২৩/১. অধ্যায়ঃ
শুভ ও অশুভ লক্ষণ - প্রথম অনুচ্ছেদ
"بَاب الفأل والطيرة"’’শুভ ও অশুভ লক্ষণ’’الفأل’হামযা’র সাথে ব্যবহৃত হয়েছে। শব্দটি অধিকাংশ সময় ’হামযা’ ব্যতীত ব্যবহৃত হয়। নিহায়াহ্ গ্রন্থে এসেছে যে,الفألশব্দটি মাহমূয তথা মাঝে ’হামযা’ দিয়ে ব্যবহৃত হয়েছে। যা ভালো ও মন্দ উভয় প্রকার অর্থ বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। আরالطيرةশব্দটির ’ত্বোয়া’ বর্ণে যের আর ’ইয়া’ বর্ণে যবর আবার কখনও ’ইয়া’ বর্ণে সাকিন যোগেও আসে। এ শব্দটি শুধু মন্দের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আবার কদাচিৎ আনন্দের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়। কমূস প্রণেতা বলেনঃالفألহলোالطيرة-এর বিপরীত। অসুস্থ ব্যক্তি শুনে হে সালিম, হে ত্বালিব, হে ওয়াজিদ! সে এ ডাক শুনে এটাকে ভালো ও মন্দ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃর করতে পারে। আরالطيرة-এর সময় মন্দের ক্ষেত্রে। আমি বলি, ’কমূস’ থেকে যে বিষয়টি শিক্ষণীয় তা হলো,الفألভালোর সাথে খাস বা নির্দিষ্ট। আবার কখনও তা মন্দের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। আরالطيرةশব্দটি কেবলমাত্র মন্দের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। অতএব নির্গত হওয়ার মূলেই শব্দ দু’টি ভিন্নার্থে ব্যবহৃত হয়।নিহায়াহ্ গ্রন্থ থেকে আরো বুঝা যায় যে, নির্গত হওয়ার মূলেইالفألশব্দটি ’আম আরالطيرةশব্দটি খাস। কতক ব্যবহারের একটি অপরটির সমার্থবোধক। হাদীসসমূহ থেকে বুঝা যায় যে,الفألথেকেالطيرةশব্দটি ’আম। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথায় বাহ্যিকভাবে বুঝা যায় যে,لَا طِيَرَةَ وَخَيْرُهَا الْفَأْلُকোন কুলক্ষণ বা অশুভ লক্ষণ নেই আর তার উত্তম হলোالفألবা শুভ লক্ষণ।’আরবের অধিবাসীদের এ অভ্যাস ছিল যে, তারা যখন কোন কাজের জন্য ভ্রমণের ইচ্ছা করত তখন গাছের উপর থেকে কোন পাখিকে উড়াত, যদি পাখিটি ডানদিকে যেত তখন যাত্রা শুভ বলে মনে করত এবং ভ্রমণের জন্য বের হয়ে যেত। আর যদি পাখিটি বাম দিকে উড়ে যেত তাহলে এ ভ্রমণ বা যাত্রাকে অকল্যাণ বা অশুভ বলে মনে করত এবং যাত্রা থেকে বিরত থাকত।’আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃالفألএবংالطيرة-এর মাঝে পার্থক্য বুঝা যায়, আনাস থেকে বর্ণিত একটি মারফূ’ হাদীসেلَا عَدْوَى وَلَا طِيَرَةَ وَيُعْجِبُنِي الْفَأْلُ "قَالُوا: وَمَا الْفَأْلُ؟ قَالَ:" كَلِمَةٌ طَيِّبَةٌরোগে সংক্রামিত হওয়া বলতে কিছুই নেই, কোন কিছুতে অশুভ নেই। তবেالْفَأْلُআমার ভালো লাগে। সাহাবীগণ বললেন,الفألকি জিনিস? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ’’ভালো কথা’’। আমি বলি, এটি কতই না চমৎকার কথা যে, ’আমভাবেالطيرة-কে নিষেধ করা হয় তবে তার দুই প্রকারের এক প্রকারকে নির্দিষ্ট করে দেয়া হল। (আর এক প্রকার বৈধ) তা হল- ভালো কথা বলা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৪৫৭৮-[৩]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৪৫৭৮-[৩]
وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا عَدْوَى وَلَا هَامَةَ وَلَا صفر» . فَقَالَ أَعْرَابِي: يَا رَسُول فَمَا بَالُ الْإِبِلِ تَكُونُ فِي الرَّمْلِ لَكَأَنَّهَا الظباء فيخالها الْبَعِير الأجرب فيجر بِهَا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَمن أعدى الأول» . رَوَاهُ البُخَارِيّ
উক্ত রাবী (আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : রোগে সংক্রামিত কিছু নেই। প্যাঁচার মধ্যে কুলক্ষণের কিছু নেই এবং সফর মাসেও অশুভ নেই। তখন এক বেদুঈন বলে উঠল : হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে উটের এ দশা কেন হয় যে উটের পাল ময়দানের হরিণের মতো বিচরণ করে, এমতাবস্থায় তাদের সাথে চর্ম রোগাক্রান্ত একটি উট এসে মিশে তাদেরকেও চর্মরোগী বানিয়ে দিলো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : আচ্ছা, তাহলে প্রথম উটটির চর্মরোগ কোথা হতে এসেছিল?
[১] সহীহ : বুখারী ৫৭৭০, মুসলিম (২২২০)-১০১, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬১১৬, ‘নাসায়ী’র কুবরা ৭৫৯১, মুসান্নাফ ‘আবদুর রায্যাক ১৯৫০৭, আহমাদ ৭৬২০, ‘বায়হাক্বী’র কুবরা ১৪৬২২, আবূ দাঊদ ৩৯১১, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৭৮২, ৯৭১, আল জামি‘উস্ সগীর ৭৬৭৯, সহীহুল জামি‘ ৪২৬০, হিলইয়াতুল আওলিয়া ১/২৫০, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৪৬১৪, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১১৫৯৯।
