২৩/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৬১-[৪৮] - নামলাহ রোগে রুকইয়াহ শেখানো
চিকিৎসা ও মন্ত্র - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
নামলাহ রোগে রুকইয়াহ শেখানোর শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৫৬১-[৪৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫৬১-[৪৮]
وَعَن الشَّفاءِ بنت عبد الله قَالَتْ: دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا عِنْدَ حَفْصَةَ فَقَالَ: «أَلَا تُعَلِّمِينَ هَذِهِ رُقْيَةَ النَّمْلَةِ كَمَا عَلَّمْتِيهَا الْكِتَابَةَ؟». رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
শিফা বিনতু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি হাসাহ্ (রাঃ)-এর নিকট বসা ছিলাম, এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে প্রবেশ করে বললেন : তুমি যেভাবে হাফসা (রাঃ)-কে হস্তলিপি শিখিয়েছ, সেভাবে তাঁকে নামলাহ্ রোগের মন্ত্র শিখাও না কেন?
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৩৮৮৭, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১৭৮, আর জামি‘উস্ সগীর ৪৪১৫, সহীহুল জামি‘ ২৬৫০, মুসান্নাফ ‘আবদুর রায্যাক ১৯৭৬৮, আহমাদ ২৭০৯৫, নাসায়ী’র কুবরা ৭৫৪৩। (আবূ দাউদ)
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৬১-[৪৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) হাফসা (রাঃ)-এর কাছে প্রবেশ করে আশ-শিফা বিনতু আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে একটি সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি বলেন, যেমন তুমি তাকে লেখা শিখিয়েছ, তেমনি নামলাহ রোগের রুকইয়াহও শেখাও। এখানে মূল শিক্ষা হলো, উপকারী জ্ঞান শুধু নিজের কাছে রাখার বিষয় নয়; তা অন্যকে শেখানোও ভালো কাজ। নামলাহ রোগের মন্ত্র বা রুকইয়াহ এই হাদিসের কেন্দ্রীয় বিষয়। হাদিসটি দেখায়, চিকিৎসা-সংক্রান্ত বৈধ রুকইয়াহ শেখানো এবং শেখা গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে ব্যাখ্যা শুধুই এই বর্ণনার সীমার মধ্যে রাখা জরুরি। এখানে লেখা শেখানো এবং রুকইয়াহ শেখানো—দুই ধরনের উপকারী জ্ঞানকে একসাথে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উপকারী জ্ঞান অন্যকে শেখানো প্রশংসনীয় কাজ।
- নামলাহ রোগের বৈধ রুকইয়াহ শেখানোর কথা এই হাদিসে এসেছে।
- চিকিৎসা ও শিক্ষা—দুটিই মানুষের উপকারের পথ হতে পারে।
- যে জ্ঞান মানুষের কাজে লাগে, তা গোপন না রেখে শেখানো ভালো।
