২৩/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৭৯-[৪] - তারকা, প্যাঁচা ও সফর মাসের ভুল ধারণা
শুভ ও অশুভ লক্ষণ - প্রথম অনুচ্ছেদ
"بَاب الفأل والطيرة"’‘শুভ ও অশুভ লক্ষণ’’الفأل‘হামযা‘র সাথে ব্যবহৃত হয়েছে। শব্দটি অধিকাংশ সময় ‘হামযা’ ব্যতীত ব্যবহৃত হয়। নিহায়াহ্ গ্রন্থে এসেছে যে,الفألশব্দটি মাহমূয তথা মাঝে ‘হামযা’ দিয়ে ব্যবহৃত হয়েছে। যা ভালো ও মন্দ উভয় প্রকার অর্থ বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। আরالطيرةশব্দটির ‘ত্বোয়া’ বর্ণে যের আর ‘ইয়া’ বর্ণে যবর আবার কখনও ‘ইয়া’ বর্ণে সাকিন যোগেও আসে। এ শব্দটি শুধু মন্দের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।আবার কদাচিৎ আনন্দের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়। কমূস প্রণেতা বলেনঃالفألহলোالطيرة-এর বিপরীত। অসুস্থ ব্যক্তি শুনে হে সালিম, হে ত্বালিব, হে ওয়াজিদ! সে এ ডাক শুনে এটাকে ভালো ও মন্দ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃর করতে পারে। আরالطيرة-এর সময় মন্দের ক্ষেত্রে। আমি বলি, ‘কমূস’ থেকে যে বিষয়টি শিক্ষণীয় তা হলো,الفألভালোর সাথে খাস বা নির্দিষ্ট। আবার কখনও তা মন্দের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। আরالطيرةশব্দটি কেবলমাত্র মন্দের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। অতএব নির্গত হওয়ার মূলেই শব্দ দু’টি ভিন্নার্থে ব্যবহৃত হয়।নিহায়াহ্ গ্রন্থ থেকে আরো বুঝা যায় যে, নির্গত হওয়ার মূলেইالفألশব্দটি ‘আম আরالطيرةশব্দটি খাস। কতক ব্যবহারের একটি অপরটির সমার্থবোধক। হাদীসসমূহ থেকে বুঝা যায় যে,الفألথেকেالطيرةশব্দটি ‘আম। যেমন নবী (ﷺ)-এর কথায় বাহ্যিকভাবে বুঝা যায় যে,لَا طِيَرَةَ وَخَيْرُهَا الْفَأْلُকোন কুলক্ষণ বা অশুভ লক্ষণ নেই আর তার উত্তম হলোالفألবা শুভ লক্ষণ।‘আরবের অধিবাসীদের এ অভ্যাস ছিল যে, তারা যখন কোন কাজের জন্য ভ্রমণের ইচ্ছা করত তখন গাছের উপর থেকে কোন পাখিকে উড়াত, যদি পাখিটি ডানদিকে যেত তখন যাত্রা শুভ বলে মনে করত এবং ভ্রমণের জন্য বের হয়ে যেত। আর যদি পাখিটি বাম দিকে উড়ে যেত তাহলে এ ভ্রমণ বা যাত্রাকে অকল্যাণ বা অশুভ বলে মনে করত এবং যাত্রা থেকে বিরত থাকত।‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃالفألএবংالطيرة-এর মাঝে পার্থক্য বুঝা যায়, আনাস থেকে বর্ণিত একটি মারফূ‘ হাদীসেلَا عَدْوَى وَلَا طِيَرَةَ وَيُعْجِبُنِي الْفَأْلُ "قَالُوا: وَمَا الْفَأْلُ؟ قَالَ:" كَلِمَةٌ طَيِّبَةٌরোগে সংক্রামিত হওয়া বলতে কিছুই নেই, কোন কিছুতে অশুভ নেই। তবেالْفَأْلُআমার ভালো লাগে। সাহাবীগণ বললেন,الفألকি জিনিস? তিনি (ﷺ) বললেন, ’‘ভালো কথা’’। আমি বলি, এটি কতই না চমৎকার কথা যে, ‘আমভাবেالطيرة-কে নিষেধ করা হয় তবে তার দুই প্রকারের এক প্রকারকে নির্দিষ্ট করে দেয়া হল। (আর এক প্রকার বৈধ) তা হল- ভালো কথা বলা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
তারকা ও সফর মাস নিয়ে কুসংস্কার নয়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৫৭৯-[৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৫৭৯-[৪]
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا عَدْوَى وَلَا هَامَةَ وَلَا نَوْءَ وَلَا صفر». رَوَاهُ مُسلم
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উক্ত রাবী (হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে) বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : রোগের সংক্রামক বলতে কিছুই নেই। প্যাঁচার মধ্যে কুলক্ষণের কিছুই নেই। তারকার (উদয় বা অস্ত যাওয়ার) দরুন বৃষ্টি হওয়া ভিত্তিহীন এবং সফর মাসে অশুভ নেই।
[১] সহীহ : মুসলিম (২২২০)-১০৬, আবূ ইয়া‘লা ৬৫০৮, আবূ দাঊদ ৩৯১২, তাখরীজুস্ সুন্নাহ্ ২৭৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬১৩৩, আহমাদ ৯১৬৫।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৫৭৯-[৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, রোগের সংক্রামক বলতে কিছু নেই, প্যাঁচার মধ্যে কুলক্ষণ নেই, তারকার উদয় বা অস্ত যাওয়ার কারণে বৃষ্টি হওয়া ভিত্তিহীন এবং সফর মাসে অশুভ নেই। এখানে একসাথে কয়েকটি প্রচলিত ভুল ধারণা ভাঙা হয়েছে। মানুষ অনেক সময় প্যাঁচা, মাস, তারকা বা অদৃশ্য কু-লক্ষণকে ভয় করে। হাদিসটি এসব বিশ্বাস থেকে মানুষকে সরিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসার দিকে নিয়ে যায়। ‘তারকার দরুন বৃষ্টি’ কথাটি বৃষ্টির আসল নিয়ন্ত্রণকে ভুলভাবে তারকার সঙ্গে যুক্ত করার ধারণাকে অস্বীকার করে। তাই এই হাদিসের শিক্ষা হলো—প্রকৃতি, সময় বা প্রাণীকে স্বাধীনভাবে ক্ষতি-লাভের উৎস মনে করা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফর মাসকে অশুভ মনে করা ভুল ধারণা।
- প্যাঁচাকে কু-লক্ষণ ভাবা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
- বৃষ্টিকে তারকার স্বাধীন প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করা ভিত্তিহীন বলা হয়েছে।
- মুসলিমের বিশ্বাস আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত।
