২৩/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৬৬-[৫৩] - পাকস্থলী ও দেহের স্বাস্থ্য
চিকিৎসা ও মন্ত্র - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
নিহায়াতে এসেছে, নাক্বী’ হলো এমন পানীয় যা আঙ্গুর বা অন্যান্য হতে প্রস্তুত করা হয় যা পানিতে ভিজানো হয় পাকানো ছাড়া। আর খেজুর, আঙ্গুর, কিসমিস, মধু, গম ও যব ইত্যাদি ভিজিয়ে যে মিঠা শরবত প্রস্তুত করা হয় তা নাবীয। যেমন বলা হয়, আমি আঙ্গুর ও খেজুরকে নাবীয করেছি যখন পানিতে ভিজিয়ে রেখেছি যাতে নাবীয হয়। এ নাবীয অনেক উপকার বিশেষ করে শক্তি বৃদ্ধিতে।মীরাক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এটা সর্বসম্মতক্রমে হালাল যতক্ষণ পর্যন্ত মিষ্টি থাকে আর নেশাগ্রস্ত অবস্থায় না পৌঁছে। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: সব নেশাই হারাম। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পাকস্থলী ভালো হলে দেহের স্বাস্থ্য ভালো থাকে
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৫৬৬-[৫৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫৬৬-[৫৩]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمَعِدَةُ حَوْضُ الْبَدَنِ وَالْعُرُوقُ إِلَيْهَا وَارِدَةٌ فَإِذَا صَحَّتِ الْمَعِدَةُ صَدَرَتِ الْعُرُوقُ بِالصِّحَّةِ وَإِذَا فَسَدَتِ الْمَعِدَةُ صَدَرَتِ الْعُرُوقُ بِالسقمِ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : পাকস্থলী হলো দেহের হাওয (কূপ)। সমস্ত শিরা-উপশিরাগুলো সে হাওযের দিকেই প্রবাহিত হয়। সুতরাং যখন পাকস্থলী ভালো হয়, তখন শিরাগুলোও সারা দেহে স্বাস্থ্যকর উপাদান সরবরাহ করে। আর যখন পাকস্থলী নষ্ট হয়ে যায়, তখন শিরাগুলোও দূষিত উপাদান সরবরাহ করে থাকে।
[১] মুনকার : সিলসিলাতুয্ য‘ঈফাহ্ ৪/১৮৭ পৃঃ, ১৬৯২ নং হাদীসটি মুনকার বা য‘ঈফ হওয়ার কারণ, এর সনদে আছে ‘‘ইয়াহ্ইয়া ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু যহ্হাক আল বাবিলাতী আল হাররানী’’ নামের রাবী, যিনি য‘ঈফ। এছাড়াও ইব্রাহীম ইবনু জুরায়য নামের বর্ণনাকারীও য‘ঈফ। ‘উকায়লী বলেনঃ এ হাদীসটি বাতিল, এর কোন ভিত্তি নেই। আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৪৩৪৩, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ৮১৯, শু‘আবুল ঈমান ৫৭৯৬।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৬৬-[৫৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে পাকস্থলীকে দেহের হাওয বা কূপের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, দেহের শিরা-উপশিরাগুলো সেই হাওযের দিকেই আসে। যখন পাকস্থলী ভালো থাকে, তখন শিরাগুলো শরীরে স্বাস্থ্যকর উপাদান সরবরাহ করে। আর পাকস্থলী নষ্ট হলে দেহে দূষিত উপাদান ছড়িয়ে পড়ে। এই বর্ণনায় খাবার, হজম এবং দেহের সামগ্রিক সুস্থতার সম্পর্ক সহজ ভাষায় বোঝানো হয়েছে। এখানে ‘পাকস্থলী হলো দেহের হাওয’—এই মূল ভাবটি কেন্দ্রীয়। হাদিসটি চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে একটি সতর্ক বার্তা দেয়, তবে নির্দিষ্ট কোনো খাবার বা চিকিৎসা-পদ্ধতি এখানে বলা হয়নি। তাই অতিরিক্ত চিকিৎসা দাবি না করে, পাকস্থলীর যত্ন ও দেহের স্বাস্থ্যের সম্পর্কটুকুই এখানে মূল শিক্ষা হিসেবে নেওয়া উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পাকস্থলীর অবস্থা দেহের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে।
- খাওয়া-দাওয়া ও হজমের বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার।
- শরীরের সুস্থতা একটি সংযুক্ত বিষয়; এক অংশের সমস্যা অন্য অংশে প্রভাব ফেলতে পারে।
- হাদিসে স্বাস্থ্য বোঝাতে সহজ ও সুন্দর উপমা ব্যবহার করা হয়েছে।
