার মৌলিক উপাদান হচ্ছে নবী (ﷺ) কর্তৃক আনীত আল্লাহ তা‘আলার বাণী মহাগ্রন্থ আল কুরআন।শারীরিক ব্যাধির চিকিৎসার বিষয়টি হাদীসে বিভিন্নভাবে এসেছে যা ত্বিবিব নবী হিসেবে পরিচিত।অন্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয়। শারীরিক ব্যাধির এ চিকিৎসা আবার দুই ধরনের। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে প্রাণীকুলের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত কিছু প্রাকৃতিক বিষয়, যেমন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা। অন্যটি চিন্তা-ভাবনা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য।ইসলামী শারী‘আর আলোকে চিকিৎসার আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে ঝাড়ফুঁক। যা বাস্তবসম্মত ও পরীক্ষিত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। ইমাম বাযযার (রহিমাহুল্লাহ) ‘উরওয়াহ্ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বললাম, আপনি চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কীয় প্রচুর জ্ঞান কিভাবে অর্জন করলেন? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিভিন্ন সময়ের ব্যাধিতে ‘আরব চিকিৎসকগণ তাঁর চিকিৎসার প্রাক্কালে আমি এ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছি।ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কে নবী (ﷺ) হতে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ সম্পর্কে বিভিন্ন গ্রন্থও রচিত হয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রের উৎপত্তি সম্পর্কে অনেক মতামত বিদিত রয়েছে। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ কথা হচ্ছে এ সম্পর্কিত কতক বিষয় নবীগণ ওয়াহীর মাধ্যমে অবগত হয়েছেন। তবে অধিকাংশ বিষয়ই অভিজ্ঞতালব্ধ।ইমাম বাযযার ও ত্ববারানী (রহিমাহুমাল্লাহ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ সুলায়মান (আঃ) যখনই সালাতে দাঁড়াতেন তিনি তাঁর সম্মুখে একটি বৃক্ষ দেখতে পেতেন। তিনি বৃক্ষটিকে বলতেন, তোমার নাম কী? সেটি তার নাম উল্লেখ করলে, আবারো জিজ্ঞেস করতেন। তুমি কী জন্য? সেটি ঔষধি হলে তিনি তা লিখে রাখতেন ও পরে তা রোপণ করতেন।অত্র অধ্যায়ের সারমর্ম এই যে, প্রত্যেক মানুষের সুস্থতা ও অসুস্থতা আল্লাহর পক্ষ হতে লিখিত ভাগ্যলিপির অংশ। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

সা'দ ইবনু মু'আয (রাঃ)-এর চিকিৎসা ঘটনা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫১৮-[৫]

وَعَنْهُ قَالَ: رُمِيَ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ فِي أكحله فحمسه النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ بِمِشْقَصٍ ثمَّ ورمت فحمسه الثَّانِيَة. رَوَاهُ مُسلم

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

সা'দ ইবনু মু'আয (রাঃ)-এর শিরারগে তীর বিদ্ধ হয়েছিল। তখন নবী (ﷺ) নিজ হাতে উক্ত স্থানটিতে তীরের ফলক দ্বারা দাগিয়েছেন। অতঃপর তাঁর (সা'দ-এর) হাত ফুলে গিয়েছিল, সুতরাং দ্বিতীয়বার তাঁকে দাগিয়েছেন।

[১] সহীহ : মুসলিম (২২০৮)-৭৫, আহমাদ ১৪৩৪৩, মুসতাদরাক লিল হাকিম ৮২৮৭, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২০০৩৩, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৫১৮৮।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫১৮-[৫]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সা'দ ইবনু মু'আয (রাঃ)-এর একটি গুরুতর আঘাতের কথা এসেছে। তাঁর শিরারগে তীর বিদ্ধ হয়েছিল। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজ হাতে তীরের ফলক দিয়ে উক্ত স্থানটিতে দাগ দেন। পরে তাঁর হাত ফুলে গেলে দ্বিতীয়বারও দাগ দেওয়া হয়। এই বর্ণনায় চিকিৎসা, আঘাত এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা এসেছে। দাগ দেওয়া এখানে সাধারণ উৎসাহ হিসেবে নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসা পরিস্থিতির অংশ হিসেবে এসেছে। তাই এই হাদিসের শিক্ষা হলো, প্রয়োজন হলে চিকিৎসা করা হয়েছে এবং অবস্থা পরিবর্তন হলে আবার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাদিসটি আঘাতের চিকিৎসা, দাগ দেওয়ার প্রয়োগ এবং রোগীর যত্নের দিকটি সামনে আনে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সা'দ ইবনু মু'আয (রাঃ)-এর তীরবিদ্ধ ক্ষতের চিকিৎসা করা হয়েছিল।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজ হাতে দাগ দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।
  • অবস্থা বদলালে চিকিৎসা পুনরায় করা হতে পারে—এ ঘটনা তা দেখায়।
  • চিকিৎসা নির্দিষ্ট প্রয়োজন ও অবস্থার সঙ্গে যুক্ত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন