২৩/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৬২-[৪৯] - বদনযর সত্য ও তার করণীয়
চিকিৎসা ও মন্ত্র - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
বদনযর সত্য: ভাইয়ের জন্য বরকতের দোয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৫৬২-[৪৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫৬২-[৪৯]
وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ قَالَ: رَأَى عَامِرُ بْنُ رَبِيعَةَ سَهْلَ بْنَ حُنَيْفٍ يَغْتَسِلُ فَقَالَ: وَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ كَالْيَوْمِ وَلَا جِلْدَ مُخَبَّأَةٍ قَالَ: فَلُبِطَ سَهْلٌ فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقِيلَ لَهُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ لَكَ فِي سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ؟ وَاللَّهِ مَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ فَقَالَ: «هَلْ تَتَّهِمُونَ لَهُ أَحَدًا؟» فَقَالُوا: نَتَّهِمُ عَامِرَ بْنَ رَبِيعَةَ قَالَ: فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامِرًا فَتُغُلِّظَ عَلَيْهِ وَقَالَ: «عَلَامَ يَقْتُلُ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ؟ أَلَا بَرَّكْتَ؟ اغْتَسِلْ لَهُ».فَغَسَلَ لَهُ عَامِرٌ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ وَمِرْفَقَيْهِ وَرُكْبَتَيْهِ وَأَطْرَافَ رِجْلَيْهِ وَدَاخِلَةَ إِزَارِهِ فِي قَدَحٍ ثُمَّ صُبَّ عَلَيْهِ فَرَاحَ مَعَ النَّاسِ لَيْسَ لَهُ بَأْس. رَوَاهُ فِي شَرْحِ السُّنَّةِ وَرَوَاهُ مَالِكٌ وَفِي رِوَايَتِهِ: قَالَ: «إِن الْعين حق تَوَضَّأ لَهُ»
সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ)-এর পুত্র আবূ উমামাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন ‘আমির ইবনু রবী'আহ্ (রাঃ) সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ)-কে গোসল করতে দেখলেন এবং (তাঁর মসৃণ দেহ দেখে) বলে উঠলেন : আল্লাহর কসম! আজকের মতো আমি কোনদিন দেখিনি এবং পর্দার আড়ালে রক্ষিত (কুমারী মেয়ের) কোন চামড়াও (সাহল-এর চামড়ার মতো) এরূপ দেখিনি।বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর (তাঁর মুখ হতে এ শব্দগুলো বের হওয়ায়) সাহল সংজ্ঞাহীন অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন এবং (এ অবস্থায়) তাঁকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আনা হলো। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ)-এর জন্য কোন ব্যবস্থা করতে পারেন? আল্লাহর কসম! সে তো তাঁর মাথা উঠাতে পারছে না। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমরা কি কাউকেও তাঁর সম্পর্কে অভিযুক্ত করো? লোকেরা বলল : আমরা ‘আমির ইবনু রবী‘আহ্ (রাঃ)-এর ওপর সন্দেহ করি। বর্ণনাকারী বলেন : অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘আমিরকে ডেকে পাঠালেন এবং কঠোর ভাষায় তাঁর নিন্দা করে বললেন : তোমাদের কেউ তাঁর আরেক ভাইকে কেন হত্যা করে? তুমি তাঁর জন্য কল্যাণের দোয়া করলে না কেন? তুমি (তোমার শরীরের কিছু অঙ্গ) সাহল-এর জন্য ধুয়ে দাও।তখন ‘আমির নিজের মুখমণ্ডল, উভয় হাত কনুই পর্যন্ত, উভয় পা হাঁটু হতে অঙ্গুলির পার্শ্ব এবং ইযারের ভিতরের অঙ্গ ধুয়ে পানিগুলো একটি পাত্রে নিলেন, অতঃপর সে পানি সাহল-এর উপর ঢেলে দেয়া হলো। তাতে সাহল সুস্থ হয়ে লোকজনের সাথে হেঁটে আসলেন, যেন তাঁর শরীরে কোন কষ্ট ছিল না। আর ইমাম মালিক (রহঃ)-এর এক রিওয়ায়াত আছে, নবী (ﷺ) ‘আমিরকে বললেন : বদনজর একটি সত্য ব্যাপার। সুতরাং তুমি সাহল-এর জন্য উযূ করো। ‘আমির তাঁর জন্য উযূ করলেন।
[১] সহীহ : শারহুস্ সুন্নাহ্ ৩২৪৫, মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৭৪৭, নাসায়ী’র কুবরা ৭৬১৯, ত্ববারানী ৫৪৪১, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬১০৫, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ২৫৭২।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৬২-[৪৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ)-এর ঘটনা বদনযর বিষয়ে স্পষ্ট শিক্ষা দেয়। ‘আমির ইবনু রবী‘আহ (রাঃ) সাহল (রাঃ)-কে গোসল করতে দেখে তার শরীরের সৌন্দর্য নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। এরপর সাহল (রাঃ) অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বিষয়টি জানতে চাইলে লোকেরা ‘আমির (রাঃ)-এর কথা বলেন। তখন নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন এবং বলেন, কেন তোমাদের কেউ তার ভাইকে হত্যা করে? তুমি তার জন্য বরকতের দোয়া করলে না কেন? এরপর ‘আমির (রাঃ)-কে সাহলের জন্য ধোয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই পানি সাহলের ওপর ঢালার পর তিনি সুস্থ হন। এই বর্ণনায় বদনযর সত্য, বরকতের দোয়া এবং ক্ষতির পর করণীয়—এই তিনটি বিষয় পরিষ্কারভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারো ভালো কিছু দেখলে বরকতের দোয়া করা উচিত।
- বদনযরকে হালকা করে দেখা ঠিক নয়; হাদিসে একে সত্য বলা হয়েছে।
- কারো ক্ষতি হলে সন্দেহ ও চিকিৎসার বিষয় নবীজি (صلى الله عليه وسلم) গুরুত্বসহ দেখেছেন।
- মুসলিম ভাইয়ের ভালো দেখে এমন কথা বলা উচিত, যাতে ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে।
