২৩/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৬০-[৪৭] - বদনজরে রুকইয়ার অনুমতি
চিকিৎসা ও মন্ত্র - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
বদনজর লাগলে রুকইয়া করার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৫৬০-[৪৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫৬০-[৪৭]
وَعَن أَسمَاء بنت عُميس قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ وَلَدَ جَعْفَرٍ تُسْرِعُ إِلَيْهِمُ الْعَيْنُ أَفَأَسْتَرْقِي لَهُمْ؟ قَالَ: «نَعَمْ فَإِنَّهُ لَوْ كَانَ شَيْءٌ سَابِقُ الْقَدَرِ لَسَبَقَتْهُ العينُ». رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه
আসমা বিনতু উমাইস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি জিজ্ঞেস করলেন : হে আল্লাহর রাসূল। জা'ফার (তাইয়্যার) (রাঃ)-এর সন্তানদের ওপর দ্রুত বদনজর লেগে থাকে। আমি কি তাদের জন্য ঝাড়ফুঁক করাব? তিনি (ﷺ) বললেন : হ্যাঁ, কেননা যদি কোন জিনিস তাকদীরের অগ্রগামী হতে পারত, তবে বদনজরই তার অগ্রগামী হত।
[১] সহীহ : আহমাদ ২৭৪৭০, তিরমিযী ২০৫৯, ইবনু মাজাহ ৩৫১০, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১২৫২, সহীহুল জামি‘ ৯৪১৭, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৩৫৯১, ‘নাসায়ী’র কুবরা ৭৫৩৭, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ১৯৮৫৯, বায়হাক্বী’র কুবরা ২০০৭২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৬০-[৪৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আসমা বিনতে উমাইস রা. বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে জানালেন যে জা'ফার রা.-এর সন্তানদের ওপর দ্রুত বদনজর লাগে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তাদের জন্য কি রুকইয়া করাবেন। নবী صلى الله عليه وسلم বললেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি বলেন, যদি কোনো জিনিস তাকদীরের আগে যেতে পারত, তবে বদনজরই আগে যেত। এই বর্ণনায় বদনজরের প্রভাব এবং বদনজরের ক্ষেত্রে রুকইয়ার অনুমতি—দুইটি বিষয় এসেছে। এখানে তাকদীরের কথাও আছে, তাই বুঝতে হবে বদনজর বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু সব কিছু আল্লাহর তাকদীরের অধীন। হাদিসটি ভয়ের জন্য নয়; বরং সঠিক পথ দেখানোর জন্য। বদনজর হলে শির্কী তাবীয নয়, বৈধ রুকইয়া ও আল্লাহর ওপর ভরসার পথ গ্রহণ করা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বদনজরের ক্ষেত্রে রুকইয়ার অনুমতি এই হাদিসে এসেছে।
- বদনজরের প্রভাব আছে, তবে তা আল্লাহর তাকদীরের বাইরে নয়।
- সন্তানদের জন্য সঠিক দোয়া ও বৈধ রুকইয়ার ব্যবস্থা করা যায়।
- তাবীয বা শির্কী পদ্ধতির বদলে নববী নির্দেশ মানা দরকার।
