২৩/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৬৮-[৫৫] - নবীজির পশম মুবারকের বরকত

চিকিৎসা ও মন্ত্র - তৃতীয় অনুচ্ছেদ

নিহায়াতে এসেছে, নাক্বী’ হলো এমন পানীয় যা আঙ্গুর বা অন্যান্য হতে প্রস্তুত করা হয় যা পানিতে ভিজানো হয় পাকানো ছাড়া। আর খেজুর, আঙ্গুর, কিসমিস, মধু, গম ও যব ইত্যাদি ভিজিয়ে যে মিঠা শরবত প্রস্তুত করা হয় তা নাবীয। যেমন বলা হয়, আমি আঙ্গুর ও খেজুরকে নাবীয করেছি যখন পানিতে ভিজিয়ে রেখেছি যাতে নাবীয হয়। এ নাবীয অনেক উপকার বিশেষ করে শক্তি বৃদ্ধিতে।মীরাক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এটা সর্বসম্মতক্রমে হালাল যতক্ষণ পর্যন্ত মিষ্টি থাকে আর নেশাগ্রস্ত অবস্থায় না পৌঁছে। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: সব নেশাই হারাম। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

নবীজি صلى الله عليه وسلم-এর পশম মুবারক ও রোগীর জন্য পানি

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫৬৮-[৫৫]

وَعَن عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ قَالَ: أَرْسَلَنِي أَهْلِي إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ بِقَدَحٍ مِنْ مَاءٍ وَكَانَ إِذَا أَصَابَ الْإِنْسَانَ عَيْنٌ أَوْ شَيْءٌ بَعَثَ إِلَيْهَا مِخْضَبَهُ فَأَخْرَجَتْ مِنْ شَعْرُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَتْ تُمْسِكُهُ فِي جُلْجُلٍ مِنْ فِضَّةٍ فَخَضْخَضَتْهُ لَهُ فَشَرِبَ مِنْهُ قَالَ: فَاطَّلَعْتُ فِي الْجُلْجُلِ فَرَأَيْت شَعرَات حَمْرَاء. رَوَاهُ البُخَارِيّ

‘উসমান ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাওহাব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমার পরিবারের লোকেরা পানির একটি পেয়ালা দিয়ে আমাকে উম্মু সালামাহ্ (রাঃ)-এর কাছে পাঠালেন তখন নিয়ম ছিল, যদি কারো ওপর বদনজর লাগত কিংবা অন্য কোন অসুখ হত তখন উম্মু সালামার কাছে একটি পত্র পাঠিয়ে দিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিছু পশম মুবারক বের করতেন, যা তিনি একটি রৌপ্য কৌটার মধ্যে রাখতেন। অতঃপর তিনি উক্ত পশম মুবারক পানির মধ্যে ডুবিয়ে দিতেন এবং সে পানিগুলো রোগীকে পান করানো হত। বর্ণনাকারী বলেন, আমি রূপার সে নলটির মধ্যে তাকিয়ে দেখলাম, তাতে (রাসূল (ﷺ)-এর) কয়েকটি লাল বর্ণের পশম রয়েছে।

[১] সহীহ : বুখারী ৫৮৯৬, হিলইয়াতুল আওলিয়া ৯/৩১ পৃঃ, ইবনু মাজাহ ৩৬২৩, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৫০০৯, আহমাদ ২৬৫৩৯।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৬৮-[৫৫]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে উসমান ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু মাওহাব বলেন, তার পরিবারের লোকেরা তাকে পানির পেয়ালা দিয়ে উম্মু সালামা (রাঃ)-এর কাছে পাঠান। তখন প্রচলিত ছিল, কারো ওপর বদনযর লাগলে বা কোনো অসুখ হলে উম্মু সালামা (রাঃ)-এর কাছে পাত্র পাঠানো হতো। তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কিছু পশম মুবারক বের করতেন, যা একটি রৌপ্য কৌটার মধ্যে রাখা ছিল। এরপর সেই পশম পানিতে ডুবিয়ে রোগীকে সেই পানি পান করানো হতো। বর্ণনাকারী কৌটার মধ্যে লাল বর্ণের কয়েকটি পশম দেখেছেন। এই বর্ণনায় নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর স্মৃতিচিহ্নের বরকত, বদনযর ও অসুখের সময়ে পানির ব্যবহার এসেছে। ব্যাখ্যা এই ঘটনার মধ্যেই সীমিত রাখা উচিত।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সাহাবীদের কাছে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর স্মৃতিচিহ্ন সম্মানের বিষয় ছিল।
  • বদনযর ও অসুখের সময় তারা উম্মু সালামা (রাঃ)-এর কাছে যেতেন।
  • হাদিসে পশম মুবারক পানিতে ডুবিয়ে রোগীকে পান করানোর ঘটনা এসেছে।
  • এ ধরনের বর্ণনা বুঝতে সতর্কতা ও মূল পাঠের সীমা রক্ষা করা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন