২৩/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৬৭-[৫৪] - বিচ্ছু দংশনে রুকইয়াহ
চিকিৎসা ও মন্ত্র - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
নিহায়াতে এসেছে, নাক্বী’ হলো এমন পানীয় যা আঙ্গুর বা অন্যান্য হতে প্রস্তুত করা হয় যা পানিতে ভিজানো হয় পাকানো ছাড়া। আর খেজুর, আঙ্গুর, কিসমিস, মধু, গম ও যব ইত্যাদি ভিজিয়ে যে মিঠা শরবত প্রস্তুত করা হয় তা নাবীয। যেমন বলা হয়, আমি আঙ্গুর ও খেজুরকে নাবীয করেছি যখন পানিতে ভিজিয়ে রেখেছি যাতে নাবীয হয়। এ নাবীয অনেক উপকার বিশেষ করে শক্তি বৃদ্ধিতে।মীরাক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এটা সর্বসম্মতক্রমে হালাল যতক্ষণ পর্যন্ত মিষ্টি থাকে আর নেশাগ্রস্ত অবস্থায় না পৌঁছে। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: সব নেশাই হারাম। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
বিচ্ছু দংশনে সূরা ফালাক ও নাস দিয়ে রুকইয়াহ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৫৬৭-[৫৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫৬৭-[৫৪]
وَعَن عَليّ قَالَ: بَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ يُصَلِّي فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى الْأَرْضِ فَلَدَغَتْهُ عَقْرَبٌ فَنَاوَلَهَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنَعْلِهِ فَقَتَلَهَا فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ: «لَعَنَ اللَّهُ الْعَقْرَبَ مَا تَدَعُ مُصَلِّيًا وَلَا غَيْرَهُ أَوْ نَبِيًّا وَغَيْرَهُ» ثُمَّ دَعَا بملحٍ وماءٍ فَجعله فِي إِناءٍ ثمَّ جَعَلَ يَصُبُّهُ عَلَى أُصْبُعِهِ حَيْثُ لَدَغَتْهُ وَيَمْسَحُهَا وَيُعَوِّذُهَا بِالْمُعَوِّذَتَيْنِ.رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কোন এক রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করছিলেন, এ অবস্থায় তিনি জমিনে তাঁর হাত রাখতেই একটি বিচ্ছু তাঁকে দংশন করল। তৎক্ষণাৎ তিনি (ﷺ) জুতা দ্বারা বিচ্ছুটিকে মেরে ফেললেন। অতঃপর সালাত শেষ করে বললেন : বিচ্ছুটির ওপর আল্লাহর লা'নাত হোক। সে সালাত আদায়কারী-অনাদায়কারী অথবা বলেছেন : নবী কিংবা অন্য কাউকেও ছাড়ে না। অতঃপর তিনি কিছু লবণ ও পানি চেয়ে নিলেন এবং তা একটি পাত্রে মিশালেন, অতঃপর অঙ্গুলির দংশিত স্থানে পানি ঢালতে এবং উক্ত স্থান মুছতে লাগলেন এবং মু‘আব্বাযাতায়ন (সূরা ফালাক্ব ও নাস) দ্বারা ঝাড়তে লাগলেন।
[১] সহীহ : শু‘আবুল ঈমান ২৫৭৫, ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৩৫৫৩, ইবনু মাজাহ ১২৪৬, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৫৪৭, সহীহুল জামি‘ ৯২২৯, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৫৮৮৯, ৭৩২৯, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুস্ সগীর ৮৩০।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৬৭-[৫৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলী (রাঃ) বলেন, এক রাতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সালাত আদায় করছিলেন। তিনি জমিনে হাত রাখলে একটি বিচ্ছু তাকে দংশন করে। তখন তিনি জুতা দিয়ে বিচ্ছুটিকে মেরে ফেলেন। সালাত শেষ করার পর তিনি বিচ্ছুটির ক্ষতি সম্পর্কে কথা বলেন। এরপর তিনি লবণ ও পানি আনতে বলেন, তা একটি পাত্রে মিশান, দংশিত আঙুলে পানি ঢালেন, স্থানটি মুছেন এবং মু‘আব্বিযাতায়ন, অর্থাৎ সূরা ফালাক ও সূরা নাস দ্বারা ঝাড়েন। এই বর্ণনায় রুকইয়াহ, শারীরিক ব্যবস্থা এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয়—তিনটি বিষয় একসাথে এসেছে। তবে এটিকে সব দংশনের জন্য একমাত্র চিকিৎসা বলা যাবে না; হাদিসে যা আছে, সেটুকুই বলা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ক্ষতিকর প্রাণী থেকে নিজেকে রক্ষা করা বৈধ।
- দংশনের পর শারীরিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং রুকইয়াহ করা—দুটিই এই বর্ণনায় এসেছে।
- সূরা ফালাক ও সূরা নাস দিয়ে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা আছে।
- সালাতের সময়ও বাস্তব বিপদ হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
