২৩/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৫২-[৩৯] - তাবীয ও শির্ক থেকে সতর্কতা
চিকিৎসা ও মন্ত্র - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
তাবীয নয়, আল্লাহর কাছে শিফার দোয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৫৫২-[৩৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫৫২-[৩৯]
وَعَنْ زَيْنَبَ امْرَأَةِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ رَأَى فِي عُنُقِي خَيْطًا فَقَالَ: مَا هَذَا؟ فَقُلْتُ: خَيْطٌ رُقِيَ لِي فِيهِ قَالَتْ: فَأَخَذَهُ فَقَطَعَهُ ثُمَّ قَالَ: أَنْتُمْ آلَ عَبْدَ اللَّهِ لَأَغْنِيَاءٌ عَنِ الشِّرْكِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُول: «إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ»فَقُلْتُ: لِمَ تَقُولُ هَكَذَا؟ لَقَدْ كَانَتْ عَيْنِي تُقْذَفُ وَكُنْتُ أَخْتَلِفُ إِلَى فُلَانٍ الْيَهُودِيِّ فَإِذَا رَقَاهَا سَكَنَتْ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: إِنَّمَا ذَلِكِ عَمَلُ الشَّيْطَانِ كَانَ يَنْخَسُهَا بِيَدِهِ فَإِذَا رُقِيَ كُفَّ عَنْهَا إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكِ أَنْ تَقُولِي كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءٌ لَا يُغَادِرُ سقما».رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্‘উদ (রাঃ)-এর স্ত্রী যায়নাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(আমার স্বামী) 'আবদুল্লাহ আমার গলায় একখানা তাগা দেখে জিজ্ঞেস করলেন : এটা কী? বললাম : এটা একটি তাগা, আমার জন্য তাতে মন্ত্র পড়া হয়েছে। যায়নাব বলেন : এটা শুনে তিনি তাগাটি টেনে ছিঁড়ে ফেললেন। অতঃপর বললেন : তোমরা 'আবদুল্লাহর পরিবারবর্গ! তোমরা শিরকের মুখাপেক্ষী নও, (এতে কলুষিত হবে কেন?) আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি। তিনি (ﷺ) বলেছেন : ঝাড়ফুঁক, তাবিজ ও জাদুটোনা শিরকী কাজ।(যায়নাব বলেন :) তখন আমি বললাম : আপনি কেন এরূপ কথা বলছেন? একবার আমার চোখে ব্যথা হচ্ছিল, যেন চোখটি বের হয়ে পড়বে। তখন আমি অমুক ইয়াহুদীর কাছে যাওয়া-আসা করতাম। যখন সে ইয়াহুদী তাতে মন্ত্র পড়ল, তখনই তার ব্যথা চলে গেল।এ কথা শুনে ‘আবদুল্লাহ বললেন : এটা তো শয়তানেরই কাজ। সে নিজের হাতের দ্বারা তাতে আঘাত করছিল, আর যখন মন্ত্র পড়া হয়, তখন সে বিরত হয়ে যায়। বস্তুতঃ (এ জাতীয় রোগ) তোমার পক্ষে এরূপ বলাই যথেষ্ট ছিল, যেভাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আযহিবিল বা'সা রব্বান্ না-স, ওয়াশফি আনতাশ্ শাফী লা- শাফা-আ ইল্লা- শিফা-উকা শিফা- উন লা- ইউগা-দিরু সাক্কামা- (হে মানুষের রব! আপনি বিপদ দূর করে দিন এবং রোগ হতে নিরাময় দান করুন। আপনিই নিরাময়কারী। আপনার নিরাময় প্রদান ব্যতীত আরোগ্য লাভ করা সম্ভব নয়। এমন নিরাময় দান করুন, যেন কোন রোগই অবশিষ্ট না থাকে)
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩৮৮৩, ইবনু মাজাহ ৩৫৩০, ‘বায়হাক্বী’র কুবরা ২০০৮৮, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬০৯০, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৫২০৮, আহমাদ ৩৬১৫, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৩৩১, গয়াতুল মারাম ২৯৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৫২-[৩৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যায়নাব রা. বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা. তাঁর গলায় একটি তাগা দেখে জিজ্ঞেস করেন, এটি কী। তিনি বলেন, এতে তাঁর জন্য মন্ত্র পড়া হয়েছে। আবদুল্লাহ রা. তা ছিঁড়ে ফেলেন এবং বলেন, তোমরা শিরকের মুখাপেক্ষী নও। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কথা বলেন—ঝাড়ফুঁক, তাবীয ও জাদুটোনা শির্কী কাজ। এখানে যেসব ঝাড়ফুঁকের কথা এসেছে, তা শির্কী মন্ত্র ও তাবীযের সাথে যুক্ত। পরে তিনি চোখের ব্যথার ঘটনাও বলেন এবং আবদুল্লাহ রা. সেটিকে শয়তানের কাজ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। শেষে তিনি নবী صلى الله عليه وسلم শেখানো দোয়া বলেন: হে মানুষের রব, কষ্ট দূর করুন, শিফা দিন; আপনিই শিফাদানকারী। এই হাদিস তাওহীদ, তাওয়াক্কুল এবং আল্লাহর কাছে সরাসরি শিফা চাওয়ার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাবীয ও শির্কী মন্ত্র থেকে দূরে থাকা তাওহীদের দাবি।
- শিফার জন্য আল্লাহর কাছে সরাসরি দোয়া করা উচিত।
- সব ধরনের ঝাড়ফুঁক এক নয়; এখানে শির্কী পদ্ধতির নিন্দা এসেছে।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم শেখানো দোয়া রোগের সময় পড়া যায়।
