২৩/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৫৭-[৪৪] - বদনজর ও দংশনে রুকইয়া
চিকিৎসা ও মন্ত্র - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
বদনজর ও বিষাক্ত দংশনে রুকইয়ার অনুমতি
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৫৫৭-[৪৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫৫৭-[৪৪]
وَعَن عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا رُقْيَةَ إِلَّا مِنْ عَيْنٍ أَوْ حُمَةٍ». رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد
‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : বদনজর কিংবা কোন বিষাক্ত প্রাণীর দংশনের বেলায়ই ঝাড়ফুঁক রয়েছে।
[১] সহীহ : আহমাদ ১৯৯০৮, তিরমিযী ২০৫৭, আবূ দাঊদ ৩৮৮৪, ইবনু মাজাহ ৩৫১৩, সহীহুল জামি‘ ৭৪৯৬, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৩৫৩৭, ইমাম বুখারী মাওকূফভাবে বর্ণনা করেছেন ৫৭০৫, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ১৪৯৮৯, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ১৪৪৯, ‘বায়হাক্বী’র কুবরা ২০০২৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৫৭-[৪৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইমরান ইবনু হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন—বদনজর অথবা বিষাক্ত প্রাণীর দংশন ছাড়া রুকইয়া নেই। এখানে রুকইয়া বা ঝাড়ফুঁকের বিষয়টি সীমিতভাবে এসেছে। আগের কিছু বর্ণনায় শির্কী ঝাড়ফুঁক, তাবীয ও জাদুটোনার নিন্দা এসেছে। আর এই বর্ণনায় নির্দিষ্ট দুই ক্ষেত্রে রুকইয়ার কথা বলা হয়েছে—বদনজর এবং বিষাক্ত দংশন। তাই সব ঝাড়ফুঁক একই নয়। শির্কী মন্ত্র ও তাবীয থেকে দূরে থাকতে হবে, কিন্তু বৈধ রুকইয়ার বিষয়টি এই হাদিসে আলাদাভাবে এসেছে। মূল শিক্ষা হলো, চিকিৎসা ও দোয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে শরিয়তসম্মত সীমার মধ্যে থাকা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বদনজর ও বিষাক্ত দংশনের ক্ষেত্রে রুকইয়ার কথা এই হাদিসে এসেছে।
- শির্কী ঝাড়ফুঁক এবং বৈধ রুকইয়া এক জিনিস নয়।
- রোগের সময় শরিয়তের সীমা মানা জরুরি।
- আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বৈধ দোয়ার পথ গ্রহণ করা যায়।
