২৩/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৫৯-[৪৬] - বদনজর, দংশন ও রক্তে রুকইয়া
চিকিৎসা ও মন্ত্র - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
কোন ক্ষেত্রে রুকইয়া আছে: বদনজর, দংশন ও রক্ত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৫৫৯-[৪৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫৫৯-[৪৬]
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا رُقْيَةَ إِلَّا مِنْ عَيْنٍ أَوْ حُمَةٍ أَوْ دَمٍ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : কেবল বদনজর লাগা, বিষাক্ত প্রাণী দংশন করা এবং রক্ত ঝরার জন্যই রয়েছে ঝাড়ফুঁক।
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৩৮৮৯, আল জামি‘উস্ সগীর ১৪৪৩৮, য‘ঈফুল জামি‘ ৬২৯১, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ৭৩২। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ, এর সনদে আছে ‘‘শরীক’’ নামের এক বর্ণনাকারী, ইনি ‘আবদুল্লাহ আল কাযী-এর ছেলে। ইনি একজন য‘ঈফ রাবী। দেখুন- হিদায়াতুর্ রুওয়াত ৪/২৮০, হাঃ ৪৪৮৫।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৫৯-[৪৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন—কেবল বদনজর লাগা, বিষাক্ত প্রাণীর দংশন করা এবং রক্ত ঝরার জন্যই রুকইয়া রয়েছে। এখানে রুকইয়ার ক্ষেত্র তিনটি হিসেবে এসেছে। আগের বর্ণনায় বদনজর ও বিষাক্ত দংশনের কথা ছিল; এই বর্ণনায় রক্ত ঝরার কথাও যুক্ত হয়েছে। তাই রুকইয়ার বিষয়ে এই হাদিস একটি সীমা দেখায়। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, শির্কী মন্ত্র, তাবীয বা জাদুটোনার পথ নয়; বরং নির্দিষ্ট কষ্টে বৈধ রুকইয়ার কথা এসেছে। হাদিসের ভাষা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত, রোগের সময় মানুষ যেন আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে এবং শরিয়তসম্মত দোয়া ও চিকিৎসার পথ নেয়। সব ধরনের ঝাড়ফুঁককে একসাথে ভালো বা খারাপ বলা এই বর্ণনার সরাসরি শিক্ষা নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- এই হাদিসে রুকইয়ার তিনটি ক্ষেত্র উল্লেখ হয়েছে।
- বদনজর, বিষাক্ত দংশন ও রক্ত ঝরার ক্ষেত্রে রুকইয়ার কথা এসেছে।
- শির্কী পদ্ধতি থেকে দূরে থেকে বৈধ দোয়ার পথে থাকা দরকার।
- রুকইয়ার আলোচনায় হাদিসগুলোর ভাষা একসাথে বুঝতে হয়।
