২৩/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫২৩-[১০] - শিশুর কষ্ট কমানোর শিক্ষা
চিকিৎসা ও মন্ত্র - প্রথম অনুচ্ছেদ
ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, চিকিৎসাশাস্ত্রের মৌলিক উদ্দেশ্য তিনটি। শারীরিক সুস্থতার সংরক্ষণ, দুর্ভোগ ও কষ্ট লাঘব এবং শরীর হতে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। আলোচ্য অধ্যায়ে দু’ প্রকার চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে।প্রথমত শারীরিক চিকিৎসা, মূলত এটিই এখানে উদ্দেশ্য।দ্বিতীয়ত অন্তরের চিকিৎসা, যার মৌলিক উপাদান হচ্ছে নবী (ﷺ) কর্তৃক আনীত আল্লাহ তা‘আলার বাণী মহাগ্রন্থ আল কুরআন।শারীরিক ব্যাধির চিকিৎসার বিষয়টি হাদীসে বিভিন্নভাবে এসেছে যা ত্বিবিব নবী হিসেবে পরিচিত।অন্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয়। শারীরিক ব্যাধির এ চিকিৎসা আবার দুই ধরনের। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে প্রাণীকুলের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত কিছু প্রাকৃতিক বিষয়, যেমন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা। অন্যটি চিন্তা-ভাবনা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য।ইসলামী শারী‘আর আলোকে চিকিৎসার আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে ঝাড়ফুঁক। যা বাস্তবসম্মত ও পরীক্ষিত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। ইমাম বাযযার (রহিমাহুল্লাহ) ‘উরওয়াহ্ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বললাম, আপনি চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কীয় প্রচুর জ্ঞান কিভাবে অর্জন করলেন? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিভিন্ন সময়ের ব্যাধিতে ‘আরব চিকিৎসকগণ তাঁর চিকিৎসার প্রাক্কালে আমি এ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছি।ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কে নবী (ﷺ) হতে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ সম্পর্কে বিভিন্ন গ্রন্থও রচিত হয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রের উৎপত্তি সম্পর্কে অনেক মতামত বিদিত রয়েছে। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ কথা হচ্ছে এ সম্পর্কিত কতক বিষয় নবীগণ ওয়াহীর মাধ্যমে অবগত হয়েছেন। তবে অধিকাংশ বিষয়ই অভিজ্ঞতালব্ধ।ইমাম বাযযার ও ত্ববারানী (রহিমাহুমাল্লাহ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ সুলায়মান (আঃ) যখনই সালাতে দাঁড়াতেন তিনি তাঁর সম্মুখে একটি বৃক্ষ দেখতে পেতেন। তিনি বৃক্ষটিকে বলতেন, তোমার নাম কী? সেটি তার নাম উল্লেখ করলে, আবারো জিজ্ঞেস করতেন। তুমি কী জন্য? সেটি ঔষধি হলে তিনি তা লিখে রাখতেন ও পরে তা রোপণ করতেন।অত্র অধ্যায়ের সারমর্ম এই যে, প্রত্যেক মানুষের সুস্থতা ও অসুস্থতা আল্লাহর পক্ষ হতে লিখিত ভাগ্যলিপির অংশ। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
শিশুদের কষ্ট না দিয়ে চিকিৎসা করার হাদিস
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৫২৩-[১০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫২৩-[১০]
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تُعَذِّبُوا صِبْيَانَكُمْ بِالْغَمْزِ مِنَ الْعُذْرَةِ عَلَيْكُمْ بِالْقُسْطِ»
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : ‘উাহ্ রোগের জন্য তোমাদের শিশুদের জিহ্বার তালু দাবিয়ে তাদেরকে কষ্ট দিয়ো না; বরং তোমরা কুস্ত বাহরি (চন্দন কাঠ) ব্যবহার করো।
[১] সহীহ : বুখারী ৫৬৯৬, মুসলিম (১৫৭৭)-৬৩, ‘নাসায়ী’র কুবরা ৭৫৮২, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ২৭২৬, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১০৫৩, ১০৫৪; আল জামি‘উস্ সগীর ৫৬৩৫, সহীহুল জামি‘ ৩৩২৪, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৪৩৮৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫২৩-[১০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) শিশুদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোমল আচরণের শিক্ষা দিয়েছেন। তখন কোনো রোগের জন্য শিশুদের জিহ্বার তালু চাপ দিয়ে কষ্ট দেওয়া হতো। নবী (صلى الله عليه وسلم) এভাবে শিশুদের কষ্ট দিতে নিষেধ করেন এবং কুস্ত বাহরি ব্যবহারের নির্দেশ দেন। এখানে শিশু চিকিৎসা, দয়া, এবং ক্ষতিকর বা কষ্টদায়ক পদ্ধতি এড়িয়ে উপকারী উপায় গ্রহণের শিক্ষা আছে। হাদিসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, চিকিৎসা শুধু রোগ সারানোর বিষয় নয়; রোগীর কষ্ট কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুরা দুর্বল, তাই তাদের ক্ষেত্রে আরও নরম আচরণ দরকার। কুস্ত বাহরি হাদিস ও শিশুদের চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে এই বর্ণনাটি সরাসরি প্রাসঙ্গিক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিশুদের চিকিৎসায় অযথা কষ্ট দেওয়া উচিত নয়।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) কষ্টদায়ক পদ্ধতির বদলে কুস্ত বাহরি ব্যবহারের কথা বলেছেন।
- চিকিৎসায় দয়া ও কোমলতা গুরুত্বপূর্ণ।
- রোগীর বয়স ও দুর্বলতা বিবেচনায় রাখা দরকার।
