২৩/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫২২-[৯] - শিঙ্গা ও কুস্ত বাহরি
চিকিৎসা ও মন্ত্র - প্রথম অনুচ্ছেদ
ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, চিকিৎসাশাস্ত্রের মৌলিক উদ্দেশ্য তিনটি। শারীরিক সুস্থতার সংরক্ষণ, দুর্ভোগ ও কষ্ট লাঘব এবং শরীর হতে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। আলোচ্য অধ্যায়ে দু’ প্রকার চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে।প্রথমত শারীরিক চিকিৎসা, মূলত এটিই এখানে উদ্দেশ্য।দ্বিতীয়ত অন্তরের চিকিৎসা, যার মৌলিক উপাদান হচ্ছে নবী (ﷺ) কর্তৃক আনীত আল্লাহ তা‘আলার বাণী মহাগ্রন্থ আল কুরআন।শারীরিক ব্যাধির চিকিৎসার বিষয়টি হাদীসে বিভিন্নভাবে এসেছে যা ত্বিবিব নবী হিসেবে পরিচিত।অন্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয়। শারীরিক ব্যাধির এ চিকিৎসা আবার দুই ধরনের। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে প্রাণীকুলের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত কিছু প্রাকৃতিক বিষয়, যেমন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা। অন্যটি চিন্তা-ভাবনা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য।ইসলামী শারী‘আর আলোকে চিকিৎসার আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে ঝাড়ফুঁক। যা বাস্তবসম্মত ও পরীক্ষিত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। ইমাম বাযযার (রহিমাহুল্লাহ) ‘উরওয়াহ্ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বললাম, আপনি চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কীয় প্রচুর জ্ঞান কিভাবে অর্জন করলেন? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিভিন্ন সময়ের ব্যাধিতে ‘আরব চিকিৎসকগণ তাঁর চিকিৎসার প্রাক্কালে আমি এ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছি।ইমাম সুয়ূত্বী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কে নবী (ﷺ) হতে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ সম্পর্কে বিভিন্ন গ্রন্থও রচিত হয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রের উৎপত্তি সম্পর্কে অনেক মতামত বিদিত রয়েছে। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ কথা হচ্ছে এ সম্পর্কিত কতক বিষয় নবীগণ ওয়াহীর মাধ্যমে অবগত হয়েছেন। তবে অধিকাংশ বিষয়ই অভিজ্ঞতালব্ধ।ইমাম বাযযার ও ত্ববারানী (রহিমাহুমাল্লাহ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ সুলায়মান (আঃ) যখনই সালাতে দাঁড়াতেন তিনি তাঁর সম্মুখে একটি বৃক্ষ দেখতে পেতেন। তিনি বৃক্ষটিকে বলতেন, তোমার নাম কী? সেটি তার নাম উল্লেখ করলে, আবারো জিজ্ঞেস করতেন। তুমি কী জন্য? সেটি ঔষধি হলে তিনি তা লিখে রাখতেন ও পরে তা রোপণ করতেন।অত্র অধ্যায়ের সারমর্ম এই যে, প্রত্যেক মানুষের সুস্থতা ও অসুস্থতা আল্লাহর পক্ষ হতে লিখিত ভাগ্যলিপির অংশ। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
শিঙ্গা লাগানো ও কুস্ত বাহরি: চিকিৎসা বিষয়ে হাদিস
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৫২২-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫২২-[৯]
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَمْثَلَ مَا تَدَاوَيْتُمْ بِهِ الْحجامَة والقُسْط البحري»
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা যেসব জিনিস দ্বারা চিকিৎসা করো, এর মধ্যে শিঙ্গা লাগানো এবং কুস্ত বাহরি (চন্দন কাঠ) ব্যবহার করা সর্বোত্তম।
[১] সহীহ : বুখারী ৫৬৯৬, মুসলিম (১৫৭৭)-৬৩, আহমাদ ১২০৪৫, মুসনাদুশ্ শাফি‘ঈ ৯৩০, মা‘রিফাতুস্ সুনান লিল বায়হাক্বী ৫৯৪৯, মুসান্নাফ আবূ শায়বাহ্ ২৩৪৩, মুসনাদে ‘আবদ ইবনু হুমায়দ ১৪০৩, বায়হাক্বী’র কুবরা ২০০০৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫২২-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) চিকিৎসার কিছু উপায় সম্পর্কে বলেছেন। তিনি বলেন, তোমরা যেসব জিনিস দ্বারা চিকিৎসা করো, তার মধ্যে শিঙ্গা লাগানো এবং কুস্ত বাহরি ব্যবহার করা উত্তম। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ইসলাম চিকিৎসাকে অস্বীকার করে না; বরং উপকারী চিকিৎসা গ্রহণের পথ দেখায়। শিঙ্গা লাগানো বা হিজামা এবং কুস্ত বাহরি তখনকার পরিচিত চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে ছিল। হাদিসের বক্তব্যকে অতিরঞ্জিত না করে বোঝা দরকার যে এটি চিকিৎসার একটি নির্দেশনা, সব রোগের জন্য একইভাবে প্রয়োগের সাধারণ ঘোষণা নয়। তাই কুস্ত বাহরি হাদিস, শিঙ্গা লাগানো হাদিস এবং নবীজির চিকিৎসা পদ্ধতি—এসব আলোচনায় এই বর্ণনাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইসলামে চিকিৎসা গ্রহণকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
- হাদিসে শিঙ্গা লাগানোকে উপকারী চিকিৎসা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- কুস্ত বাহরি নির্দিষ্ট চিকিৎসায় ব্যবহারের কথা এসেছে।
- চিকিৎসার ক্ষেত্রে উপায় গ্রহণ করা আল্লাহর ওপর ভরসার বিপরীত নয়।
